আরও একটি পরমাণু চুল্লি স্থাপন করতে যাচ্ছে ইরান। পশ্চিমা বিশে^র চোখ রাঙানি উপেক্ষা করে দীর্ঘদিন থেকে পরমাণু কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে দেশটি। তেহরান ঘোষণা দিয়েছে, এটি দেশের চতুর্থ পরমাণু চুল্লি। ইসফাহানের পরমাণু কেন্দ্রে এই চুল্লিটি নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। চুল্লি নির্মাণের ঘোষণাটি এমন সময় এলো, যখন গাজা যুদ্ধকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের সঙ্গে পশ্চিমাদের উত্তেজনা চলছে।
গত বুধবার ইরানের সরকার জানিয়েছিল, দেশের দক্ষিণে একটি পরমাণু প্রকল্পের কমপ্লেক্স তৈরি করা হচ্ছে।
ইরানের পরমাণু বিদ্যুৎ প্রকল্পের প্রধান মোহম্মদ এসলামি, গত বৃহস্পতিবার জানিয়েছেন, ‘ইসফাহানে নতুন পরমাণু চুল্লি তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। এখন ভিতে কংক্রিট ঢালা হয়েছে।’
ইরানের জাতীয় সংবাদমাধ্যমের এই খবর প্রকাশ করা হয়। তারা জানিয়েছে, নতুন এই পরমাণু চুল্লি ১০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারবে। এ ছাড়া এটি আরও বেশ কিছু কাজ করতে সক্ষম হবে। এই চুল্লি তেল এবং পরমাণুসংক্রান্ত জিনিস পরীক্ষা করতে পারবে। রেডিও আইসোটোপ তৈরি করতেও সক্ষম এই চুল্লি। রেডিও ফার্মাসিউটিক্যালসও তৈরি করতে পারবে এই চুল্লি। ইসফাহানের এই কেন্দ্রে এর আগে তিনটি পরমাণু চুল্লি তৈরি করা হয়েছিল যা এখনো সচল। বর্তমানে এটি চতুর্থ চুল্লী।
ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও পশ্চিমা বিশ^ সবসময় উদ্বিগ্ন। তেহরান বারবার দাবি করে, তারা শান্তিপূর্ণ উদ্দেশে পরমাণু কর্মসূচি চালিয়ে আসছে। তাদের সমস্ত পরমাণু প্রকল্পই জনগণের জন্য। এসব প্রকল্প মূলত বিদ্যুৎ প্রকল্প।
কিন্তু পশ্চিমা বিশ্ব বলে আসছে, ইরান যে মাত্রায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ করছে, তা পরমাণু অস্ত্র উৎপাদনের মাত্রার কাছাকাছি। আবার ইরান যেভাবে ধারাবাহিকভারে চুল্লি স্থাপন করছে, তা অস্ত্র উৎপাদনের দিকে এগিয়ে যাওয়া।
ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে উদ্বেগের কারণে ২০১৫ সালে তেহরানের সঙ্গে পরমাণু শক্তিধারী দেশগুলোর পাশাপাশি পশ্চিমা বিশে^র চুক্তি হয় যা ছয় জাতি পরমাণু চুক্তি নামে পরিচিত। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার প্রশাসন এই চুক্তিতে সই করেছিলেন। কিন্তু সাবকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চুক্তি থেকে ওয়াশিংটনকে সরিয়ে নেয়। পরবর্তী সময়ে চুক্তি পুনরুদ্ধারে বর্তমান মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসন আলোচনা শুরু করলেও তা আলোর মুখ দেখেনি।