বিক্রির তুঙ্গে এখনো হুমায়ূন আহমেদ

জননন্দিত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ। মৃত্যুর প্রায় এক দশক পেরিয়ে গেলেও পাঠকদের কাছে তার জনপ্রিয়তা এখন পর্যন্ত এতটুকু কমেনি। এখনো দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় লেখক হুমায়ূন আহমেদ। এবারের বইমেলায়ও তার বইগুলো সবচেয়ে বেশি বিক্রি হচ্ছে। প্রকাশকরা বলছেন, বাজারে কাটতির দিক থেকে হুমায়ূন আহমেদের জায়গা নেওয়ার মতো কোনো লেখক এখনো বাংলাদেশে নেই। এই লেখকে আগ্রহ আছে সব বয়সী মানুষের। হুমায়ূন আহমেদের প্রকাশনাগুলোর কাছে গেলেই তা বোঝা যায়। পাঠকরা এসব প্রকাশনা থেকে নিচ্ছেন নিজেদের পছন্দের বইটি। অন্যপ্রকাশ, কাকলী, অনুপম, অন্বেষা এ রকম পরিচিত প্রকাশনীগুলোর স্টলে ক্রেতাদের ছিল উপচেপড়া ভিড়; বিশেষ করে অন্যপ্রকাশের সামনে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে পাঠক-দর্শনার্থীদের হুমায়ূনের বই কেনার দৃশ্য এখনো নিয়মিত। এই প্যাভিলিয়নে বৃষ্টি বিলাস, মাতাল হাওয়া, নীল মানুষ, সে আসে ধীরে, এপিটাফ, এই বসন্তে, নক্ষত্রের রাত এসব বই আছে বিক্রির শীর্ষে। বিক্রয়কর্মী মুন বলেন, ‘আমাদের প্যাভিলিয়ন হুমায়ূন আহমেদের বইয়ের জন্য বিখ্যাত। সবচেয়ে বেশি বিক্রি হচ্ছে তার বই।’

কাকলী প্রকাশনীতে হুমায়ূন আহমেদের শ্রেষ্ঠ হিমু, শ্রেষ্ঠ মিসির আলি, শ্রেষ্ঠ হুমায়ূন এসব বই বেশি বিক্রি হচ্ছে। এই প্যাভিলিয়নের বিক্রয়কর্মী আবিদ বলেন, ‘নতুন লেখকদের কোনো পাত্তাই নেই। হুমায়ূন আহমেদের বই এত বেশি বিক্রি হয়। এ ছাড়া অনুপম প্রকাশনীতে চক্ষে আমার তৃষ্ণা, অয়োময়, দারুচিনি দ্বীপ, রূপালী দ্বীপ, সায়েন্স ফিকশন গল্পসমগ্র এবং অন্বেষা প্রকাশনীতে রূপা, হিমুর হাতে কয়েকটি নীল পদ্ম, সে ও নর্তকী, তন্দ্রাবিলাস, অমানুষ, নির্বাসন বইগুলো হুমড়ি খেয়ে কিনছেন পাঠকরা।

অন্যপ্রকাশের স্টলে হুমায়ূন আহমেদের বইগুলো দেখছিলেন মিরপুর থেকে আসা রেহনুমা খানম নামে এক পাঠক। জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘হুমায়ূন আমার প্রথম পছন্দ। এত বেশি বই কেনা হয়েছে মেলায় আসলে হুমায়ূন আহমেদের বই ছাড়া যেতে পারি না।’ পুরান ঢাকা থেকে মেলায় এসেছেন নুসরাত জাহান। তিনি বলেন, ‘ হুমায়ূন আহমেদের লেখায় একধরনের মোহ রয়েছে। যতই পড়ি, ততই হুমায়ূন আহমেদ স্যারের বই পড়তে ইচ্ছে করে। এখন পর্যন্ত প্রায় ২০টির বেশি বই পড়া হয়েছে আমার।’

অন্যপ্রকাশের প্রকাশক মাজহারুল ইসলাম বলেন, ‘১৯৯৯ সালে হুমায়ূন আহমেদকে পাশে না পেলে কোনোভাবেই অন্যপ্রকাশ আজকের অবস্থানে থাকত না। সেই প্রারম্ভিক ধামাকার পর অন্যপ্রকাশকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। আমাদের প্রকাশনী থেকে আর অন্য যেকোনো লেখকের চেয়ে হুমায়ূন আহমেদের বইয়ের বিক্রি বরাবরই অনেক বেশি। হুমায়ূন আহমেদের পুরনো বইগুলো এখন ভালো বিক্রি হচ্ছে। যারা আগে পড়েননি, তারা এখন কিনে পড়ছেন।’

৭ ফেব্রুয়ারি বুধবার ছিল অমর একুশে বইমেলার সপ্তম দিন। মেলা শুরু হয় বিকেল ৩টায় এবং চলে রাত ৯টা পর্যন্ত। গতকাল মেলায় নতুন বই এসেছে ৬৯টি। বিকেল ৪টায় বইমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় স্মরণ : গোবিন্দ চন্দ্র দেব শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অধ্যাপক প্রদীপ কুমার রায়। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন জয়দুল হোসেন এবং সাইফুল্লাহ মাহমুদ দুলাল। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক।

আজকের সময়সূচি : আজ ৮ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার অমর একুশে বইমেলার অষ্টম দিন। মেলা শুরু হবে বিকেল ৩টায় এবং চলবে রাত ৯টা পর্যন্ত।

আলোচনা অনুষ্ঠান : বিকেল ৪টায় বইমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে স্মরণ : আহমদ শরীফ শীর্ষক আলোচনা। প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন রাজীব সরকার। আলোচনায় অংশগ্রহণ করবেন মোরশেদ শফিউল হাসান এবং আফজালুল বাসার। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন অধ্যাপক আবুল আহসান চৌধুরী।