মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং এর রূপকার জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবন, কর্ম ও রাজনৈতিক দর্শন নিয়ে নতুন-পুরনো মিলে অমর একুশে বইমেলায় এসেছে অসংখ্য বই। প্রায় প্রতিটি স্টল ও প্যাভিলিয়নে শোভা পাচ্ছে এসব বই। প্রকাশকরা বলছেন, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক বইয়ের পাঠক দিন দিন বাড়ছে। মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক গ্রন্থের সবচেয়ে বড় ক্রেতা শিক্ষাবিদ ও গবেষকরা। তরুণ প্রজন্মের মাঝে বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধকে নিয়ে জানার আগ্রহ বাড়ছে।
বইমেলায় গতকাল ১৮তম দিন পর্যন্ত নতুন বই এসেছে ১ হাজার ৭৯৭টি। এর মধ্যে মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধুর ওপর বই এসেছে প্রায় ৫০টি। নতুন-পুরনো মিলে এ সংখ্যাটি হাজারের ওপরে। শুধু আগামী প্রকাশনী থেকেই মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধুর ওপর নতুন বই এসেছে ২৪টি। প্রথমা প্রকাশনী থেকে ‘১৯৭১ বাংলাদেশ সৃষ্টির বৈশ্বিক ইতিহাস’, ‘একাত্তরের দিনপঞ্জি’ এবং ‘মুক্তিযুদ্ধে শহীদ বুদ্ধিজীবী’ নামে তিনটি বই এসেছে। মাওলা ব্রাদার্সে নতুন দুটিসহ এ বিষয়ক বই আছে প্রায় ১০০টি এবং অক্ষর প্রকাশনীতে মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধুবিষয়ক ২০টি বই রয়েছে।
আগামী প্রকাশনীতে বঙ্গবন্ধুবিষয়ক প্রায় ২০০ এবং মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক বই আছে ২৫০-এর অধিক। নতুন বইয়ের মধ্যে রয়েছে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের লেখা ‘এগিয়ে যাবে বাংলাদেশ’, ড. সৈয়দ আনোয়ার হোসেনের ‘শেখ মুজিব : বঙ্গবন্ধু থেকে বিশ্ববন্ধু’, ড. মোহাম্মদ জহুরুল ইসলামের ‘মুক্তিযুদ্ধে বিদেশী বন্ধুরা’, নাসের হোসেনের ‘সর্বকালের বঙ্গবন্ধু’। আগামী প্রকাশনীর স্বত্বাধিকারী ওসমান গণি বলেন, মুক্তিযুদ্ধ আর মুক্তচেতনা দুইয়ের প্রত্যয়ে আমাদের প্রকাশনা। তাই মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং বঙ্গবন্ধুর বই সবচেয়ে বেশি আমাদের প্যাভিলিয়নে পাওয়া যায়। এসব বইয়ের প্রতি মানুষের আগ্রহও অনেক বেশি।
অনিন্দ্য প্রকাশ থেকে এসেছে বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধের ওপর ৭টি নতুন বই। এর মধ্যে আহমদ রফিকের ‘একুশ থেকে একাত্তর’, মোহিত কামাল সম্পাদিত ‘অক্ষরস্রোতে বঙ্গবন্ধু’, সুরমা জাহিদের ‘বীরাঙ্গনাদের ভয়াবহ স্মৃতিকথা’ বেশি বিক্রি হচ্ছে বলে জানান বিক্রয়কর্মী চন্দন কুমার। তিনি বলেন, যাদের মুক্তিযুদ্ধ এবং বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে জানার আগ্রহ তারা বইগুলো কিনছেন; বিশেষ করে তরুণদের আগ্রহটা চোখে পড়ার মতো।
মাওলা ব্রাদার্সে নতুন-পুরনো মিলে প্রায় ১০০টি বই রয়েছে বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধকে নিয়ে। মাওলা ব্রাদার্স প্রকাশনীর সেলস ইনচার্জ তানজিম রহমান তামিম বলেন, ‘এবার এ-সংক্রান্ত নতুন বই এসেছে ২টি। আমাদের প্রকাশনীতে বঙ্গবন্ধু এবং মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক বই গুরুত্ব দেওয়া হয়। সাড়াও বেশ ভালো।’
কথাপ্রকাশের বিক্রয় প্রতিনিধি রিয়াজ ইসলাম বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের বইয়ের চাহিদা ভালো। কিশোর থেকে বৃদ্ধ বা প্রবীণ সবাই বইগুলো কিনছে। এর মধ্যে হাসিনা আহমেদের ‘১৯৭১ মুক্তিযুদ্ধের পত্রপত্রিকা’, সেলিনা হোসেনের ‘পূর্ববঙ্গ থেকে বাংলাদেশ’, সালেক খোকনের ‘৭১ এর আকরগ্রন্থ’, ‘১৯৭১ খেতাবপ্রাপ্ত ত্রিশ বীর’, মিল্টন কুমার দেবের ‘১৯৭১ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহিদ বুদ্ধিজীবী’ এই বইগুলো বেশি বিক্রি হচ্ছে।
গতকাল রবিবার ছিল অমর একুশে বইমেলার ১৮তম দিন। মেলা শুরু হয় বিকেল ৩টায় এবং চলে রাত ৯টা পর্যন্ত। গতকাল নতুন বই এসেছে ৮৩টি। বিকেল ৪টায় বইমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় স্মরণ : জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন স্বরোচিষ সরকার। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন লুভা নাহিদ চৌধুরী এবং এম আবদুল আলীম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা ও সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা কবি কামাল চৌধুরী।
সভাপতির বক্তব্যে কামাল চৌধুরী বলেন, জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান বহুমাত্রিক ও বর্ণাঢ্য জীবনযাপন করেছেন। জীবনব্যাপী তিনি বাঙালির মুক্তি ও অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্রের স্বপ্ন দেখেছেন এবং এই স্বপ্ন আমাদের সবার মাঝে সঞ্চারিত করেছেন। তিনি তার পাণ্ডিত্য, জ্ঞান ও কর্মের মধ্য দিয়ে তরুণ সমাজকে পথ দেখাবেন।
আজকের সময়সূচি : আজ ১৯ ফেব্রুয়ারি সোমবার অমর একুশে বইমেলার ১৯তম দিন। মেলা শুরু হবে বিকেল ৩টায় এবং চলবে রাত ৯টা পর্যন্ত। আলোচনা অনুষ্ঠান : বিকেল ৪টায় বইমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে স্মরণ : হাসান আজিজুল হক শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন মোজাফ্ফর হোসেন। আলোচনায় অংশগ্রহণ করবেন ফারুক মঈনউদ্দীন এবং মহীবুল আজিজ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন অধ্যাপক ভীষ্মদেব চৌধুরী।