স্বাধীন ফিলিস্তিন প্রতিষ্ঠায় আরব-মার্কিন উদ্যোগ

মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের নেতৃত্বাধীন প্রশাসন এবং মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন অংশীদারদের একটি গোষ্ঠী ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য দীর্ঘ সংকট নিরসনে একটি বিস্তারিত ও বিন্যস্ত পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে। এতে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে নির্দিষ্ট সময়সীমা বর্ণিত থাকবে। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে এ সংক্রান্ত ঘোষণা আসতে পারে।

নির্ভরযোগ্য সূত্রের ভিত্তিতে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের মধ্যে সমঝোতার এই জরুরি প্রচেষ্টাটি চলতি গাজা যুদ্ধে বিরতি প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের হাতে বন্দি থাকা ইসরায়েলি বন্দিদের মুক্তির সঙ্গে জড়িত। জিম্মি মুক্তি নিয়ে আলোচনাটি চলছে যুক্তরাষ্ট্র, কাতার ও মিসরের নেতৃত্বে।

যুক্তরাষ্ট্র ও আরব কর্মকর্তারা জানান, প্রাথমিকভাবে কমপক্ষে ছয় সপ্তাহের ‘সম্ভাব্য’ একটি যুদ্ধবিরতির মধ্যে ওই প্রস্তাব জনসমক্ষে তুলে ধরা হবে। এরপর এটি বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা চাওয়া হবে সংশ্লিষ্টদের যেখানে অন্তর্বর্তীকালীন ফিলিস্তিন সরকার তৈরির পথনকশা অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

আগামী ১০ মার্চ থেকে মুসলিমদের পবিত্র রমজান মাস শুরু হচ্ছে; এর আগে জিম্মি মুক্তি নিয়ে একটি চুক্তিতে পৌঁছার আশা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পরিকল্পনাকারীরা। তারা বলছেন, পুরো বিষয়টির জন্য গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে জিম্মিদের মুক্তির চুক্তি।

মিসর, জর্ডান, কাতার, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) এবং ফিলিস্তিনি প্রতিনিধিদের মধ্যকার আলোচনাটি চূড়ান্ত চুক্তিতে রূপ দিতে এখনো কাজ বাকি। শঙ্কা জেগেছে, রাফাহতে গাজার স্থল অভিযান শেষ পর্যন্ত এই শান্তি অর্জনের প্রচেষ্টার সঙ্গে জিম্মি মুক্তির আলোচনাকে ভেস্তে দেয় কি না। উল্লেখ্য, গতকাল বৃহস্পতিবার সংবাদমাধ্যমগুলো জানায়, রাফাহতে ব্যাপক বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। আবার এদিকে লেবানন সীমান্তে হামলা চালিয়ে শিশুসহ ১১ জনকে হত্যা করেছে ইসরায়েলি বাহিনী।

এই আলোচনার বড় হাতি হচ্ছে ইসরায়েল, যেখানে তার সরকারের মত-দ্বিমতের ব্যাপার রয়েছে। বিশেষ করে যা আলোচনা হচ্ছে তা নিয়ে ইসরায়েল কোন অবস্থান গ্রহণ করবে তাই ভাবার বিষয়। পশ্চিম তীর থেকে অবৈধ বসতি স্থাপনকারীদের প্রত্যাহার, যদি সবাইকে না প্রত্যাহার সম্ভব হয় তবে পশ্চিম তীরে ইহুদিদের নিরাপত্তা, পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী হিসেবে বিবেচনা, গাজার পুনর্গঠন এবং গাজা ও পশ্চিম তীরের যৌথ নিরাপত্তা ও সরকার পরিকল্পনার মতো বিষয়গুলো নিয়ে ইসরায়েল কেমন মনোভাব ব্যক্ত করে, তাই দেখার বিষয়। তবে আশা করা হচ্ছে, ওসবের বিনিময়ে ইসরায়েলও সম্ভবত নিজের নিরাপত্তা নিশ্চয়তা চাওয়ার পাশাপাশি সৌদি আরব ও অন্য আরব রাষ্ট্রগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণের দাবি জানাতে পারে।

এক্ষেত্রে বলে রাখা ভালো, ইসরায়েলের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এমন কোনো ইঙ্গিত দেননি যে, তিনি হামাসের সঙ্গে জিম্মিদের নিয়ে চুক্তি করতে আগ্রহী কিংবা তিনি ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের বিষয়ে নিজের বিরোধিতা পরিত্যাগের কথাও জানাননি।

সম্প্রতি মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন সৌদি আরব সফর করেছেন। এরপর কাতারের প্রধানমন্ত্রীর পাশাপাশি জর্ডানের বাদশাহ দ্বিতীয় আব্দুল্লাহ ওয়াশিংটন সফর করেন। গত সপ্তাহে কাতারের দোহায় গিয়ে ব্লিঙ্কেন যা বলেছিলেন তার ওপর জোর দেন ওই দুই আরব নেতা। দোহায় ব্লিঙ্কেন ‘ইসরায়েলের পাশে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের একটি বাস্তবসম্মত, সময়নির্দিষ্ট ও দৃঢ় পরিকল্পনার’ জন্য ‘বস্তুগত ও ধারাবাহিক সব পদক্ষেপ’ গ্রহণের কথা বলেন। এ সময় তিনি জানান, এ সংক্রান্ত বিষয়গুলো দ্রুতই আরও সুচারুভাবে দৃষ্টিসীমায় আসছে। 

ফিলিস্তিনি ও ইসরায়েলের মধ্যকার কয়েক দশকের সংকট সমাধানের জন্য নানা উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা আলোর মুখ দেখেনি। গত ৭ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া গাজা যুদ্ধ  সেই সমস্যার ওপর নতুন করে আলো ফেলেছে। এখন পর্যন্ত এই যুদ্ধে গাজায় ২৮ হাজারের বেশি মানুষকে হত্যা করেছে ইসরায়েল। ব্যাপক বেসামরিক প্রাণহানির মধ্যে পশ্চিমা বিশ্বের অনেক দেশও দুই রাষ্ট্র সমাধানের কথা বলছেন।

ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড ক্যামেরন সম্প্রতি দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানে লন্ডনের সমর্থনের কথা জানান। আবার ইউরোপীয় কূটনীতিকরাও ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতিদানের বিষয়ে ইতিবাচক অবস্থান নেওয়ার কথা বলা শুরু করেছেন।