পাঠকের পছন্দের শীর্ষে উপন্যাস

জমে উঠেছে প্রাণের মেলা অমর একুশে বইমেলা। প্রতিদিনই লেখক, পাঠক ও প্রকাশকদের পদচারণে মুখর মেলা প্রাঙ্গণ। সেই সঙ্গে বাড়ছে বেচা-বিক্রিও। আসছে নতুন বইও। তবে প্রকাশিত গ্রন্থের অধিকাংশই কবিতার বই। প্রবন্ধ নিবন্ধ ও গবেষণামূলক গ্রন্থের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে খুবই কম। ক্রেতাদের পছন্দের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে উপন্যাস ও সায়েন্স ফিকশন। এ ছাড়া রাজনীতি, বিজ্ঞান, ইতিহাসের প্রতিও আগ্রহ আছে পাঠকদের।

অমর একুশে বইমেলার ষষ্ঠ দিনে মেলার বিভিন্ন স্টল-প্যাভিলিয়নের বিক্রেতা-প্রকাশকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কয়েক দিনে যারা বই কিনতে এসেছেন, তাদের মধ্যে উপন্যাসের ক্রেতাই বেশি। এরপরই রয়েছে সায়েন্স ফিকশন। এর মধ্যে হুমায়ূন আহমেদ, মুহম্মদ জাফর ইকবালের বইয়ের পাঠকই বেশি। এ ছাড়া তরুণ লেখকদের বইও নজর কাড়ছে মেলায় আসা বইপ্রেমীদের। জনপ্রিয় তরুণ লেখকদের বই, বিশেষ করে উপন্যাস বেশি কিনছেন তরুণরা। যেসব স্টলে এসব বইয়ের আধিক্য, সেই সব স্টলেই দেখা মিলছে তরুণদের। ফলে এসব স্টলে ভিড় থাকছে সব সময়।

অনুপম প্রকাশনীর বিক্রয়কর্মী সাখাওয়াত হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমাদের প্যাভিলিয়নে জহির রায়হান, হুমায়ূন আহমেদের উপন্যাস বেশি চলছে। এর মধ্যে হুমায়ূন আহমেদের উপন্যাস ‘মিছির আলী’ ও ‘হিমু’ বেশি চলছে। এরপর জাফর ইকবালসহ অন্যদের সায়েন্স ফিকশন বই বেশি বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া আমরা বিজ্ঞানকে গুরুত্ব দেওয়ার কারণে বিজ্ঞান ও গণিতের বই বেশি বিক্রি হচ্ছে।’

কাকলী প্রকাশনীর রেজাউল করিম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমাদের প্যাভিলিয়ন মানেই হুমায়ূন। হুমায়ূন আহমেদের উপন্যাস বিক্রির শীর্ষে। এ ছাড়া সায়েন্স ফিকশন, থ্রিলার, গল্প, গোয়েন্দা সিরিজের বইগুলো চলছে বেশি। সবচেয়ে কম চলছে কবিতা।’

অন্যপ্রকাশের সেলস ম্যানেজার ইসরাত জাহান মৌ বলেন, ‘হুমায়ূন আহমেদের বই সবচেয়ে বেশি বিক্রি হচ্ছে। এরপর তরুণ লেখকদের মধ্যে মৌরি মরিয়ম, সাদাত হোসেন, সোহাইল রহমানের বই পাঠকদের পছন্দের শীর্ষে। গল্প এবং কবিতার বই কম বিক্রি হচ্ছে।’

গতকাল মঙ্গলবার ছিল অমর একুশে বইমেলার ষষ্ঠ দিন। মেলা শুরু হয় বিকেল ৩টায় এবং চলে রাত ৯টা পর্যন্ত। এদিন নতুন বই এসেছে ১০৮টি। বিকেল ৪টায় বইমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় স্মরণ : মুহম্মদ মনসুর উদ্দীন শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন জফির সেতু। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন শাহিদা খাতুন এবং সৌমিত্র শেখর। সভাপতিত্ব করেন আবদুল খালেক।

আলোচকরা বলেন, বাংলাদেশের লোকসাহিত্যের পরিমণ্ডলে মুহম্মদ মনসুর উদ্দীন গুরুত্বপূর্ণ এক নাম। আমাদের গ্রামবাংলার লুপ্ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে তিনি আলোয় তুলে ধরেছেন। বাংলা লোকসাহিত্য-গবেষণায় আধুনিকতা ও আন্তর্জাতিকতার অগ্রপথিক তিনি। অসাধারণ মেধা ও প্রজ্ঞার অধিকারী মুহম্মদ মনসুর উদ্দীন লোকসাহিত্যের উপাদান সংগ্রহের পাশাপাশি সেগুলো ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণেও আধুনিকতার স্বাক্ষর রেখেছেন। সভাপতির বক্তব্যে আবদুল খালেক বলেন, লোকসাহিত্য সংগ্রাহক ও গবেষক মুহম্মদ মনসুর উদ্দীন লোকসাহিত্যের প্রতি মানুষের আগ্রহ জাগ্রত করার জন্য কাজ করেছেন। লোকসাহিত্যের স্রষ্টা গ্রামের সাধারণ মানুষের সঙ্গে তিনি সহজেই মিশে যেতে পারতেন। লোকসাহিত্যের পরিমণ্ডলে তিনি যে অসাধারণ কীর্তি রেখে গেছেন, তা বাঙালি সংস্কৃতিকে আলোকিত করেছে।

আজ ৭ ফেব্রুয়ারি বুধবার। অমর একুশে বইমেলার সপ্তম দিন। মেলা শুরু হবে বিকেল ৩টায় এবং চলবে রাত ৯টা পর্যন্ত। আলোচনা অনুষ্ঠান : বিকেল ৪টায় বইমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে স্মরণ : গোবিন্দ চন্দ্র দেব শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন অধ্যাপক প্রদীপ কুমার রায়। আলোচনায় অংশগ্রহণ করবেন জয়দুল হোসেন এবং সাইফুল্লাহ মাহমুদ দুলাল। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন অধ্যাপক আবুল কাশেম ফজলুল হক।