সাইবার দুনিয়ায় মাদ্রাসাপড়ুয়া আবদুল রহমানের সেবা

নিরাপদ সাইবার স্পেস নিয়ে এখন বেশিরভাগ মানুষ আতঙ্কে। প্রযুক্তির উৎকর্ষে মানুষের হাতে হাতে এখন স্মার্টফোন। এ ছাড়া ডেস্কটপ, ল্যাপটপ, ট্যাব তো আছেই। প্রতিদিন নতুন নতুন সুযোগ-সুবিধা নিয়ে নতুন নতুন গ্যাজেট যেমন হাজির হচ্ছে, প্রতি দিনই গজিয়ে উঠছে নতুন নতুন অ্যাপ। এসবের মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় হচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়াগুলো। যেমন ফেসবুক, টুইটার, ইনস্টাগ্রাম। এসব অ্যাপের যেমন সুবিধা আছে, তেমনি রয়েছে শঙ্কার জায়গাও। তাই ব্যবহারকারীদের সাইবার সুরক্ষা দিতে বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান দাঁড়িয়ে গেছে। নিরাপদ ও অশ্লীলতামুক্ত সাইবার স্পেস গড়তে মাদ্রাসাপড়ুয়া আবদুল রহমান কাজ করছেন। তার ভাষায়, ‘আমাদের মূল লক্ষ্য, অনলাইন প্ল্যাটফর্মকে নিরাপদ ও অশ্লীলতামুক্ত রাখা।’

হ্যাঁ, এ কথা অস্বীকারের উপায় নেই যে, জীবন এখন অনেকটাই অনলাইন নির্ভর। ইচ্ছায়-অনিচ্ছায় অনলাইন থেকে নানাসেবা গ্রহণ করতে হয়। অনলাইনে কাজ করা বেশ সহজ, তবে অনেক ক্ষেত্রে অনলাইনে কাজ করতে গিয়ে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে হয়। এগুলোর অন্যতম হচ্ছে- অশ্লীলতা। অনলাইনের অশ্লীলতা দূর করতে কাজ করছেন মাদ্রাসা শিক্ষার্থী আবদুল রহমান। এ লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠা করেছেন ‘রাইডার অফিশিয়াল’ নামের প্রতিষ্ঠান।

তার প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে তিনি অনলাইন জগৎকে অশ্লীলতামুক্ত রাখতে কাজ করার পাশাপাশি এ জগতে নানা সমস্যার সমাধান দিয়ে থাকেন। তার ভাষায়, ‘জীবন যেমন ক্রমশ ডিজিটাল হচ্ছে, তেমনি দেশে ডিজিটাল এজেন্সির সংখ্যাও বাড়ছে। আমরা প্রতিষ্ঠা করেছি ‘রাইডার্স ক্রিয়েশন’ নামের আরেকটি প্রতিষ্ঠান। আমরা গ্রাহকদের যেকোনো সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে বিভিন্ন ডিজিটাল পরিষেবা দিয়ে থাকি।’

তিনি বলেন, ‘এটি মূলত সমস্যা সমাধানকারী একটি আইটি কোম্পানি। আমরা সোশ্যাল মিডিয়া সম্পর্কিত যেকোনো সমস্যায় গ্রাহকদের পরিষেবা দেওয়ার জন্য অন্য একটি সংস্থা প্রতিষ্ঠা এবং এর নাম রাইডার্স ক্রিয়েশন করার কথা ভেবেছিলাম। পরে ২০২১ সালে এটা শুরু করি এবং এ পর্যন্ত আমাদের কার্যক্রম সন্তোষজনক।’

আবদুল রহমানের প্রতিষ্ঠানের সেবা প্রধানত ওয়েব ডিজাইন, ওয়েব ডেভেলপমেন্ট, থ্রিডি ডিজাইন, বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া সার্ভিস, মিউজিক ডিস্ট্রিবিউশন, গুগল নলেজ প্যানেল, সাইবার সিকিউরিটি, অনলাইন বুক ডিস্ট্রিবিউশন, ফেসবুক এবং অন্যান্য সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টের ওপর ফোকাস করে। আবদুল রহমান ভবিষ্যতে রোবটিক্স এবং প্রোগ্রামিং খাতে কাজ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন এবং ডিজিটাল ক্লায়েন্টদের দুর্দান্ত পরিষেবা প্রদান এবং নিরাপত্তা বজায় রাখতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।

বর্তমানে ভারত, শ্রীলঙ্কা এবং যুক্তরাষ্ট্রেও আবদুল রহমানের গ্রাহক রয়েছে। তার স্বপ্ন, কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটিকে দেশের অন্যতম শীর্ষ আইটি কোম্পানিতে পরিণত করা এবং এর পরিষেবা আরও বিস্তৃত করা।