ফলাফলে চোখ নেই ভারতের

আজ বৃহস্পতিবার পাকিস্তানের নির্বাচন। নানা নাটকীয়তার পর দেশটির জনগণ আজ ভোট দিয়ে তাদের পরবর্তী সরকার নির্বাচিত করবে। অবশ্য ভোটের ফল আগেই নির্ধারণ করা আছে বলেও উল্লেখ করে কেউ কেউ বলছেন, ফলাফল আগেই নির্ধারণ করে রাখা হয়েছে বলে এ নির্বাচনকে ইলেকশন না বলে সিলেকশন বলাই ভালো। আর ভারতও বিষয়টি তেমন মনে করে বলে ভোট নিয়ে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কোনো মন্তব্য নেই। অবশ্য ভারত সরকারের সাবেক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভারতের কাছে আসল বিষয় হলো, পাকিস্তানে ভারতের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসে মদদ দেওয়া বন্ধ করছে কি না। সেখানে কে জিতল, কে হারল তা নিয়ে ভারতের বিন্দুমাত্র আগ্রহ নেই।

সাবেক আইপিএস অফিসার শান্তনু মুখোপাধ্যায় ডয়চে ভেলেকে বলেছেন, ভারত তার খুবই কাছের প্রতিবেশী দেশের নির্বাচনের গতিপ্রকৃতির ওপর নজর রাখছে। যে সরকারই আসুক না কেন, ভারত দেখবে তার স্থায়িত্ব কতটা এবং ভারতের নিরাপত্তার ওপর তার কতটা প্রভাব পড়বে। ভারত কখনই চায় না, নিরাপত্তা নিয়ে তাদের চিন্তাটা বেড়ে যাক।’

তিনি বলেন, ‘ভারত নিরপেক্ষভাবে পাকিস্তানের নির্বাচনের গতিপ্রকৃতির ওপর নজর রাখছে। এটা পাকিস্তানের নির্বাচন। সে দেশের মানুষ ভোট দেবে। ভারতের একটাই চিন্তা, তা হলো দেশের নিরাপত্তা নিয়ে। সেখানে যেন কোনো প্রভাব না পড়ে, সেটাই দেখা হবে।’

পাকিস্তানে ভারতের সাবেক রাষ্ট্রদূত অজয় বিসারিয়া বার্তাসংস্থা এএনআইকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেছেন, ‘পাকিস্তানের নির্বাচনে কী হবে তা এখনই বলে দেওয়া যায়। পাকিস্তানের সেনা আগে থেকে ঠিক করে রেখেছে কাকে তারা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে চায়। তাই ৮ ফেব্রুয়ারি যা হবে, তা ইলেকশন না বলে সিলেকশন বা বাছাই করে নেওয়া বলাটাই ভালো।’

বিসারিয়া বলেছেন, ‘পাকিস্তানের মধ্যে থেকে যে রিপোর্ট আসছে, তাতে বলা হচ্ছে, সেনা সেখানে প্রাক নির্বাচনী কাজকর্ম করছে, নির্বাচনের পরও করবে। তারা এমন সরকার চায়, যা সেনার কথায় চলবে। তারা স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, তারা নওয়াজ শরিফকেই চায়। ইমরানকে এবার চায় না বলে তাকে বাইরে রাখার সব চেষ্টা হয়েছে। সেনা এমন জোট চায়, যা তারা নিয়ন্ত্রণ করবে।’

অজয় বিসারিয়ার সঙ্গে একমত ভারতীয় সেনার সাবেক লেফটেন্যান্ট জেনারেল উৎপল ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, ‘একটা চালু কথা আছে, আমাদের দেশে একটা সেনাবাহিনী আছে। আর পাকিস্তানের ক্ষেত্রে বলা হয়, সেখানে সেনাবাহিনীর একটা দেশ আছে।’

এ অবস্থায় পাকিস্তানের নতুন সরকারের সঙ্গে টু চ্যানেল ডিপ্লোম্যাসি চালাতে হবে বলে মনে করেন উৎপল ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, ‘নওয়াজের সঙ্গে ভারত অনেক দিন কাজ করেছে। ভারত এখনো যখন কথা বলে, রাওয়ালপিন্ডি ও ইসলামাবাদ দুজনের সঙ্গেই কথা বলে। ইসলামাবাদ পাকিস্তানকে চালায় না। চালায় রাওয়ালপিন্ডি।’

তার মতে, ‘ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে ঠান্ডা যুদ্ধ চলছে। ম্যানেজমেন্ট ইফ কোল্ড ওয়ার তো করতেই হবে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বাজপেয়ী বলেছিলেন, প্রতিবেশীকে বদলানো যায় না। তাছাড়া ভারত এখন আগের থেকে অনেক বেশি শক্তিশালী।’

বিসারিয়া বলেছেন, ‘উদ্যোগটা পাকিস্তানের তরফ থেকে আসতে হবে। ভারতের ভোটও হয়ে যাওয়ার পর জুন-জুলাইতে কিছু হতে পারে।’

শান্তনু মুখোপাধ্যায় মনে করেন, ‘পাকিস্তানের সঙ্গে ভারতের আলোচনা বন্ধ হওয়ার কারণ, ইসলামাবাদ একদিকে সন্ত্রাসে সমানে মদদ দিচ্ছিল, অন্যদিকে আলোচনায় বসতে চাইছিল। এ দুই কাজ একসঙ্গে করা যায় না। পাকিস্তানে নতুন সরকারের ক্ষেত্রে এটাই দেখতে হবে, ভারত প্রসঙ্গে তারা কী মনোভাব দেখায়। আমাদের নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তা বাড়লে আলোচনা হবে না। পাকিস্তান সন্ত্রাসবাদে মদদ দিলে, উৎসাহ দিলে কথা বলার কোনো জায়গা থাকবে না।’