সৃজনশীল ও ব্যাকরণ উভয় অংশেই গুরুত্ব দিতে হবে

প্রিয় শিক্ষার্থী বন্ধুরা, শুভেচ্ছা নিও।

১০০ নম্বর বরাদ্দ রয়েছে বাংলা দ্বিতীয়পত্র বিষয়টির জন্য। রচনামূলক বা সৃজনশীল অংশে ৭০, যার মধ্যে অনুচ্ছেদ লিখন-এ ১০, সারাংশ/সারমর্মে ১০, ভাবসম্প্রসারণে ১০, চিঠিপত্রে ১০, প্রতিবেদন তৈরিতে ১০ ও রচনায় থাকবে ২০। পুরো ব্যাকরণ অংশ থেকে এবার ৩০ নম্বর থাকবে। বাংলা ২য় পত্রে ভালো করার সুযোগ রয়েছে সেহেতু এ বিষয়টি গুরুত্ব দিতে হবে।

ভুল উত্তর দেওয়া ও অপ্রাসঙ্গিক উত্তর পরিহার করতে হবে। ভাবসম্প্রসারণ, সারাংশ ও রচনায় অপ্রাসঙ্গিক কিছু লিখলে সেটির মান কমে যেতে পারে। তুমি মনে করতে পারো, যত বেশি লেখা যাবে তত বেশি নম্বর পাবে, আসলে তা ঠিক নয়। তাই এ বিষয়ে সচেতন থাকবে। মনে রাখবে, গঠনমূলক লেখা ছোট হলেও পুরো নম্বর পেতে সহায়ক হয়।

বহুনির্বাচনী- ৩০

বহুনির্বাচনী প্রশ্নের উত্তর হলো বেশি নম্বর পাওয়ার সিঁড়ি। পাঠ্যপুস্তকে রঙিন কলম দিয়ে সম্ভাব্য বহুনির্বাচনী প্রশ্নগুলোয় দাগ দিয়ে রেখেছ আশা করছি। অনুশীলন হলো বহুনির্বাচনী শিক্ষার ভিত্তি। যত বেশি পড়বে, তত বেশি মনে থাকবে। মনে রাখা দরকার, ব্যাকরণ বই থেকেই প্রশ্ন হবে অহেতুক বাজারের বড় বড় ব্যাকরণ বই/গাইড পড়ার প্রয়োজন নেই। ব্যাকরণ চর্চা করবে যত পারো ততবার। নৈর্ব্যক্তিকের বৃত্ত ভরাট বা গোলপূরণ করবে কোনো প্রকার টিকচিহ্ন দেবে না।

অনুচ্ছেদ-১০

অনুচ্ছেদ লিখনের ক্ষেত্রে অবশ্যই বইয়ের বিষয়গুলোকে প্রাধান্য দেবে। উত্তরের ক্ষেত্রে প্রাসঙ্গিক ভাষা ও গঠনমূলক বাক্য ব্যবহার করবে। অনুচ্ছেদে এক প্যারার বাইরে কোনো ভাবেই প্যারা করবে না। সাধু-চলিত ভাষা একই প্রশ্নের উত্তরে ব্যবহার করা যাবে না। যে-কোনো বর্ণনামূলক রচনায় এ ব্যাপারটি অবশ্যই খেয়াল রাখবে।

সারাংশ বা সারমর্ম-১০

সারাংশ বা সারমর্ম কমপক্ষে দু’বার পড়বে। সহজ, সরল ও প্রাঞ্জল ভাষায় মূল উত্তরটুকু তিন বা চার বাক্যে লিখবে। এখানে কোনো উদাহরণ, দৃষ্টান্ত, উপমা বা অপ্রাসঙ্গিক অথবা হুবহু প্রশ্ন থেকে উত্তর তুলে দেবে না।

চিঠিপত্র-১০

চিঠিপত্র পুরনো ও আধুনিক যেকোনো নিয়মেই লেখা যায়, তবে বোর্ডের রচনা বইটি অনুসরণ করবে। ব্যক্তিগত, আবেদনপত্র ও পত্রিকার প্রকাশের পত্র এ তিনটি নিয়ম অবশ্যই আত্মস্থ রাখবে।

প্রতিবেদন-১০

প্রতিবেদন রচনার ক্ষেত্রে তোমরা যা শিখেছ সেভাবেই উত্তর করবে। পত্রিকার প্রতিবেদনে তোমরা শিরোনাম ব্যবহার করে, প্রতিবেদকের নাম, স্থান, তারিখ উল্লেখ করে লিখলেই ভালো করবে। প্রাতিষ্ঠানিক প্রতিবেদনে অবশ্যই প্রতিষ্ঠান প্রধান বরাবর বিষয় ও সূত্রসহ প্রতিবেদন পেশ করবে।

ভাবসম্প্রসারণ-১০

ভাবসম্প্রসারণ পারলে তিন প্যারায় লেখাই শ্রেয়। প্যারার নাম উল্লেখ না করাই ভালো। মূল ভাব নিজের ভাষায় ব্যাখ্যা দেবে, সম্প্রসারিত ভাব ও মন্তব্য অংশ প্যারা করলে ভালো হবে। মনে রাখা দরকার ভাবসম্প্রসারণে উপমা, উদাহরণ বা কোটেশন করতে পারবে তবে তা অবশ্যই প্রাসঙ্গিক হতে হবে।

প্রবন্ধ ও রচনা-২০

রচনামূলক অংশের বড় জায়গা জুড়ে আছে প্রবন্ধ-রচনা। প্রয়োজনীয় কোটেশন ও কবিতার লাইন সংযোজন করবে। বোর্ডের রচনা বইটিকে অবশ্যই মূল ভিত্তি হিসেবে ধরে নিয়ে কিছু প্রাসঙ্গিক আলোচনা অন্য রচনার বই থেকে সংগ্রহ করবে। রচনায় উপশিরোনাম দেবে। রচনাতে উদ্ধৃতি-তথ্য-তত্ত্ব-উপাত্ত যতটুকু পারা যায় দেওয়া ভালো।

মোস্তাফিজুর রহমান লিটন

প্রভাষক, বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ পাবলিক কলেজ

পিলখানা, ঢাকা