যেহেতু আমরা মুসলিম, তাই আমাদের প্রত্যেকটি কাজ রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর নিয়ম-পদ্ধতি অনুযায়ী হওয়া জরুরি। কারণ তিনি হচ্ছেন আমাদের আদর্শ। অতএব খাওয়া-দাওয়া, ওঠা-বসা, সংসার পরিচালনা থেকে শুরু সব কাজে রাসুল (সা.)-এর অনুসরণ করতে হবে। কারণ ‘তার চরিত্র কোরআনের অনুরূপ।’ আহমাদ
নারী-পুরুষের পোশাক-পরিচ্ছদ বিষয়েও একই কথা প্রযোজ্য। তাই এ বিষয়ে আলোকপাত করা হলো
পুরুষের পোশাক পরিধানের নিয়ম
মহান আল্লাহ বলেন, ‘হে আদম সন্তান! আমি তোমাদের লজ্জাস্থান ঢাকার এবং বেশভূষার জন্য পোশাক দিয়েছি। আর সবচেয়ে উত্তম হচ্ছে লিবাসুত-তাকওয়া।’ সুরা আরাফ : ২৬
আয়াতে বর্ণিত লিবাসুত তাকওয়া হচ্ছে এমনসব পোশাক। যা দ্বারা গুপ্ত-অঙ্গ আবৃত ও সাজ-সজ্জার আসল উদ্দেশ হয় আল্লাহভীতি। এ আল্লাহভীতি পোষাকের মধ্যেও প্রকাশ পায়। তাই পোষাকে যেন গুপ্তাঙ্গ গুলো পুরোপুরি আবৃত হয়। উলঙ্গের মতো দৃষ্টিগোচর না হয়। অহংকার ও গর্বের ভঙ্গিও না থাকা চাই। অপব্যয় না থাকা চাই। মহিলাদের জন্য পুরুষের পোষাকের মতো আর পুরুষের জন্য মহিলাদের পোষাকের মতো না হওয়া চাই। পোষাকে বিজাতির অনুকরণ না হওয়া চাই। এর প্রত্যেকটির ব্যাপারেই হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর হাদিসে বিস্তারিত দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
উল্লিখিত বিষয় ছাড়া পোশাক পরিধানের ক্ষেত্রে লক্ষণীয় হলো
পোশাক পরিধানের শুরুতে ‘বিসমিল্লাহ’ বলা ও ডান দিক থেকে পরিধান করা। হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, যখন তোমরা পোশাক পরিধান করবে ও অজু করবে, তখন ডান দিক থেকে শুরু করবে। মিশকাত : ৪০১
ঢিলেঢালা, সাদা, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন, ভদ্র ও মার্জিত পোশাক পরিধান করা। সাদা পোশাক প্রসঙ্গে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা সাদা পোশাক পরিধান কর, কারণ এটাই পবিত্র ও সর্বোত্তম।’ রিয়াযুস সালিহিন : ৭৮৪
টাখনুর নিচে কাপড় পরিধান না করা। হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি টাখনুর নিচে কাপড় পড়বে সে জাহান্নামি।’ মিশকাত : ৪৩১৪
রেশমের পোশাক ও স্বর্ণালঙ্কার ব্যবহার না করা। হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) পুরুষের জন্য রেশমের কাপড় ও স্বর্ণ ব্যবহার করা হারাম করেছেন। মিশকাত : ৪৩২১
হলুদ রঙের পোশাক পরিধান না করা। সহিহ মুসলিম
অমুসলিম বা মেয়েদের সাদৃশ্য পোশাক পরিধান না করা। সহিহ বোখারি
নতুন পোশাক পরিধানের দোয়া পড়া। হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) পোশাক পরিধানের সময় দোয়া পড়তে বলেছেন, ‘আলহামদুলিল্লা-হিল্লাজি কাসানি হাযা ওয়া রাজাকনিহি মিন গায়রি হাওলিম মিন্নি কুওয়াতিন।’ সুনানে আবু দাউদ
বাম দিক থেকে পোশাক খোলা ও খোলার সময় ‘বিসমিল্লাহ’ বলা। সুনানে আবু দাউদ
নারীদের পোশাক পরিধানের নিয়ম-পদ্ধতি
পুরুষের চেয়ে নারীদের পোশাক পরিধানের কিছুটা ভিন্নতা আছে। সেগুলো
নারীরা রেশমের তৈরি পোশাক ও স্বর্ণালঙ্কারাদি ব্যবহার করতে পারবে। হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) নারীদের রেশম ও স্বর্ণ ব্যবহার করার অনুমতি দিয়েছেন। তবে নিসাব পরিমাণ হলে অবশ্যই জাকাত দিতে হবে। অন্যথায় জাহান্নামে যাওয়ার অন্যতম কারণ হবে।’ সুনানে আবু দাউদ
টাখনুর নিচে অথবা টাখনু বরাবর কাপড় পরিধান করবে। জামে তিরমিজি
অমুসলিম ও পুরুষের সাদৃশ্য পোশাক পরিধান না করা। সহিহ বোখারি
চুল ও ভ্রু উপড়ে না ফেলা এবং দাঁত চিকন ও ফাঁকা না করা। সুরা আন নিসা : ১১৯
অঙ্গপ্রত্যঙ্গে ট্যাটু, স্টিকার ও উল্কি না করা। সহিহ বোখারি
আতর, সেন্ট ও সুগন্ধি জাতীয় স্নো-পাউডার, তেল ইত্যাদি মেখে বাহিরে না যাওয়া। সুনানে আবু দাউদ
চুল বখতি উটের মতো না রাখা। সহিহ মুসলিম
কপালে টিপ, ঠোঁটে লিপস্টিক, হাতে-পায়ে নেইলপলিশ ব্যবহার না করা। সুনানে আবু দাউদ
নতুন পোশাক পরিধানের দোয়া পড়া। সহিহ বোখারি