গত বছর ৭ অক্টোবর হামাস অতর্কিতভাবে ইসরায়েল আক্রমণের পরিপ্রেক্ষিতে গাজা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর পঞ্চমবারের মতো মধ্যপ্রাচ্য সফর করছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন। গতকাল সোমবার তিনি সৌদি আরবে অবতরণের মধ্য দিয়ে সফরসূচি শুরু করেন। সিরিয়া ও ইরাকে ইরান-সমর্থিত গেরিলা সংগঠনগুলোর স্থাপনায় হামলা নিয়ে আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যে তার এই সফর। ইমেয়েনে হুতি বিদ্রোহীদের অবস্থানে অব্যাহত হামলা এবং গাজায় ইসরায়েলি হামলায় হতাহত হওয়ার ঘটনা চলার মধ্যে তিনি এই সফরে এলেন।
জর্ডানের মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানের মদদপুষ্ট গোষ্ঠীর হামলায় তিনজন নিহত হওয়ার পর মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মধ্যপ্রাচ্য সফর করছেন। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবর, এবার অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেনের সফরের উদ্দেশ্য হলো, গাজার যুদ্ধ-পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করা। এ ছাড়া তিনি সৌদি আরবে গিয়ে রিয়াদের সঙ্গে তেলআবিবের সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণের আলোচনার ওপর জোর দিতে পারেন। সফরে তিনি মিসর, কাতার ও ইসরায়েলে যাবেন। কাতার ও মিসরের মধ্যস্থতায় গাজা যুদ্ধ বন্ধ করতে আলোচনায় তিনি ভূমিকা রাখতে পারেন। গাজায় জরুরি মানবিক ত্রাণ সরবরাহের জন্য জটিল আলোচনা চালাবেন তিনি। তবে তার সফর শুরুর দিন গাজার দেইর আল-বালায় ইসরায়েলি হামলায় ৩০ জন নিহত হয়।
রিয়াদে ব্লিঙ্কেন সৌদি আরবের যুবরাজ ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমান এবং সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদের সঙ্গে দেখা করবেন।
হুতি বিদ্রোহীদের পরিচালিত আল-মাসিরাহ টিভির খবরে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের বিমান পশ্চিম ইয়েমেনে ১৫ দফায় হামলা চালিয়েছে। তবে হুতি বিদ্রোহীরা যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ইসরায়েলের জাহাজগুলোকে লক্ষ্যবস্তু বানানো থামাবে না বলে জানিয়েছে হুতিরা।
হুতিরা আরও হুঁশিয়ারি দিয়েছে, ইতালি যদি যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে ইয়েমেনের বিরুদ্ধে চলমান হামলায় অংশ নেয়, তাহলে হুতি বিদ্রোহীদের আক্রমণের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হবে। হুতিদের শীর্ষ নেতা মোহামেদ আলি আল-হুতি। ইরান সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা ফিলিস্তিনিদের প্রতি সমর্থন জানিয়ে ইসরায়েলি অভিযান বন্ধের দাবি জানিয়েছে। তা না হলে লোহিতসাগরের জাহাজে হামলা অব্যাহত রাখবে বলে জানিয়েছে তারা। সংগঠনটি বলেছে, গাজা যুদ্ধ অবসানের মাধ্যমেই কেবল ওই অঞ্চলে শান্তি পুনঃপ্রতিষ্ঠা হতে পারে।