২০৫০ সালে ক্যানসার আক্রান্ত বাড়বে ৭৭%

২০৫০ সাল নাগাদ গোটা বিশ্বে ক্যানসার আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়বে ৭৭ শতাংশ। নতুন গবেষণার ভিত্তিতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) এমন ইঙ্গিত দিয়েছে। গবেষকরা বলছেন, বিশ্ব জুড়ে মানুষের স্থূলতা বৃদ্ধি, তামাক পণ্যের ব্যবহার আর অ্যালকোহলের প্রতি আসক্তি ক্যানসার আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা বাড়াতে ভূমিকা রাখবে। এ ছাড়া বায়ুদূষণের মতো কারণও এ ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখবে। 

গবেষকরা আরও জানান, ২০২২ সালে বিশ্বব্যাপী ফুসফুস ক্যানসার ছিল সবচেয়ে বেশি। ওই বছর ২৫ লাখ ফুসফুসের ক্যানসারের রোগী পাওয়া যায়, যা মোট শনাক্ত হওয়া রোগীর ১২ দশমিক ৪ শতাংশ। এর পরের তালিকায় রয়েছে নারীদের স্তন ক্যানসার, কোলোরেক্টাল, প্রোস্টেট ও পাকস্থলীর ক্যানসার। ফুসফুস ক্যানসারে আক্রান্ত রোগীদের মৃত্যুর হার সবচেয়ে বেশি। ২০২২ সালে আক্রান্তদের ১ দশমিক ৮ শতাংশের মৃত্যু হয় এতে। মৃত্যুর হিসাবে এই পরিমাণ ক্যানসারে মোট মৃত্যুর প্রায় ১৯ শতাংশ।

বিশ্বের ১৮৫টি দেশে ছড়িয়ে থাকা ৩৬ রকমের রোগ বিশ্লেষণ করে ডব্লিউএইচওর অঙ্গ সংস্থা ‘ইন্টারন্যাশনাল এজেন্সি ফর রিসার্চ অন ক্যানসার’ এই সতর্কবার্তা দিয়েছে। এ সংক্রান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০৫০ সালের মধ্যে বিশ্বব্যাপী ক্যানসার আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা ৩ কোটি ৫০ লাখে পৌঁছাতে পারে। ২০২২ সালে বিশে^র দুই কোটি মানুষ ক্যানসারে আক্রান্ত ছিল এবং ২০৫০ সালে পরিমাণটি ৭৭ শতাংশ বাড়বে।

ডব্লিউএইচওর ক্যানসার গবেষণা সংস্থা বলছে, ক্যানসারে উন্নত দেশগুলোতে আক্রান্ত সংখ্যা বেশি। মানব উন্নয়ন সূচকে (এইচডিআই) এগিয়ে থাকা দেশগুলোতে স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও জীবনযাত্রার মান উন্নত। কিন্তু আগামী দিনগুলোতে ১২ নারীর মধ্যে ক্যানসার শনাক্ত হবে একজনের। তাদের ৭১ জনের একজন মৃত্যুমুখে পতিত হবে। আর এইচডিআই সূচকে পেছনে থাকা দেশগুলোতে ২৭ জনে একজন নারীর স্তন ক্যানসার ধরা পড়বে। আর মৃত্যু হবে ৪৮ জনে একজনের।

গবেষকরা বলছেন, দেরিতে রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসার সুযোগের অভাবে অনুন্নত দেশে শনাক্তের হার কম।