সমাজসেবা অধিদপ্তরের অধিভুক্ত ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে পরিচালিত বাংলাদেশ প্রবীণ হিতৈষী সংঘ ও জরাবিজ্ঞান প্রতিষ্ঠানটি (বাইগাম) দুর্নীতি ও নানা অনিয়মে ডুবছে। প্রতিষ্ঠানটি যে প্রবীণ সদস্যরা পরিচালনা করেন ও প্রতিষ্ঠানে যারা চাকরি করেন উভয় অংশের লোকজনই দুর্নীতি ও অনিয়মের সঙ্গে জড়িত এমন প্রমাণ পাওয়া গেছে একাধিক তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে।
প্রবীণ হিতৈষী সংঘ ও জরাবিজ্ঞান প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনার জন্য ২০২২-২৩ অর্থবছরে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ ছিল ৫ কোটি ৪০ লাখ টাকা এবং সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ ১০ লাখ টাকা। কিন্তু ধারাবাহিক অনিয়ম ও দুর্নীতির দায়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় টাকা ছাড় দেয়নি। ফলে গত ১ বছর ধরে বেতন ও ভাতা পাচ্ছেন না বাইগামের ১১৭ কর্মকর্তা কর্মচারী। বেতন-ভাতা বন্ধ থাকায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন তারা।
এমতাবস্থায় নীয়মিত বেতন ভাতা ও কার্যনির্বাহী কমিটি দ্বারা বাইগাম পরিচালনার সিস্টেমটি বিলুপ্তি করে সরকারীকরণের দাবিতে আন্দোলনে নেমেছেন এসব কর্মকর্তা কর্মচারীরা। এ লক্ষ্যে তারা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, সমাজকল্যাণ মন্ত্রী, সমাজসেবা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, স্বাস্থ্য সচিব বরাবর স্মারকলিপি ও খোলা চিঠি দিয়েছেন।
আজ সোমবার দুপুর ১টার দিকে গিয়ে দেখা যায়, প্রবীণ হিতৈষী সংঘ ও জরাবিজ্ঞান প্রতিষ্ঠানের গেটের সামনে ব্যানার হাতে আন্দোলন করছেন কর্মকর্তা কর্মচারীরা। তারা বলেন, বাজারে আগুন, আর আমরা বেতন পাই না। যারা দুর্নীতি করেছে তদন্তে তাদের নাম ওঠে এসেছে, কিন্তু কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। আমরা তো কোনো অনিয়ম করিনি, নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছি। তাহলে আমরা কেনো শাস্তি পাবো। আমাদের পরিবারের সদস্যরা মানবেতর জীবনযাপন করছেন, আমরা নিয়মিত বেতন ভাতা চাই।
একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বাইগাম মূলত পরিচালিত হয় একটি কার্যনির্বাহী কমিটি দ্বারা। এই কমিটিতে যখন যারা দায়িত্বে ছিলেন তারাই নিয়োগ থেকে শুরু করে বিভিন্ন কেনাকাটায় অনিয়ম করেছেন এবং বিভিন্ন ফান্ডের টাকা তসরুপ করেছেন। যা সমাজসেবা অধিদফতর থেকে গঠিত একটা তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে ওঠে এসেছে।
ওই প্রতিবেদনে ‘অপ্রয়োজনে নিয়োগ, এফডিআর ভেঙে ৫ কোটি টাকা তসরুপ, বৈদ্যুতিক সাব-স্টেশন নির্মানে দুর্নীতি, কিডনি ডায়ালাইসিস মেশিং কেনায় অনিয়ম, বনভোজনে ৪৩ লাখ টাকা ব্যয় এবং হোটেল ইজারায় অনিয়ম-দুর্নীতি ও অনিয়মের বেশ কিছু প্রমাণ পাওয়া যায়।