এসএসসি পরীক্ষার আর মাত্র কয়েকদিন আছে। এই মুহূর্তে পরীক্ষার্থীরা ব্যস্ত শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি নিতে। এ সময় পড়াগুলো আরেকবার রিভিশনের সঙ্গে সঙ্গে উত্তরপত্রে উত্তরগুলো কীভাবে লিখবে, সে বিষয়েও মনোযোগী হতে হবে। সুন্দরভাবে উত্তরপত্রকে উপস্থাপনের কয়েকটি কৌশল জানাচ্ছেন বিপুল জামান
সহজ-সরল বাক্য : উত্তর লেখার সময় বাক্য গঠনে মনোযোগী হতে হবে। সহজ-সরল বাক্য খুব সহজেই মনোযোগ আকর্ষণ করে। উত্তরে কী লেখা হলো তা শিক্ষককে না বোঝাতে পারলে সেই লেখায় ভালো নম্বর পাওয়া যায় না। তাই উত্তরে বোধগম্য পরিচ্ছন্ন বাক্য লেখো। একটি একটি করে বাক্যের মাধ্যমে উত্তরের কাঠামোটি গড়ে ওঠে। তাই বাক্যগুলো পরিচ্ছন্ন হলে সম্পূর্ণ লেখাটিও পরিচ্ছন্ন ও হৃদয়গ্রাহী হবে। তাই গোছানো উত্তর লিখতে প্রথমেই বাক্য গঠনে মনোযোগ দাও।
উত্তর প্রাসঙ্গিক হতে হবে : শিক্ষার্থীদের একটি ভুল ধারণা আছে, বেশি লিখলেই বুঝি বেশি নম্বর পাওয়া যায়। তারা বেশি লিখতে গিয়ে অপ্রাসঙ্গিক বিষয়েও লিখে ফেলে। এতে লাভের চেয়ে ক্ষতি হয় বেশি। অপ্রাসঙ্গিক আলোচনা পড়তে গিয়ে লেখক বিরক্ত হন। এতে পরীক্ষার্থী সম্পর্কে তার নেতিবাচক ধারণার সৃষ্টি হয় এবং পরীক্ষক কম নম্বর দেন। ভালো নম্বর পেতে হলে প্রশ্নে যতটুকু জানতে চাওয়া হয়েছে ততটুকুই গুছিয়ে লিখতে হবে। প্রাসঙ্গিক আলোচনা অল্প হলেও ক্ষতি নেই। তাতেই সর্বোচ্চ নম্বর পাওয়া সম্ভব।
অনুচ্ছেদ ভাগ করে দাও : উত্তর একসঙ্গে না লিখে বিভিন্ন অনুচ্ছেদে ভাগ করে নাও। একই উত্তরে একটি প্রসঙ্গ থেকে আরেকটি প্রসঙ্গে যাওয়ার সময় ভিন্ন অনুচ্ছেদ করো। অনুচ্ছেদ ভাগ করে লেখার ফলে সহজেই পাঠকের দৃষ্টি আকর্ষণ করা সম্ভব হয়, দ্রুত বোঝা যায়। তাই তোমার লেখাকে পরীক্ষকের কাছে আকর্ষণীয় রূপে তুলে ধরতে অনুচ্ছেদ ভাগ করে লেখো।
শিরোনাম : উত্তর লেখার সময় বিভিন্ন অনুচ্ছেদে উপযুক্ত শিরোনাম দিলে খুব সহজেই বোঝা যায়, এই প্যারাতে কোনো বিষয়ে লেখা হয়েছে। অনেক সময় পরীক্ষক সম্পূর্ণ লেখাটি পড়ার আগে লেখা সম্পর্কে সহজে ধারণা পেতে চান। সুন্দর শিরোনামের সাহায্যে সহজেই পরীক্ষকের দৃষ্টি আকর্ষণ করা যায়। শিরোনামে আকৃষ্ট হলে পরীক্ষক সম্পূর্ণ উত্তর পড়তে আগ্রহী হন এবং এর ফলে ভালো নম্বরও পাওয়া সম্ভব হয়।
রূপকের ব্যবহার : প্রয়োজনে উত্তরে রূপকের ব্যবহার করো। রূপকের ব্যবহারের ফলে লেখার গুণগতমান উন্নত হয়। তা ছাড়া রূপক ব্যবহারের ফলে কঠিন বিষয়টিও সহজে বোঝা যায়। তাই রূপকের ব্যবহার তোমার লেখাকে আরও সহজবোধ্য করে তুলবে।
উদাহরণ দাও : সংজ্ঞা দাও, ব্যাখ্যা করো শব্দবন্ধ উল্লেখ আছে এমন প্রশ্নে উত্তরের সঙ্গে উদাহরণ দিতে হবে। উপযুক্ত উদাহরণ দিতে পারলে এটিই প্রমাণিত হয় যে, তুমি বিষয়টি ভালোভাবে বুঝতে পেরেছো। উদাহরণ না চাইলেও কোনো কঠিন বিষয় আলোচনা করার সময় উদাহরণ দিতে পারো। এতে লেখা সহজবোধ্য হয়।
লেখার সময় স্পেস দাও : লেখার সময় শব্দ থেকে শব্দ, লাইন থেকে লাইন ফাঁক রেখে লেখো। হাতের লেখা যেমনই হোক না কেন, ফাঁকা ফাঁকা করে লিখলে দেখতে যেমন ভালো লাগে তেমনি পরীক্ষকের পড়তেও সুবিধা হয়। পরীক্ষকের পড়তে পারা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ তিনি পড়তে না পারলে যথাযথভাবে মূল্যায়নও করতে পারবেন না। তাই তোমার লেখা সহজে পাঠ উপযোগী করে তুলতে একটি শব্দ থেকে অপর শব্দ এবং একটি লাইন থেকে অপর লাইন কিছু ফাঁক রাখো।