পাঠক কমেনি বরং বাড়ছে

মনি হায়দার। কথাসাহিত্যিক। টিভি নাট্যকার। জিটিভিতে উপস্থাপনা করছেন শিল্পবাড়ি, আট বছর ধরে। বিটিভির কথাসাহিত্যের অনুষ্ঠান ‘কথাঅমৃত’ উপস্থাপনা করছেন পাঁচ বছর। ইতিমধ্যে তিন শোর বেশি গল্প লিখেছেন। লিখছেন উপন্যাস। লেখালেখির শুরু থেকেই শিশু সাহিত্য রচনা করে আসছেন। কথা বলেছেন  তাপস রায়হান বইমেলায় কী কী বই এসেছে?

মনি হায়দার : বইমেলায় এরই মধ্যে আমার চারটি বই এসেছে। আরও আসবে। ১৯৫২ সালে ভাষা আন্দোলনে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র কল্যাণী রায় চৌধুরী ওরফে মমতাজ বেগমকে নিয়ে উপন্যাস ‘ফাগুনের অগ্নিকণা’।  বইটি প্রকাশ করেছে বেঙ্গল পাবলিকেশন্স। ত্রিশটি গল্প নিয়ে পাঞ্জেরী পাবলিকেশন থেকে এসেছে পাতলাদা গল্পসমগ্র। বেঙ্গল বুকস থেকে এসেছে আঠারো বছর পর একদিন  নামে গল্পগ্রন্থ। ক্রিকেট নিয়ে কিশোর উপন্যাস অলরাউন্ডার এসেছে ছায়া প্রকাশন থেকে।

আপনার বই পাঠককে কেন পড়তে বলবেন?

মনি হায়দার : আমি কখনোই কোনো পাঠককে আমার বই পড়ার জন্য বলি না। কারণ পাঠক লেখকের বিচারক। সেই পাঠক যখন স্বতঃস্ফূর্ত ক্রেতা হয়ে বই কেনেন, পড়েন, প্রতিক্রিয়া রাখেন। একজন কথাসাহিত্যিক হিসেবে সেটাই শ্রেষ্ঠ অর্জন। আনন্দ অনুভব করছি যে আমার অনেক পাঠক তৈরি হয়েছে।

বই পাঠকের কাছে পৌঁছানোর জন্য কোন ধরনের কৌশল অবলম্বন করেন?

মনি হায়দার : কোনো কৌশল আমি ব্যক্তিগতভাবে অবলম্বন করি না। ফেসবুকে পোস্ট দিই, যা সব লেখক দিয়ে থাকেন। কখনো কখনো ভিডিও তৈরি করে পোস্ট দিই এ পর্যন্তই। কারণ পাঠকরাই এর বাহকের কাজ করে থাকেন।

আমাদের বই প্রকাশ, প্রচার, আলোচনা ফেব্রুয়াারিকেন্দ্রিক। এ বিষয়ে আপনার মতামত?

মনি হায়দার : এটা দুঃখজনক।  বই কেন কেবলমাত্র এই মাসে প্রকাশিত হবে? আমরা কি শুধু ফেব্রুয়ারি মাসে বাংলা ভাষায় গল্প উপন্যাস কবিতা লিখি? এগারো মাস কি নিশ্চুপ থাকি? এই সীমাবদ্ধ গন্ডি থেকে বের হওয়া দরকার। আশার প্রদীপ এখানে যে অনেক প্রকাশক এখন বারো মাস বই প্রকাশ করছেন।

বইয়ের পাঠক কমেছে না বেড়েছে?

মনি হায়দার : পাঠক কমবে কেন? বাড়ছে। নইলে প্রকাশকরা প্রতি বছর মেলায় আসেন কেন? দেশ-বিদেশে ভ্রমণ করেন কোন সূত্রে? আর সরকারও কোটি কোটি টাকার বই কিনছেন। বইয়ের পাঠক কমছে এটা ভাঁওতাবাজি।

বইমেলার আয়োজন ও পুরস্কার নিয়ে সার্বিকভাবে বাংলা একাডেমির ভূমিকা কেমন দেখছেন?

মনি হায়দার : একজন লেখক হিসেবে বলছি, এবারের বইমেলা আমার কাছে অগোছালো মনে হচ্ছে। আর সবচেয়ে দুঃখজনক ব্যাপার, বইমেলায় চায়ের স্টল থাকে না। আমাদের ব্রাজিলের কফি খাওয়ায়। বাথরুমের পরিস্থিতি জঘন্য। বাংলা একাডেমির পুরস্কার সব সময় বিতর্ক তৈরি করে। সুতরাং...

বইমেলাকে কীভাবে লেখক-পাঠকঘনিষ্ঠ করা যায়?

মনি হায়দার : বইমেলায় এটাই সবচেয়ে বেশি উপেক্ষিত। লেখক-পাঠক-প্রকাশক, কোথায় বসে গল্প করবেন, আড্ডা দেবেন, পরবর্তী বইমেলার বই সম্পর্কে আলোচনা করবেন এর কোনো নির্দিষ্ট জায়গা নেই। মেলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি অনুরোধ লেখক-পাঠক-প্রকাশক মিলে আড্ডা দেওয়া যায়, এমন পরিবেশ ও পরিস্থিতি তৈরি করুন। এর ফলে সব পক্ষই লাভবান হবে; বিশেষ করে চিন্তা ও মননে একজন পাঠক সমৃদ্ধ হবেন।