‘শুধু টেলিভিশনে পবিত্র কাবা দেখতাম’

সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় অতিথি হিসেবে অস্ট্রিয়া থেকে পবিত্র ওমরাহ পালনে আসা নাজাতি বৈরামি বলেছেন, ‘এতদিন শুধু টেলিভিশনের পর্দায় কাবা শরিফ দেখতাম। যখন আমি প্রথমবার বায়তুল্লাহর সামনে দাঁড়াই, তখন বিশ্বাস করতে পারিনি, আমি কাবার সামনে দাঁড়িয়ে আছি।’

সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় অতিথি হিসেবে দেশটির ইসলাম ও দাওয়াহ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে গেস্ট অব কাস্টডিয়ান অব টু হলি মস্ক প্রোগ্রামের আওতায় গত ১ ফেব্রুয়ারি পবিত্র ওমরাহ প্রোগ্রামের দ্বিতীয় দফায় ১৫ দেশ থেকে ২৫০ জন ওমরাহযাত্রী মদিনায় পৌঁছেন। নাজাতি বৈরামি তাদের একজন। মদিনা থেকে মক্কায় পৌঁছে পবিত্র কাবা তওয়াফের পর তিনি তার এ অনুভূতি ব্যক্ত করেন।  গত এক মাসে বিশ্বের ২৯টি দেশের ৫০০ ইসলামি ব্যক্তিত্ব ওমরাহ পালন করেছেন। দ্বিতীয় প্রোগ্রামে এবার ওমরাহ পালনে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা, আলবেনিয়া, কসোভো, ম্যাসিডোনিয়া, ক্রোয়েশিয়া, স্লোভেনিয়া, মন্টিনিগ্রো, সার্বিয়া, গ্রিস, বুলগেরিয়া, রোমানিয়া, পোল্যান্ড, যুক্তরাজ্য, ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা থেকে বিশিষ্ট ব্যক্তিদের আমন্ত্রণ জানানো হয়। বর্তমানে তারা মক্কায় অবস্থান করছেন।

অস্ট্রিয়া থেকে ওমরাহ পালনে আসা এই অতিথি কাবা শরিফের সামনে দাঁড়িয়ে উচ্চকণ্ঠে বলেন, ‘আগে টেলিভিশনের পর্দায় কিংবা স্মার্টফোনে কাবা শরিফের লাইভ দৃশ্য দেখতাম, কিন্তু প্রথমবারের মতো যখন আল্লাহর ঘরের সামনে দাঁড়াই, বিশ্বাস করতে পারিনি, মনে হচ্ছিল- আমি স্বপ্ন দেখছি।’

রাজকীয় অতিথি বৈরামি যোগ করেন, ‘এই সময়ে আমার বয়স ৭৫ বছর, কিন্তু এখানে এসে মনে হচ্ছে- আমার বয়স কমে গেছে, মক্কা মোকাররমা এবং মদিনা তাইয়্যেবা আমার হৃদয় ও মনে স্থায়ী হয়ে আছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘রাজকীয় অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ পেয়ে আমি খুশি হওয়া থামাতে পারিনি, কেন খুশি হব না- যখন বছরের পর বছরের আকাক্সক্ষা এভাবে পূরণ হলো, তাহলে খুশি হতে বাধ্য।’ তার মতে, ‘সৌদি আরবের পক্ষ থেকে ওমরাহর আমন্ত্রণ পাওয়াটা আমার জন্য গর্বের, তাদের কারণেই আজ আমি সেই দৃশ্যগুলো লাইভ দেখতে পাচ্ছি; যেগুলো আমি বছরের পর বছর শুধু টেলিভিশনের পর্দায় দেখতাম।’

গত ৩ জানুয়ারি সৌদি বাদশাহ সালমান বিন আবদুল আজিজ এক রাজকীয় নির্দেশনায় এ বছর বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে সর্বমোট এক হাজার মুসলিম ব্যক্তিত্বকে পবিত্র ওমরাহ করানোর অনুমোদন দেন। পরদিন প্রথম দফায় মালয়েশিয়া, ফিলিপাইন, ইন্দোনেশিয়া, তাইওয়ান, মিয়ানমার, ভিয়েতনাম, লাওস, হংকংসহ পূর্ব এশিয়ার ১৪টি দেশ থেকে ২৫০ জন মুসলিম ব্যক্তিত্ব পবিত্র ওমরাহ পালন করতে সৌদি আরব যান। ওমরাহ পালনের পাশাপাশি তাদের মক্কা ও মদিনার ঐতিহাসিক স্থানগুলো পরিদর্শন করানো হয়। মদিনায় অবস্থানকালে পবিত্র মসজিদে নববি, মসজিদে কুবা, বদর ও ওহুদ প্রান্তরসহ ইসলামের ইতিহাস সংশ্লিষ্ট স্থান পরিদর্শন করেন।

আর মক্কায় অবস্থানকালে পবিত্র কাবাঘরের গিলাফ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান কিং আবদুল আজিজ কমপ্লেক্সসহ পবিত্র মসজিদে হারামের আশপাশ এলাকা পরিদর্শন করেন। সাক্ষাৎ করেন পবিত্র কাবার প্রধান খতিব শায়খ আস সুদাইসের সঙ্গেও।

সৌদি আরব প্রতি বছর রাষ্ট্রীয় অতিথি হিসেবে এক হাজারের বেশি মুসলিম ব্যক্তিত্বের পবিত্র হজের আয়োজন করে থাকে। গত বছর দেশটির সরকার বিশ্বের ৯০টির বেশি দেশ থেকে কয়েক হাজার জনকে হজ করিয়েছে।