নতজানু পররাষ্ট্রনীতির কারণে সীমান্ত অরক্ষিত : রিজভী

বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ‘সরকারের নতজানু পররাষ্ট্রনীতির কারণে আজ বাংলাদেশের সীমান্ত অরক্ষিত।’ গতকাল সোমবার নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার সীমান্তে গোলাগুলি প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মার্কিন প্রেসিডেন্টের পাঠানো চিঠির বিষয়ে রিজভী বলেন, ‘আমেরিকাসহ পশ্চিমা বিশ্ব বাংলাদেশের অবৈধ, ডামি নির্বাচন বৈধতা দেয়নি। আমেরিকার স্টেট ডিপার্টমেন্ট কয়েক দিন আগেও ৭ জানুয়ারির নির্বাচনে যে জালিয়াতি হয়েছে সেটা স্পষ্টভাবে বলেছে। গণতন্ত্রের প্রশ্নে তারা কোনো ছাড় দিয়েছে বলে আমার জানা নেই।’

তিনি বলেন, ‘বহু কর্তৃত্ববাদী দেশের সঙ্গে পশ্চিমা বিশ্বের সম্পর্ক রয়েছে। একটি রাষ্ট্রের সঙ্গে আরেকটি রাষ্ট্রের সম্পর্ক থাকে; অর্থনীতি, বাণিজ্য ও সাংস্কৃতিক সম্পর্ক থাকে। দেশের জনগণ তো স্বাধীনতাকে জিম্মি করেনি। তারা দেশের জনগণের সঙ্গে কাজ করার কথা বলেছে।’

বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব অভিযোগ করে বলেন, ‘দেশের সমগ্র অর্থনীতিকে ভয়াবহ এক নৈরাজ্যকর পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দিয়েছে সরকার। সাধারণ মানুষ ফতুর হয়ে খেয়ে না খেয়ে ধুঁকে ধুঁকে মরছে। তিন বেলা খাওয়ার সাধ্য কেড়ে নিয়েছে সরকার।’

রিজভী বলেন, ‘ঋণের টাকায় কানাডার বেগমপাড়া, আমেরিকায় বিলাসবহুল বাড়ি-গাড়ি-ব্যবসা, দুবাই সিঙ্গাপুর বিনিয়োগ, মালয়েশিয়ায় সেকেন্ড হোমসহ তিন মহাদেশে সম্পদের পাহাড় গড়া হয়েছে। সুইস ব্যাংকে ক্ষমতাসীনদের ঘনিষ্ঠ কার কার নতুন অ্যাকাউন্টে টাকা জমা হচ্ছে সেটিও অনবগত নয় অনেকের কাছে। আওয়ামী লুটেরাদের দেশে বহুতল বাড়ি, বিলাসী গাড়ি, ব্যবসা-বাণিজ্য, জীবনযাপনে জৌলুস উপচে পড়ছে। আঙুল ফুলে বটগাছ হয়েছে।’

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নুল আবদীন ফারুক, আবদুল কুদ্দুস, নির্বাহী কমিটির সদস্য আমিনুল ইসলাম, তারিকুল আলম তেনজিং, শাহ নেছারুল হক, মৎস্যজীবী দলের সদস্য সচিব আবদুর রহিম, স্বেচ্ছাসেবক দলের ইমতিয়াজ বকুল প্রমুখ।