নীলফামারীর ডিমলায় পঞ্চম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রী ধর্ষণের শিকার হলেও তার পরিবার হত্যার হুমকি পেয়ে মামলা করা থেকে বিরত রয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। বালাপাড়া ইউনিয়নের বালাপাড়া নিউ মডেল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি মনসার আলী (৬৫) ধর্ষণের ঘটনা ঘটিয়েছেন বলে দাবি ভুক্তভোগীর পরিবারের।
ওই স্কুলছাত্রীর দিনমজুর বাবা বলেন, ‘আমি গরিব মানুষ। মামলা করলে আমাদের আরও ক্ষতি হতে পারে। এমনকি আমাদের প্রাণেরও ক্ষতি হতে পারে। তারা অনেক প্রভাবশালী।’
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর পরিবার জানায়, গত ১২ ফেব্রুয়ারি বাবার দিনমজুরির পাওনা টাকা আনতে প্রতিবেশী এক ব্যক্তির বাড়িতে যায় ওই স্কুলছাত্রী। সেখান থেকে ফেরার পথে তাকে ধর্ষণ করেন মনসার আলী এবং এ ঘটনা কাউকে না জানাতে ভয়ভীতি দেখান। পরে স্কুলছাত্রী বাড়িতে ফিরে তার দাদিকে বিষয়টি জানায়। ঘটনার পর থেকে মনসার আলী পলাতক। স্কুলছাত্রীর বাবা স্থানীয় সমাজপতিদের কাছে মৌখিকভাবে বিচার চাইলেও থানায় মামলা করতে পারেননি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন এলাকাবাসী বলেন, মনসার আলী প্রভাবশালী হওয়ায় স্কুলছাত্রীর পরিবার ভয়ে আছে। একটি চক্র সালিশের মাধ্যমে মীমাংসা করিয়ে দেওয়ার কথা বলে মামলা করতে বাধা দিচ্ছে। তাই এলাকাবাসীও তেমন কিছু করতে পারছে না।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মামুন ইসলাম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ওই স্কুলছাত্রীর বাবা মৌখিকভাবে বিষয়টি আমাকে জানিয়েছেন। ঘটনা শোনার পর আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছি।’
ডিমলা থানার ওসি দেবাশীষ রায় দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এ ব্যাপারে কোনো অভিযোগ পাইনি। তবে বিভিন্ন মাধ্যমে ওই স্কুলছাত্রী ও তার বাবার সঙ্গে পুলিশ কথা বলেছে। ভুক্তভোগী পরিবারকে সব ধরনের আইনি সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। তারা লিখিত অভিযোগ দিলে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।’
এদিকে ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে ষষ্ঠ শ্রেণিপড়ুয়া এক মাদ্রাসাছাত্রীকে (১৫) ধর্ষণের অভিযোগে মামলা হয়েছে। গত শুক্রবার রাতে বোয়ালমারী থানায় মামলাটি করেন ওই ছাত্রীর খালু।
মামলার এজাহারে বলা হয়, ওই ছাত্রীর মা ১৪ বছর আগে মারা যান এবং বাবা দুবাই প্রবাসী। এ কারণে মেয়েটি বোয়ালমারী উপজেলার চতুল ইউনিয়নের বাইখীর পশ্চিমপাড়া গ্রামে মামার বাড়িতে থাকত। সে পাশের বনচাকি মাদ্রাসায় ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ে। গত ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল ১০টার দিকে একই গ্রামের রফিক মৃধার ছেলে মো. মারজুম মৃধা (৪২) ওই ছাত্রীকে আমড়া ও কামরাঙা দেওয়ার কথা বলে ফুসলিয়ে তার বাড়িতে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে।
স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসা করার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে মামলা করা হয়।
প্রতিবেদনটিতে তথ্য দিয়ে বোয়ালমারী (ফরিদপুর) সংবাদদাতা