গাজায় যুদ্ধবিরতির দাবিতে যুক্তরাজ্যে ব্যাপক বিক্ষোভ

ইসরায়েল গাজা অভিযানের কেন্দ্র এখন উপত্যকার দক্ষিণে মিসর-সংলগ্ন রাফাহ শহরে স্থানান্তর করেছে। গতকাল শনিবার রাফাহ ও দেইর আল-বালাহয় ইসরায়েলি হামলায় নিহত হয় মোট ২৪ জন। গাজায় রাফাহ শহরকেন্দ্রিক ইসরায়েলি বর্বরতা তীব্রতর হওয়ার খবর দিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম আরও জানিয়েছে, গতকাল যুক্তরাজ্যের লন্ডনে গাজায় যুদ্ধবিরতির দাবিতে তিন লক্ষাধিক মানুষের বিক্ষোভ আয়োজনের কর্মসূচি শুরু হয়। বিক্ষোভ হয়েছে স্কটল্যান্ডেও।

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকার নিয়ন্ত্রক সংগঠন হামাস জানিয়েছে, ইসরায়েল রাফাহতে ব্যাপক বিমান হামলা শুরু করেছে। কিছুদিন আগে খান ইউনিসের ইসরায়েলি বাহিনী ব্যাপক  হামলা শুরু করলে ফিলিস্তিনিরা রাফাহতে এসে আশ্রয়ের জন্য জড়ো হয়। এবার তারা সেখানেও আগ্রাসনের চূড়ান্ত শিকার হওয়ার দিন গুনছে।

হামাস আরও জানায়, দেইর আল-বালাহ গাজার বাস্তুচ্যুত মানুষের দ্বিতীয় বৃহত্তম আশ্রয়ের শহর। সেখানে একটি বাড়িতে হামলা চালিয়ে হত্যা করা হয়েছে চার বেসামরিককে।

গত ৭ অক্টোবরের পর থেকে ইসরায়েল গাজায় মোট ২৭ হাজার ২৩৮ জন ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে। ইসরায়েলি হামলায় আহত হয়েছেন ৬৬ হাজার ৪৫২ জন।

এদিকে গাজার যুদ্ধবিরতির দাবিতে যুক্তরাজ্যের লন্ডন এবং স্কটল্যান্ডের গ্লাসগো শহরে বিক্ষোভ হয়েছে। ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতি জানিয়ে ডাকা এই বিক্ষোভের প্রথম দিকে লক্ষাধিক মানুষ জমায়েত হয়। আয়োজকরা বলছেন, বিক্ষোভের শেষ পর্যন্ত তিন লক্ষাধিক মানুষ জমায়েত হওয়ার কথা। লন্ডনে এ নিয়ে অষ্টমবারের মতো বিক্ষোভ হলো। 

বিক্ষোভে ‘গাজা যুদ্ধ বন্ধ করো’, ‘অবরোধ তুলে নাও’ এবং ‘গণহত্যা বন্ধ করো’ প্রভৃতি লেখা সংবলিত প্ল্যাকার্ড দেখা যায়। মেট্রোপলিটন পুলিশ হুঁশিয়ারি দিয়েছে, বিক্ষোভে ইহুদিবিরোধী এবং হামাসপন্থি স্লোগান দিলে গ্রেপ্তার করা হবে। 

বিক্ষোভ হয়েছে স্কটল্যান্ডের প্রধান শহর গ্লাসগোতেও। বিক্ষোভকারীরা যুক্তরাজ্য কর্তৃক ইসরায়েলকে দেওয়া সহায়তার নিন্দা জানান। বিক্ষোভ থেকে গাজার হাসপাতাল ও চিকিৎসাকর্মীদের নিরাপত্তার আহ্বান জানানো হয়। এ ছাড়া জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি সহায়তা সংস্থায় যুক্তরাজ্যের সহায়তা বন্ধের ঘোষণা প্রত্যাহারের দাবি তোলা হয়।

অন্যদিকে গণমাধ্যমের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় ইতিমধ্যে উপত্যকাটিতে প্রায় ১৭ হাজার শিশু তাদের পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে বা একা হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ। গত শুক্রবার ইউনিসেফ এই তথ্য প্রকাশ করে। অনবরত যুদ্ধের কারণে চরম মানসিক অসুস্থতার মধ্যে রয়েছে গাজার প্রায় সব শিশু।

 জেরুজালেম থেকে এক ভিডিও বার্তায় ফিলিস্তিনে ইউনিসেফের প্রধান জোনাথন ক্রিকক্স বলেন, ‘গাজার প্রত্যেকটি শিশুর দুঃখ এবং শোকের হৃদয় বিদারক কাহিনি রয়েছে।’