সংসদে প্রশ্নোত্তর

সরকারি দপ্তরগুলোতে ৫ বছরে ৩,৫৮,২৩৭ পদে নিয়োগ

সরকারি দপ্তরগুলোতে গত পাঁচ বছরে ৩ লাখ ৫৮ হাজার ২৩৭ পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন জনপ্রশাসনমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন। গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদ অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য সোহরাব উদ্দিনের প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান তিনি।

মন্ত্রীর তথ্য অনুযায়ী, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অধীনে ২০ হাজার ২৬৪ জন নিয়োগ পেয়েছেন। এর মধ্যে সর্বোচ্চ চট্টগ্রাম থেকে ১ হাজার ৩৪১, দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ঢাকায় ১ হাজার ২৩৫, সর্বনিম্ন বান্দরবান থেকে ৩৪, দ্বিতীয় সর্বনিম্ন জনপ্রশাসন মন্ত্রীর জেলা মেহেরপুর থেকে ৬৭ জনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

মামলাজট কমাতে বিচারকের সংখ্যা বৃদ্ধি ও নতুন আদালত প্রতিষ্ঠার কাজ চলছে : আইনমন্ত্রী

দেশে মামলাজট কমানোর লক্ষ্যে বিচারকের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং নতুন আদালত প্রতিষ্ঠার কার্যক্রম চলছে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল হক। তিনি আরও জানান, সুপ্রিম কোর্টের বিচারক সংখ্যা বৃদ্ধির বিষয়টি সরকারের বিবেচনায় রয়েছে।

গতকাল জাতীয় সংসদে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য এম. আবদুল লতিফের এ সংক্রান্ত লিখিত প্রশ্নের জবাবে এসব তথ্য জানান আইনমন্ত্রী।

মন্ত্রী আরও জানান, মামলাজট কমানোর লক্ষ্যে সম্প্রতি সহায়ক জনবলসহ ৪৭টি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল, ৭টি সাইবার ট্রাইব্যুনাল, ৭টি মানব পাচার ট্রাইব্যুনাল, ৭টি সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনাল, গাজীপুর ও রংপুর চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ও ২টি ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, ৩০টি সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, ২২টি জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, ৬২টি অতিরিক্ত জেলা জজ আদালত ও ১১টি অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালত, পটুয়াখালী জেলার রাঙ্গাবালী উপজেলায় একটি সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ও একটি সিনিয়র সহকারী জজ আদালত এবং গাজীপুর, রংপুর ও বরিশালে ৩টি মহানগর দায়রা জজ আদালত, ৩টি অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালত ও ৩টি যুগ্ম মহানগর দায়রা জজ আদালত সৃজন করা হয়েছে। এ ছাড়া ১১টি যুগ্ম জেলা জজ, ৩৪টি যুগ্ম মহানগর দায়রা জজ ১৭টি অর্থঋণ আদালত, ২১৪টি সহকারী জজ আদালত, ১৩টি ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনাল, ৫৪টি ল্যান্ড সার্ভে আপিল ট্রাইব্যুনাল, চট্টগ্রাম জেলায় ৩টি অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট, ১০টি মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, ৭টি অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত এবং মাদকসংক্রান্ত মামলা বিচারের জন্য স্বতন্ত্র ৩০টি অতিরিক্ত জেলা জজ, ২৪টি অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ, ৬৬টি যুগ্ম জেলা জজ ও ৩২টি যুগ্ম মহানগর দায়রা জজ আদালতের প্রস্তাব প্রক্রিয়াধীন।

একই প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী জানান, বিচার কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য বিচারকের নতুন পদ সৃষ্টির উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। অধস্তন আদালতে বিভিন্ন পদমর্যাদার ৩৫৯টি বিচারকের পদ ও ১ হাজার ৯৯৯টি সহায়ক পদ সৃজন করা হয়েছে। ২০০৯ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত অধস্তন আদালতে ১ হাজার ৪২৬ জন বিচারক (সহকারী জজ) নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। পক্ষান্তরে ২০০১ থেকে ’০৬ সাল পর্যন্ত চারদলীয় জোট আমলে অধস্তন আদালতে মাত্র ১৯০ জন বিচারক নিয়োগ করা হয়েছিল।

সাব-রেজিস্ট্রার পদগুলো আইন ও বিচার বিভাগ থেকে ভূমি মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী। স্বতন্ত্র সদস্য মুহাম্মদ সাইফুল ইসলামের প্রশ্নের লিখিত উত্তরে তিনি আরও জানান, রেজিস্ট্রেশন সংক্রান্ত বিষয়াদি আইন ও বিচার বিভাগের কর্মপরিধিভুক্ত। ফলে সাব-রেজিস্ট্রি অফিস এবং সাব-রেজিস্ট্রার পদ আইন ও বিচার বিভাগের অধীন প্রতিষ্ঠান নিবন্ধন অধিদপ্তরের আওতায় থাকাই যৌক্তিক।

বাড়ি ভাড়াসংক্রান্ত নতুন কোনো আইন প্রণয়নের পরিকল্পনা সরকারের নেই বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। সরকারি দলের নুর উদ্দিন চৌধুরী নয়নের লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, ভাড়াটিয়াদের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত এবং বাড়িওয়ালা ও ভাড়াটিয়াদের মধ্যে সংঘাত নিরসনের জন্য ‘বাড়ি ভাড়া নিয়ন্ত্রণ আইন-১৯৯১’ বর্তমানে বিদ্যমান রয়েছে। বাড়ি ভাড়াসংক্রান্ত নতুন কোনো আইন প্রণয়ন করার পরিকল্পনা আপাতত সরকারের নেই। তবে প্রয়োজনে বিদ্যমান আইনের বিধানগুলো পর্যালোচনা করা হবে।

প্রাণিসম্পদ গবেষণা প্রতিষ্ঠানে ১৭ ধরনের টিকা উৎপাদন করা হয় : মৎস্যমন্ত্রী

সরকারদলীয় সংসদ সদস্য উম্মে কুলসুম স্মৃতির প্রশ্নের জবাবে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী আবদুর রহমান সংসদকে জানান, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের অধীন প্রাণিসম্পদ গবেষণা প্রতিষ্ঠান থেকে গবাদি পশু ও হাঁস-মুরগির ১৫টি মারাত্মক সংক্রামক রোগের ১৭ ধরনের টিকা উৎপাদন করা হয়ে থাকে। এসব টিকা প্রান্তিক খামারিদের মধ্যে সরকার নির্ধারিত ভর্তুকি মূল্যে বিতরণ করা হয়ে থাকে। সরকার টিকার সহজলভ্যতা অর্জনে ২০২২-২৩ অর্থবছরে ৩২ কোটি ৮৬ লাখ ৭৪ হাজার ডোজ গবাদি পশু ও হাঁস-মুরগির টিকা উৎপাদন ও তা প্রান্তিক খামারিদের মধ্যে বিতরণ করেছে।

সরকারদলীয় সংসদ সদস্য এইচএম বদিউজ্জামানের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, উপকূলীয় এলাকার জেলেসহ সারা দেশে নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা ১৮ লাখ ৩ হাজার ৪১৮ জন। এর মধ্যে ১৪ লাখ ২০ হাজার আইডি কার্ড দেওয়া হয়েছে।