ভোট শেষ, চলছে গণনা, জনগণের প্রশংসা তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রীর

পাকিস্তানের জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদের নির্বাচনের ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে। এখন চলছে গণনা। বৃহস্পতিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) দেশটির ৮৫৫টি আসনে নির্বাচন হয়। এদিন মোবাইল ফোন ও ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ থাকা সত্ত্বেও বিপুল সংখ্যক মানুষ তাদের প্রতিনিধি নির্বাচন করতে ভোটাধিকার প্রয়োগ করেছে।

ইতোমধ্যে নির্বাচন সফলভাবে সম্পন্ন করায় জাতিকে অভিনন্দন জানিয়েছেন দেশটির তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার উল হক কাকার।

মাইক্রো ব্লগিং সাইট এক্সে দেওয়া এক পোস্ট তিনি লেখেন, জাতীয় নির্বাচন সফলভাবে সম্পন্ন করায় জাতিকে ধন্যবাদ ও অভিনন্দন জানাই। এটি কেবল গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার স্থিতিস্থাপকতা এবং শক্তির প্রমাণ নয়, জনগণের অদম্য চেতনার প্রমাণ। ভোটের মাধ্যমে প্রকাশিত রায় আমাদের গণতন্ত্রে অবদান রাখবে এবং পাকিস্তানের জনগণ প্রশংসার দাবিদার।

তিনি দেশের কিছু স্থানে বিশৃঙ্খলা-সহিংসতা হলেও নির্বাচন কমিশন, অন্তর্বর্তী প্রাদেশিক সরকার, সশস্ত্র বাহিনী, বেসামরিক সশস্ত্র বাহিনী, পুলিশ, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও গণমাধ্যমকর্মীদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

করাচিতে ভোট চলছে

দেশটিতে এবারের নির্বাচনে বরাদ্দ ছিল ৪৮ বিলিয়ন পাকিস্তানি রুপি। মোট নাগরিকের মধ্যে  ভোটার ছিল ৫০ শতাংশ।  শুধু তা-ই নয়, এবারের নির্বাচনে রেকর্ড সংখ্যক ১৮ হাজার স্বতন্ত্র প্রার্থী নির্বাচন করেছে। ব্যালট পেপার ছাপাতে ব্যবহার করা হয়েছে ২০ কোটি ৬০ লাখ কাগজ।

তবে এবারের নির্বাচনে অংশ নিতে পারেননি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পিটিআই নেতা ইমরান খান। তিনটি আলাদা মামলায় কারাদণ্ড পেয়ে তিনি এখন জেলে বন্দি। তবে ইমরান খান জেলের ভেতর থেকেই নিজের ভোট দিয়েছেন।

নির্বাচন উপলক্ষে এদিন সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়। স্থানীয় সময় সকাল ৮টা থেকে শুরু হয়ে ভোটগ্রহণ শেষ হয় বিকাল ৫টায়। সবমিলিয়ে ৯০ হাজার ৬৭৫টি বুথে ভোট দেন সাধারণ ভোটাররা। এসব ভোট কেন্দ্রের দায়িত্বে ছিলেন ১৪ লাখ কর্মী।

এদিকে নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে ভোটের দিন বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয় ইন্টারনেট ও মোবাইল সংযোগ। জিও নিউজ জানিয়েছে, মধ্যরাতের পর ভোটের ফল জানা যাবে। আর পূর্ণ ফল জানতে অপেক্ষা করতে হবে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত। তবে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হওয়ার এক ঘণ্টা পর থেকেই ফল প্রকাশের অনুমতি দেওয়া হয়েছে পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যমগুলোকে।