কুবি ভিসির বক্তব্যের ব্যাখ্যা প্রচারে আড়াই লাখ টাকা খরচ

গণমাধ্যমে সরকারি অর্থব্যয়ে ব্যক্তিগত মন্তব্যের ব্যাখ্যা প্রচারের অভিযোগ উঠেছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এফ এম আব্দুল মঈনের বিরুদ্ধে। তিনি তার করা বেফাঁস মন্তব্যের বিষয়ে তিনটি জাতীয় দৈনিকে বিজ্ঞাপন আকারে ব্যাখ্যা প্রচারের ব্যয় করেছেন প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা (ভ্যাট ট্যাক্সসহ)।

জানা যায়, ২০২৩ সালের ১৩ আগস্ট দেশের একটি জাতীয় এবং কুমিল্লার একটি আঞ্চলিক দৈনিকের পাশাপাশি ১৪ আগস্ট আরও একটি জাতীয় দৈনিকে ব্যাখ্যা প্রচার করা হয়। এ-সংক্রান্ত একটি নথি প্রতিবেদকের হাতে এসেছে।

২০২৩ সালের ৩১ জুলাই একটি সংবাদপত্রের অনলাইন পোর্টালে ‘দুর্নীতি হচ্ছে তাই বাংলাদেশে উন্নয়ন হচ্ছে : কুবি উপাচার্য’ শিরোনামে সংবাদ প্রচারিত হয়। সেদিন দুপুর আড়াইটায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের কনফারেন্স রুমে মার্কেটিং বিভাগের একটি ব্যাচের নবীনবরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির দেওয়া বক্তব্যের ব্যাখ্যা পরবর্তী সময়ে গণমাধ্যমে বিজ্ঞাপন আকারে প্রচারে এই ব্যয় নির্বাহ করা হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞাপন প্রচারের সুনির্দিষ্ট নীতিমালা কিংবা বিধিমালা অনুসরণ করা হয়েছে কি না জানতে চাইলে ভারপ্রাপ্ত জনসংযোগ কর্মকর্তা মোহাম্মদ এমদাদুল হক জানান, সুনির্দিষ্ট কোনো বিধিমালা নেই। কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী তিনি কাজ করেন।

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের সদস্য প্রফেসর ড. মো. আবু তাহের জানান, ‘সরকারি অর্থ খরচ করে ব্যক্তিগত বক্তব্যের ব্যাখ্যা প্রচারের কোনো সুযোগ নেই। এমনকি ব্যক্তিগত বিষয়ে প্রচারের ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোগ্রাম ব্যবহারেরও সুযোগ নেই। উপাচার্য কোন পদ্ধতি অনুসরণ করেছেন সেটি তিনি সঠিক বলতে পারবেন।’

এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সাবেক দুবারের সাধারণ সম্পাদক ও মার্কেটিং বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মেহেদী হাসান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের যত বিধিমালা আছে, কোনোটিই তিনি মানেন না। আবার যখন দুর্নীতির পক্ষে সাফাই গেয়ে দেওয়া বক্তব্য গণমাধ্যমে প্রকাশ হয়, তখন ব্যাখ্যা প্রচার করে ব্যক্তিগত দুর্নাম গোছানোর জন্য রাষ্ট্রীয় কোষাগারের অর্থ খরচ করেন।’

বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ সৈয়দুর রহমান বলেন, ‘কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনে ৩৯-এর উপধারা ১(গ) অনুসারে “আর্থিক নীতিমালা ও হিসাব ম্যানুয়াল কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়” প্রণীত প্রবিধানে উল্লিখিত ৫.৪(২) অনুচ্ছেদে ব্যয় নিয়ন্ত্রণ বিষয়ে যথার্থতা এবং জবাবদিহির কথা বলা হয়েছে। কিন্তু ইকবাল মানোয়ারের বিষয় নিয়ে উপাচার্যের বক্তব্য প্রচারের জন্য যে অর্থ খরচ করা হয়েছে, তার যথার্থতা নিয়ে তো প্রশ্ন করাই যায় বরং এর জন্য জবাবদিহি থাকা উচিত বলে আমি মনে করি।’

এদিকে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘বক্তব্য প্রচারের জন্য তিনি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিতে পারতেন। এ ধরনের ব্যক্তিগত অভিমত প্রচারের জন্য রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের অর্থব্যয়ের কোনো সুযোগ নেই, যদিও তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ব্যক্তি। এটি ক্ষমতার অপব্যবহার এবং তিনি নিয়মের ব্যত্যয় ঘটিয়েছেন। তাকে যে ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে কোনোভাবেই সেটির অপব্যবহার করতে পারেন না। কাজেই এখানে দুর্নীতি হয়েছে। একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কাছ থেকে এমন আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।’

তবে এসব বিষয়ে মন্তব্য জানতে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এফ এম আব্দুল মঈনের দপ্তরে পরপর দুদিন গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। মোবাইল ফোনে ব্যাখ্যা প্রচারের টাকা কোথা থেকে আসছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘টাকা তুমি দিয়ে দাও। তুমি কে এসব জিজ্ঞেস করার? এসব কথাবার্তা আমার সঙ্গে বলতে আইসো না। তুমি কথা বলতে হলে অফিসে এসে কথা বলো।’