বর্তমানে বিশ্ববাসী দুটি বড় যুদ্ধ প্রত্যক্ষ করছে, যার একটি হচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যে এবং আরেকটি ইউরোপে, রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে। মধ্যপ্রাচ্যের ওই যুদ্ধ গোটা অঞ্চলকে অস্থিতিশীল করেছে; কারণ ফিলিস্তিনিদের পক্ষ নিয়ে অনেক অ-রাষ্ট্রীয় পক্ষ ইসরায়েলের বিরুদ্ধে লড়ছে। এ অবস্থায় ব্রিটিশ অস্ত্র প্রস্তুতকারকদের মুনাফা ব্যাপকভাবে ঊর্ধ্বমুখী।
২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে শুরু হওয়া রাশিয়া ও ইউক্রেনের যুদ্ধ অনেক দেশে প্রতিরক্ষা ব্যয়কে বাড়িয়ে তুলেছে। গত ৭ অক্টোবর ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস এবং ইসরায়েলের মধ্যে সংঘাত শুরু হয়। এসবের ওপর ভর করে ব্রিটিশ অস্ত্র নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ‘বিএই সিস্টেমস’ গত বছর রেকর্ড পরিমাণ মুনাফা করে, যা চলতি বছরেও অব্যাহত থাকবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে সরকারগুলোর সামরিক ব্যয়ের পরিকল্পনা পুনমূল্যায়নের পরিপ্রেক্ষিতেই অস্ত্র প্রস্তুতকারকদের মুনাফা উল্লম্ফন ঘটেছে। এর মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার কারণে বিএই সিস্টেমস পরমাণু সাবমেরিন, যুদ্ধবিমান, ট্যাংক ও জাহাজ ছাড়াও ব্যাপকহারে বন্দুক ও গোলাবারুদ তৈরি করতে মনোযোগী হয়েছে।
বিএইর প্রধান নির্বাহী চার্লস উডবার্ন বলেন, ‘অস্ত্র প্রস্তুতকারকরা আগামী বছরগুলোতে টেকসই প্রবৃদ্ধির প্রত্যাশা করছে। ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য ও বিশে^র অন্যান্য অঞ্চলের অস্থিতিশীলতা জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষায় আমাদের গৃহীত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকাকে আরও শানিত করে।’
লন্ডন স্টক এক্সচেঞ্জের শীর্ষ ১০০ প্রতিষ্ঠানের ভেতরে অবস্থান করছে বিএই। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারির তুলনায় বিএইর শেয়ারের মূল্য এখন দ্বিগুণেরও বেশি। তাদের এই উত্থান নিয়ে ব্রিটিশ সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান ‘কুইলটার চেভিয়ট’-এর ইকুইটি বিশেষজ্ঞ জ্যারেক পমিনকিয়েউইকজ বলেন, ‘প্রতিরক্ষা ব্যয়ের প্রয়োজনীয়তার ক্রমবর্ধমান স্বীকৃতি’ বিএইর মতো প্রতিষ্ঠানের মুনাফার মূল কারণ। বিশেষ করে রাশিয়ার সীমান্তবর্তী পূর্ব ইউরোপীয় ও বাল্টিক অঞ্চলের দেশগুলোর জন্য বিষয়টি আরও স্পষ্ট। ১৯৯৯ সালে মার্কোনি ইলেকট্রনিকস সিস্টেমস এবং ব্রিটিশ অ্যারোস্পেস একীভূত হয়ে গড়ে ওঠে বিএই। এটি ব্রিটিশ এয়ারক্রাফট করপোরেশন এবং হকার সিডেলির মতো বড় বড় প্রতিষ্ঠানের একটি ইউনিয়ন যারা প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম উৎপাদনে জড়িত।