নীলফামারী সদরে নিজ বাড়ি থেকে দুই শিশুকন্যাসহ মায়ের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তাদের হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ ছাড়া ওই শিশুদের মুমূর্ষু বাবাকেও গলাকাটা অবস্থায় বাড়িটির বাইরে পাওয়া যায়। গতকাল শুক্রবার সকালে চড়াইখোলা ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের দারোয়ানি বন্দর বাজার গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও গ্রামবাসী জানায়, সকাল ৯টার দিকে গলাকাটা অবস্থায় বাড়ির বাইরে এসে ঢলে পড়েন নিহত শিশুদের বাবা আশিকুল হক মোল্লা বাবু (৪৫)। পরে প্রতিবেশীরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়। এরপর লোকজন বাড়ির ভেতরে ঢুকে শয়নকক্ষে খাটের ওপর আশিকুল হক মোল্লার স্ত্রী তহুরা বেগম (৩৫) এবং মেয়ে আয়শা আক্তার (৮) ও জারিনের (৫) লাশ পাশাপাশি পড়ে থাকতে দেখে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়।
মুমূর্ষু আশিকুরকে উদ্ধার করে প্রথমে নীলফামারী জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে সেখান থেকে তাকে পাঠানো হয় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।
আশিকুরের স্ত্রী ও দুই কন্যা হত্যার কারণ সম্পর্কে পুলিশ তাৎক্ষণিক কিছু জানাতে পারেনি। রংপুর থেকে আসা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ক্রাইম সিন ইউনিটের সদস্যরা বেলা ৩টার দিকে তিনজনের মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির কাজ শেষ করে। এরপর মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়।
আশিকুল হক মোল্লা চড়াইখোলা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান প্রয়াত রউফ মোল্লার ছেলে। এলাকাবাসীর ধারণা, মানসিক অসুস্থতার কারণে আশিকুল তার স্ত্রী-কন্যাদের হত্যা করেছেন।
চাচাতো ভাই জাকির হোসেন মোল্লা বলেন, ‘তিনি (আশিকুল) ব্যবসায় আর্থিকভাবে ক্ষতির শিকার হয়ে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। হয়তো তিনি নিজেই এমন ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারেন।’
মেয়ে ও নাতিদের হত্যার খবর পেয়ে ছুটে আসেন আশিকুলের শ্বশুর আবদুল আলিম ও শাশুড়ি রাবেয়া খাতুন। জেলার সৈয়দপুর উপজেলার কামার পুকুর ইউনিয়নের চিকলি আলাউদ্দিনপাড়া গ্রামে তাদের বাড়ি। তারা জানান, ১৩ বছর আগে তহুরার সঙ্গে আশিকুরের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে কোনোদিন তাদের মধ্যে ঝগড়াবিবাদ হয়নি। শ্বশুর-শাশুড়ির ধারণা, আশিকুল নয়, দুষ্কৃতকারীরা এ ঘটনা ঘটিয়েছে।
নীলফামারী সদর থানার ওসি তানভীরুল ইসলাম বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে তিনজনকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। ওই বাড়িসহ আশপাশের বাড়ির সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করা হচ্ছে।’