উত্তপ্ত পরিস্থিতিতেই শুরু পাকিস্তানের নির্বাচন, সারাদেশে বন্ধ মোবাইল পরিষেবা

  • নির্বাচনের দিন বৃহস্পতিবার সকালেও বেশ কিছু এলাকায় বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। এর আগে বুধবার পৃথক বোমা ও গ্রেনেড হামলায় অন্তত ২৯ জন নিহত হয়েছে
আপডেট : ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৯:৪৮ এএম

উত্তপ্ত রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও অস্থিরতার মধ্যেই আজ পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত হচ্ছে জাতীয় নির্বাচনের ভোটগ্রহণ। নির্বাচন ঘিরে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে পাকিস্তানের কিছু এলাকায়।

নির্বাচনের দিন বৃহস্পতিবার সকালেও বেশ কিছু এলাকায় বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। এর আগে বুধবার পৃথক বোমা ও গ্রেনেড হামলায় অন্তত ২৯ জন নিহত হয়েছে।

পাকিস্তানের স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার সকাল ৮টায় (বাংলাদেশ সময় সকাল ৯টা) এই ভোটগ্রহণ শুরু হয়, চলবে টানা বিকাল ৫টা (বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৬টা) পর্যন্ত। বৃহপতিবার সকাল ৮টা বাজার সাথে সাথেই ভোটকেন্দ্রগুলোতে ভোটাররা তাদের ভোট দিতে শুরু করে। খবর জিও টিভি ও দ্যা ডন।

এদিকে ভোটগ্রহণ উপলক্ষ্যে পাকিস্তানজুড়ে মোবাইল পরিবেষা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ক্রমবর্ধমান সহিংসতা ও নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতির কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির সরকার।  

পাকিস্তানের নির্বাচন কমিশনের (ইসিপি) তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে মোট ১২ কোটি ৮০ লাখ নিবন্ধিত ভোটার রয়েছেন যারা আজ ভোট দেবেন বলে আশা করছে কর্তৃপক্ষ।

পাকিস্তান জুড়ে ভোটাররা মোট ৯০ হাজার ৬৭৫টি ভোট কেন্দ্রে ভোট দিচ্ছেন। জাতীয় পরিষদের ২৬৬টি আসনে মোট ৫ হাজার ১২১ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

ইসিপির তথ্য অনুযায়ী, এসব ভোট কেন্দ্রের মধ্যে ৪৬ হাজার ৬৫টি সংবেদনশীল এবং ১৮ হাজার ৪৩৭টি অত্যন্ত সংবেদনশীল হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

এদিকে এক বিবৃতিতে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ‘সাম্প্রতিক সময়ে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বৃদ্ধির এবং প্রাণহানির ফলে দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। ফলে নিরাপত্তা হুমকির বিরুদ্ধে সুরক্ষার ব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। যার কারণে  সারাদেশে ‘সাময়িকভাবে’ মোবাইল পরিষেবা স্থগিত করা হবে।’

এর আগে জিও নিউজ জানিয়েছিল, করাচি, লাহোর এবং পেশোয়ারসহ পাকিস্তানের বেশ কয়েকটি জায়গায় মোবাইল ফোন পরিষেবা ব্যাহত হয়েছে।

তবে ভোটাররা যাতে নির্বিঘ্নে ভোট প্রদান করতে পারে এবং তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ সতর্কতার নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে পাকিস্তান পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি)।

এদিকে পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে কারাগারে রেখেই হচ্ছে নির্বাচন। চারটি মামলায় তাকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে নির্বাচনে শক্ত প্রতিপক্ষ সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফকে একের এক মামলা থেকে খালাস দেওয়া হয়েছে।

আর তাই বিশ্লেষকেরা বলছেন, এটা নির্বাচন নয়, প্রহসন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত