দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম বড় অর্থনীতির দেশ ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়লাভ করেছেন দেশটির বর্তমান প্রতিরক্ষামন্ত্রী জেনারেল প্রাবোয়ো সুবিয়ান্তো। ইন্দোনেশিয়ার সাবেক স্বৈরশাসক জেনারেল সুহার্তোর শাসনক্ষমতার অন্যরকম ক্ষমতাকেন্দ্র ছিলেন এই ব্যক্তি, যার রয়েছে ‘বিতর্কিত’ অতীত। গত বুধবার ভোটগ্রহণের পর আনুষ্ঠানিকভাবে এখনো কাউকে জয়ী ঘোষণা না করা হলেও জেনারেল সুবিয়ান্তোই যে প্রেসিডেন্ট হচ্ছেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম। আগের দুটি নির্বাচনে তিনি বর্তমান প্রেসিডেন্ট জোকো উইদোদো কাছে পরাজিত হলেও এবার তিনি পুরনো শত্রুর (উইদোদো) সমর্থন পেয়েছেন। এর বিনিময়ে উইদোদোর ছেলে জিবরান রাকাবুমিংকে রানিংমেট করেছিলেন তিনি। ছেলের রাজনৈতিক উত্থান এবং নিজের রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে উইদোদো নিজ দল ‘পিডিআইপি’ প্রার্থীকে সমর্থন করেননি। আগামী অক্টোবর নাগাদ সুবিয়ান্তো দায়িত্বগ্রহণ করবেন।
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচের কর্মকর্তা আন্দ্রিয়াস হারসোনো বলেন, ‘তার (সুবিয়ান্তো) আচরণ ও প্রবৃত্তি হলো জেনোফোবিক (ভিন্নদের প্রতি ঘৃণাপোষণ) অথবা কর্তৃত্ববাদী।’ তবে ৭২ বছর বয়সী এই নেতার নির্বাচনী প্রচার থেকে অনেকে বলছেন, হয়তো তিনি পরিবর্তন হয়েছেন।
সুবিয়ান্তো ইন্দোনেশিয়ার মিলিটারি একাডেমি থেকে ১৯৭৪ সালে স্নাতক সম্পন্ন করেন এবং পরে প্রায় তিন দশক ধরে দেশটির সামরিক বাহিনীর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ১৯৭৬ সালে তিনি দেশটির সামরিক বাহিনীর বিশেষ শাখা ‘কোপাসাস’-এ যোগ দেন। বর্তমান স্বাধীন দেশ পূর্ব তিমুরের স্বাধীনতাকামীদের দমন করতে সেখানে এই বাহিনীর কমান্ডার ছিলেন তিনি। পূর্ব তিমুরে আশি থেকে নব্বইয়ের দশকে ধারাবাহিক মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় অভিযুক্ত তিনি। আবার ব্যক্তিগত জীবনে জেনারেল সুহার্তোর মেয়েজামাই হওয়ার কারণে শ্বশুরের স্বৈরাচারী নীতির অন্যতম নির্ভরশীল হাতিয়ার ছিলেন তিনি। তার নেতৃত্বে কোপাসাস সেনারা সুহার্তোবিরোধীদের হত্যা ও গুমের সঙ্গে জড়িত ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। ২০২০ সাল পর্যন্ত তিনি যুক্তরাষ্ট্রে নিষিদ্ধ ছিলেন। ১৯৯৮ সালে ২৩ জন সুহার্তোবিরোধী আন্দোলনকর্মীকে অপহরণ করে কোপাসাস যার মধ্যে ১৩ জন এখনো নিখোঁজ। তিনি এখনো এই ঘটনায় বিচারের মুখোমুখী হননি এবং এ নিয়ে কখনো কথাও বলেন না। বিতর্কিত কর্মকান্ডের কারণে ১৯৯৮ সালে তাকে সামরিক বাহিনী থেকে বরখাস্ত করা হয়।