ইসরায়েলি দখলদারির বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আদালতে শুনানি

প্রায় ছয় দশক ধরে ফিলিস্তিনি ভূখ-ে দখলদারি চালিয়ে আসছে ইসরায়েল। গাজায় ইহুদিবাদী দেশটির আগ্রাসনের মধ্যেই এ দখলদারির বৈধতা নিয়ে গতকাল সোমবার জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) ঐতিহাসিক শুনানি শুরু হয়েছে। নেদারল্যান্ডসের ‘দ্য হেগ’ শহরে আইসিজে আদালতে সপ্তাহব্যাপী এ শুনানি কার্যক্রম শুরু হয়। এর মধ্যে আজ মঙ্গলবার জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে গাজার যুদ্ধ বন্ধের একটি প্রস্তাব আসতে পারে যেখানে ইসরায়েলের পক্ষে ‘ভেটো (আমি ইহা মানি না)’ ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। আবার রোজার আগে জিম্মিদের না ছাড়লে রাফাহ শহরে আক্রমণের হুমকি দিয়েছে ইসরায়েল।

এ মামলাটি গাজায় চলমান যুদ্ধে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আইসিজেতে দক্ষিণ আফ্রিকার দায়ের করা গণহত্যার মামলা থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন। এ মামলায় ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ১৯৬৭ সাল থেকে পশ্চিম তীর, গাজা ও পূর্ব জেরুজালেমে দখলদারির অভিযোগ আনা হয়েছে। ফিলিস্তিনিরা একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্য তিনটি এলাকাই ফিরে পেতে চায়।

শুনানিতে প্রথম দিনে ফিলিস্তিনের প্রতিনিধি হিসেবে ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষ নিজ দেশের ইতিহাস ও পটভূমি তুলে ধরে এবং ইসরায়েলের দখলদারি ও আগ্রাসনের চিত্র উপস্থাপন করেন। ফিলিস্তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী রিয়াদ আল-মালিকি বলেন, ১৯৪৭ সালের ফিলিস্তিনিদের ইচ্ছাকে উপেক্ষা করেই ফিলিস্তিনকে দ্বিখ-িত করেছিল জাতিসংঘ।

শুনানিতে তিনি ইসরায়েলের ক্রমাগত দখলদারির উদ্দেশ্য, ফিলিস্তিনের সম্পূর্ণ অন্তর্ধান এবং ফিলিস্তিনি জনগণের ধ্বংস অগ্রহণযোগ্য এবং অমার্জনীয় বলে জানান। টানা ছয় দিন শুনানির জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে অর্ধশতাধিক দেশ অংশগ্রহণ করবে। যদিও মামলাটি ইসরায়েল ও হামাস যুদ্ধের পটভূমিতে করা হয়েছে। তবে এটি পশ্চিম তীর, গাজা এবং পূর্ব জেরুজালেমে ইসরায়েলের উন্মুক্ত দখলদারির ওপরও আলো ফেলবে।

গাজায় অবিলম্বে মানবিক যুদ্ধবিরতি কার্যকর করার বিষয়ে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে আলজেরিয়ার আনা এক প্রস্তাব নিয়ে আজ মঙ্গলবার ভোটাভুটি হওয়ার কথা রয়েছে। তবে ভোটাভুটিতে ভেটো দেওয়া হবে বলে জানিয়ে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

ওই প্রস্তাবের খসড়ায় মানবিক যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা ছাড়াও বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষার পাশাপাশি ফিলিস্তিনিদের জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতের বিরুদ্ধে কথা বলা হয়েছে।

জাতিসংঘে মার্কিন রাষ্ট্রদূত লিন্ডা থমাস-গ্রিনফিল্ড এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘কয়েক মাস ধরে জিম্মি মানুষের মুক্তির বিষয়ে চুক্তি করতে কাজ করে যাচ্ছে ওয়াশিংটন। এটা বাস্তবায়িত হলে অন্তত ছয় সপ্তাহের জন্য শান্তি প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হবে। তখনই আমরা স্থায়ী শান্তির পথ খুঁজতে পারব।’ তিনি আরও বলেন, আরব দেশগুলোর বানানো খসড়া প্রস্তাবটি ফলপ্রসূ হবে না বলে মনে করছে যুক্তরাষ্ট্র। ভোটাভুটি হলে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এতে ভেটো দেওয়া হবে।

ওদিকে ইসরায়েল বলেছে, ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস জিম্মিদের আগামী রমজান মাসের আগে ছেড়ে না দিলে রাফাহ শহর আক্রমণ করবে তেল আবিব।