দ্যুতি ছড়াচ্ছেন তরুণ লেখকরা

প্রথিতযশা লেখকদের পাশাপাশি পাঠকপ্রিয় হয়ে উঠেছেন তরুণ লেখকদের বই। ফিকশন, নন-ফিকশন দুই মাধ্যমেই দ্যুতি ছড়াচ্ছেন তরুণরা। এবারের মেলায় কয়েকটি প্রকাশনীতে তরুণ লেখকদের বই রয়েছে বেস্ট সেলারের তালিকায়। কারও কারও বই ইতিমধ্যে কয়েকটি সংস্করণ শেষ হয়েছে।

জনপ্রিয় তরুণ কথাসাহিত্যিক সাদাত হোসাইন। এবার তার লেখা দুটি নতুন বই পাঠকদের মধ্যে উন্মাদনা সৃষ্টি করেছে। এর মধ্যে অন্যপ্রকাশ থেকে আসা ‘আগুনডানা মেয়ে’ বইটি রয়েছে এই প্রকাশনীর বেস্ট সেলার তালিকায়। এ ছাড়া অন্যধারা থেকে প্রকাশিত ‘তোমার জন্য দাঁড়িয়ে ছিল বলে’ বেশ সাড়া ফেলছে।

নিজের বই প্রসঙ্গে সাদাত হোসাইন বলেন, ‘আমার আজ থেকে ১০ বছর আগে যে বই প্রকাশিত হয়েছে, সাত বছর আগে যেটি প্রকাশিত হয়েছে, সেটিও এখনো সমানভাবে বিক্রি হচ্ছে। এটি একজন লেখকের জন্য বড় প্রাপ্তি যে তার বইগুলো পুরনো হয়ে যাচ্ছে না, সেগুলো প্রাসঙ্গিক থাকছে। এবার প্রকাশিত হওয়া “তোমার জন্য দাঁড়িয়ে ছিলাম বলে” এবং “আগুনডানা পাখি” বই দুটিও পাঠকের অবারিত ভালোবাসা পেয়ে যাচ্ছি। পাঠকের প্রতি অনেক বেশি কৃতজ্ঞতা যে তারা বইগুলো ভালোবেসে গ্রহণ করছে।’

তরুণ লেখকদের মধ্যে কিংকর আহসান, মৌরি মরিয়ম, সোহাইল রহমান, অন্তিক মাহমুদ, স্বকৃত নোমান, ফারজানা ববি, রাব্বি হোসেন, লামিয়া হান্নান স্নেহা, মালিহা তাবাসসুম, সালমান হাবীব, সালমা জাহান সনিয়াসহ অনেকের বই এবারও পাঠকপ্রিয়তা পেয়েছে। অন্যপ্রকাশ, অন্যধারা, অবসর, সময়, কাকলী, তাম্রলিপিসহ অপেক্ষাকৃত নতুন প্রকাশকরাও তরুণ লেখকদের বই প্রকাশ করছেন।

রম্য লেখক হিসেবে বেশ জনপ্রিয় তরুণ লেখক সোহাইল রহমান। নয়া উদ্যোগ থেকে আসা ‘ও বন্ধু লাল গোলাপী’ এবং অন্যপ্রকাশ থেকে প্রকাশিত হওয়া ‘মিথ্যা ঘটনা অবলম্বনে’ বই দুটি আছে পাঠকদের আগ্রহের শীর্ষে। দেশ রূপান্তরকে তিনি বলেন, ‘প্রথিতযশা লেখকদের পাশাপাশি আমাদের বইয়েও পাঠকরা আগ্রহ দেখাচ্ছেন, কিনছেন বিষয়টি আমাদের জন্য আনন্দের। একসময় যাদের লেখা পড়ে আমরা লেখালেখিতে এসেছি, তাদের পাশে এখন আমরা লেখক হিসেবে পরিচিতি পাচ্ছি, এটি অনেক বেশি আনন্দের। এই কৃতিত্ব অবশ্যই পাঠকদেরও তারা পুরাতন লেখকদের পাশাপাশি আমাদের বইও পড়ছেন। একই সঙ্গে প্রকাশকরাও তরুণ লেখকদের সুযোগ করে দিচ্ছেন।’

জনপ্রিয় থ্রিলার লেখক ফারজানা ববি। ইতিমধ্যে তার পাঁচটি বই প্রকাশিত হয়েছে। এবারের মেলায় অনন্যা প্রকাশনী থেকে প্রকাশিত হওয়া স্টারডম পাঠকপ্রিয়তা পেয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমি থ্রিলার লিখি। এবারের বইমেলায় অনন্যা প্রকাশনী থেকে এসেছে আমার পঞ্চম বই থ্রিলার উপন্যাস “স্টারডম”। শিগগিরই বইয়ের দ্বিতীয় মুদ্রণ আসবে। এত এত প্রথিতযশা লেখকের ভিড়ে নিজের একটা আলাদা পাঠক তৈরি হওয়া নিঃসন্দেহে আনন্দের। লেখক হিসেবে সবাই চিনছেন, জানছেন, সমীহ করছেন, আগ্রহ নিয়ে কথা বলছেন, বইয়ের প্রতি আগ্রহী হচ্ছে এটাই প্রাপ্তি।’

আলো ছড়াচ্ছেন আরেক তরুণ কথাসাহিত্যিক রাব্বি হোসেন। এবারের মেলায় ঘাসফুল থেকে প্রকাশিত হওয়া মেহুসহ তার তিনটি বই বেশ সাড়া ফেলেছে। তরুণ লেখকদের দ্রুতি ছড়ানোর বিষয়ে তিনি বলেন, ‘প্রথিতযশা লেখকের পাশাপাশি পাঠকরা তরুণ লেখকদের বই পড়ছেন, গঠনমূলক আলোচনা করছেন, এটা ভালো লাগার বিষয়। প্রতিবছর বইমেলায় অনেক নতুন লেখক আসছেন। তাদের মধ্য থেকেই কেউ না কেউ একসময় লেখার জগতে ভালো করবেন। আমার তিনটি বই প্রকাশিত হয়েছে, পাঠকরা সাড়াও দিচ্ছেন ভালো। তরুণ লেখক হিসেবে এটা আমার কাছে অনুপ্রেরণা।’

অন্যপ্রকাশের প্রকাশক মাজহারুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আগামী দিনে নেতৃত্ব দেবেন আজকের তরুণরাই। আমরা সব সময় তরুণদের উৎসাহিত করি। তারুণ্যকে আমরা আলাদাভাবে গুরুত্ব দিয়ে থাকি। এই তরুণরাই একসময় আমাদের শিল্প-সাহিত্য ও সংস্কৃতিকে নেতৃত্ব দেবেন। এই তরুণরাই এক দিন বাংলা সাহিত্যকে বিশ্বদরবারে নিয়ে যাবেন। আমাদের প্রকাশনীতে বেস্ট সেলারের তালিকায় থাকে তরুণদের লেখকদের বই। এবারও একঝাঁক তরুণ লেখকের বই প্রকাশ করেছি আমরা, যাদের বই কিনতে হুমড়ি খেয়ে পড়েন পাঠকরা।’

বিদ্যাপ্রকাশের প্রকাশক মজিবর রহমান খোকা বলেন, ‘আমরা সব সময় নতুন লেখকদের সুযোগ করে দিতে চেষ্টা করি, যদি তার মধ্যে নতুনত্ব থাকে এবং সৃজনশীলতা থাকে। এখন পাঠকের চেয়ে লেখক বেশি। গড়পড়তা সবার বই না করে যাদের ভবিষ্যৎ আছে তাদের বই করি আমরা।’

গতকাল শনিবার ছিল অমর একুশে বইমেলা-২০২৪-এর ১৭তম দিন। মেলা শুরু হয় বেলা ১১টায় এবং চলে রাত ৯টা পর্যন্ত। বেলা ১১টা থেকে ১টা পর্যন্ত মেলায় ছিল শিশুপ্রহর।

গতকাল নতুন বই এসেছে ১৭১টি। বিকেল ৪টায় বইমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় স্মরণ শহীদ সাবের এবং স্মরণ : পান্না কায়সার শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন যথাক্রমে মনির ইউসুফ এবং মামুন সিদ্দিকী। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন গিয়াস উদ্দিন, রতন সিদ্দিকী এবং শমী কায়সার। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রামেন্দু মজুমদার।

আজকের সময়সূচি : আজ ১৮ ফেব্রুয়ারি রবিবার অমর একুশে বইমেলার ১৮তম দিন। মেলা শুরু হবে বিকেল ৩টায় এবং চলবে রাত ৯টা পর্যন্ত।

আলোচনা অনুষ্ঠান : বিকেল ৪টায় বইমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে স্মরণ : জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন স্বরোচিষ সরকার। আলোচনায় অংশগ্রহণ করবেন লুভা নাহিদ চৌধুরী এবং এম আবদুল আলীম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন কামাল চৌধুরী।