বিশ্ব ভালোবাসা দিবসে নওগাঁর আদালতে প্রেম ও ভালোবাসার সম্পর্কে জড়িয়ে মামলার বিড়ম্বনায় পড়াদের ৩৬টি মামলার শুনানি একসঙ্গে হয়েছে। গতকাল বুধবার নওগাঁর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালত-২ এবং নওগাঁ শিশু আদালত-২ এর বিচারক মেহেদী হাসান তালুকদার একসঙ্গে এসব মামলা শুনানির এমন ব্যতিক্রমী দিন ধার্য করেছিলেন। এদিন তার আদালতে শুধু প্রেম-ভালোবাসা সংক্রান্ত মামলাগুলোরই শুনানি হয়।
আর শুনানির জন্য আদালতে আসা যুগলদের ‘লাভ ক্যান্ডি’ দিয়ে শুভেচ্ছা জানান রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) মকবুল হোসেন।
গতকাল যেসব মামলার শুনানি হয় তার মধ্যে একটি ছিল ভিন্ন ধর্মের দুজনের প্রেমের সম্পর্ককে কেন্দ্র করে হওয়া মামলা। কয়েক বছর আগে নওগাঁর পতœীতলা উপজেলার এক কিশোরী (১৭) সনাতন ধর্মের এক যুবকের (২১) সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ে। সে সময় ওই কিশোরীর বয়স ছিল ১৪ বছর। পড়ত স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ে। অল্প কিছুদিনের মধ্যেই মেয়েটির পরিবার এই সম্পর্কের কথা জানতে পারে। এ সম্পর্কে পরিবারের মত না থাকায় মেয়ে ও ছেলে দুজনই একসঙ্গে আত্মহত্যার সিদ্ধান্তও নিয়েছিল। পরে ২০২১ সালের ২০ জুন তারা পালিয়ে বিয়ে করে। এ ঘটনায় মেয়েটির বাবার করা অপহরণ মামলায় ছেলেটিকে গ্রেপ্তার করা হয়।
সাপাহার উপজেলার ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরী ২০২২ সালের ২২ জুলাই বাড়ি থেকে পালায় প্রেমিকের হাত ধরে। তাদের পালানোর প্রধান কারণ ছিল কিশোরী হিন্দু ধর্মাবলম্বী আর তার প্রেমিক আদিবাসী জাতিগোষ্ঠীর। এছাড়াও কিশোরীর অন্যত্র বিয়ে ঠিক করেছিল পরিবার। ছয়দিন পর পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে। এরপর কিশোরীর বাবার করা অপহরণ মামলায় প্রেমিককে কারাগারে পাঠানো হয়।
এমনই প্রেম সম্পর্কিত সব মামলার শুনানি হয় গতকাল নওগাঁর আদালতে। বিচারক মেহেদী হাসান তালুকদার সকাল ১১টায় এজলাসে বসে বিচারিক কার্যক্রম শুরু করেন। তিনি শুনানিতে উপস্থিত যুগলদের প্রেমে না জড়িয়ে নিজেদের ধর্মীয় অনুশাসন ও পিতামাতার আদেশ মেনে চলা, পড়াশুনা চালিয়ে যাওয়া, আত্মনির্ভরশীল হওয়া এবং শিক্ষিত হয়ে দেশ ও জাতির কল্যাণে কাজ করতে উদ্বুদ্ধ করেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) মকবুল হোসেন বলেন, ‘আজ ভিন্নমাত্রায় আদালত বসেছে। ট্রাইব্যুনালে অসম প্রেমে জড়ানো ও তা থেকে অভিভাবকদের অপহরণ এবং বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণের অভিযোগে করা মামলাগুলো আজ শুনানির জন্য রাখা হয়। বিচারক সংশ্লিষ্টদের পড়াশুনার পাশাপাশি ধর্মীয় মূল্যবোধ ও গুরুজনদের আদেশ-নিষেধ মেনে চলার উপদেশ দেন।’
নওগাঁ জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি রফিকুল ইসলাম বাচ্চু বলেন, ‘মামলাগুলো ভিন্ন ভিন্ন দিনে শুনানি করলে বিচারক মহোদয় সবাইকে একই উপদেশ দিতে পারতেন না। মামলাগুলো একইদিনে শুনানির উদ্যোগ নিয়ে ব্যতিক্রমী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।’