শেষ বেলায় মেলা জমে ওঠার আশা

সময় যতই ফুরিয়ে আসছে, ততই ভিড় বাড়ছে একুশের বইমেলায়। প্রতিনিয়ত আসছে নতুন নতুন বই। বাড়ছে ক্রেতা-দর্শনার্থীদের আনাগোনাও। প্রথমদিকের তুলনায় শেষ বেলায় বইমেলা জমে ওঠার চিত্র গেল কয়েক বছরের মতো এবারও দৃশ্যমান। প্রকাশক ও বিক্রয়কর্মীরা বলছেন, মেলা শেষের দিকে আসায় ক্রমান্বয়ে বিক্রি বাড়ছে, আরও বাড়বে।

গতকাল বৃহস্পতিবার বইমেলার ২২তম দিনে মেলা ঘুরে দেখা যায়, ছুটির দিন না হলেও পাঠক-দর্শনার্থীর সংখ্যা কম নয়। স্টল প্যাভিলিয়নগুলোতে পছন্দের বই কেনার হিড়িক। বিক্রয়কর্মীদের ব্যস্ততাও ছিল চোখে পড়ার মতো। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে পাঠকদের উপস্থিতি এবং বই বিক্রি দুটোই এবারের মেলার সর্বোচ্চ ছিল, যা আগেই অনুমেয় ছিল প্রকাশক-বিক্রয়কর্মীদের। এ ছাড়া মেলার শেষ দুই ছুটির দিনে লোকে লোকারণ্য হবে বলে প্রত্যাশা তাদের। এ ছাড়া ২০২৪ সাল অধিবর্ষ (লিপ ইয়ার) হওয়ায় এবারের বইমেলা হবে ২৯ দিনের। সব মিলিয়ে শেষটা দারুণ জমবে এবং বিক্রি হবে বলে মনে করেন প্রকাশকরা।

ইত্যাদি প্রকাশনীর বিক্রয়কর্মী আজমত হোসেন বলেন, ‘আগের দিনগুলোর তুলনায় এখন বিক্রি বেশি হচ্ছে। মেলা জমে উঠেছে। পরিস্থিতি দেখে বোঝা যাচ্ছে, আগামী দিনগুলোতে পাঠকসমাগম আরেও বাড়বে, বিক্রিও বাড়বে। একুশে ফেব্রুয়ারিতে মেলায় পাঠক-দর্শনার্থীদের ঢল নামে। এরই ধারাবাহিকতায় শেষ ১০ দিন দর্শনার্থীর চেয়ে পাঠক বেশি আসবেন আশা করি।

চারু সাহিত্যাঙ্গন প্রকাশনীর ম্যানেজার ওহিদ উল্লাহ বলেন, ‘আমাদের ছোট স্টল হওয়ায় মানুষ কম আসে, তেমন একটা বিক্রি নেই বললেই চলে। যাদের ডাবল স্পেস স্টল আর প্যাভিলিয়নগুলোতে ভালো বিক্রি হয়। প্রথমদিকে বিক্রি খুবই কম। আশা করি শেষ দিকে ভালো বিক্রি হবে।’

প্রথমা প্রকাশনীর ম্যানেজার জাকির হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘শেষ দিকে প্রকৃত পাঠকরা আসেন, তারা বই কেনেন। প্রথমদিকের চেয়ে শেষ দিকে বই বেশি বিক্রি হয়। এটাই চিরায়ত নিয়ম। আশা করি, এবারও তার ব্যতিক্রম হবে না। আমাদের সেভাবে প্রস্তুতিও আছে।’

অক্ষর প্রকাশনীর প্রকাশক আমিন খান বলেন, ‘এখন পর্যন্ত বিক্রি মোটামুটি ভালো হয়েছে, তবে শেষ দিকে অনেকটা বেড়ে যায়। এটা কয়েক বছরের অভিজ্ঞতা। তবে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হতে পারে শেষের দুদিন।’

প্রতিভা প্রকাশের প্রকাশক কবি মঈন মুরসালিন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এখনো পর্যন্ত সেভাবে বিক্রি হয়নি। শেষ দিকের দিকেই তাকিয়ে আছি আমরা। কেননা প্রথম দিকে যারা বই কিনে তারা আসে কম। আর বাণিজ্য মেলাও একটি কারণ। বাণিজ্য মেলা শেষ হওয়ায় এদিকে আরও ভালো প্রভাব পড়বে।’

প্রতিদিনের মতো গতকাল মেলা শুরু হয় বিকেল ৩টায় এবং চলে রাত ৯টা পর্যন্ত। গতকাল নতুন বই এসেছে ৭৮টি। বিকেল ৪টায় বইমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় ‘স্মরণ : আসাদ চৌধুরী’ এবং ‘স্মরণ : জাহিদুল হক’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন যথাক্রমে মাহমুদা আকতার এবং কামরুল হাসান। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন দিলারা হাফিজ, বায়তুল্লাহ কাদেরী এবং মনি হায়দার। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ড. মুহম্মদ সামাদ।

আলোচকরা বলেন, সদাবিনয়ী, মিষ্টভাষী কবি আসাদ চৌধুরী গণমানুষের কবি। বায়ান্নর চেতনাকে বুকে ধারণ করে স্বদেশের প্রেমে উজ্জীবিত হয়ে তিনি দেশ, সমাজ ও সংস্কৃতিকে চিত্রিত করেছেন তার কবিতায়। লোকজীবনের নানা অনুষঙ্গ তার কবিতায় স্থান করে নিয়েছে।

অন্যদিকে, বাংলা সাহিত্যাঙ্গনে কবি জাহিদুল হক তার প্রতিভার স্বাক্ষর রেখে গেছেন। কবিতার পাশাপাশি গল্প ও উপন্যাস রচনাতেও তিনি দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। গল্প, কবিতা ও উপন্যাসের মধ্য দিয়ে তিনি তার গভীরতম অনুভব ও অনুভূতির অত্যন্ত নিখুঁত ছবি ফুটিয়ে তুলেছেন।

আজকের কর্মসূচি : আজ ২৩ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার অমর একুশে বইমেলার ২৩তম দিন। মেলা শুরু হবে বেলা ১১টায় এবং চলবে রাত ৯টা পর্যন্ত। ১১টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত চলবে শিশুপ্রহর। সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে বইমেলার মূলমঞ্চে রয়েছে অমর একুশে উদযাপন উপলক্ষে বাংলা একাডেমি আয়োজিত শিশু-কিশোর চিত্রাঙ্কন, আবৃত্তি ও সংগীত প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠান।

এদিন বিকেল ৪টায় বইমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে ‘স্মরণ : আখতারুজ্জামান ইলিয়াস’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন মামুন হুসাইন। আলোচনায় অংশগ্রহণ করবেন ওয়াসি আহমেদ এবং জাফর আহমদ রাশেদ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন অধ্যাপক খালিকুজ্জামান ইলিয়াস।