ছড়াকার ও শিশুসাহিত্যিক আনজীর লিটন। সাংবাদিকতার মাধ্যমে কর্মজীবন শুরু করলেও, বর্তমানে বাংলাদেশ শিশু একাডেমির মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। শিশুসাহিত্যে অবদানের জন্য ২০২০ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার অর্জন করেছেন। শিশুদের জন্য সাহিত্য রচনার পাশাপাশি তিনি বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বেতারের বিভিন্ন অনুষ্ঠান পরিকল্পনা ও গ্রন্থনা করছেন দীর্ঘদিন ধরে। বাংলাদেশ বেতারের ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘উত্তরণ’ নিয়মিত গ্রন্থনা করছেন। কথা বলেছেন তাপস রায়হান
এবারের বইমেলায় আপনার কয়টি বই প্রকাশিত হয়েছে?
আনজীর লিটন : এবার প্রকাশিত হয়েছে একটি বই। প্রকাশ করেছে চন্দ্রাবতী। বইয়ের নাম হচ্ছে স্টেশনের নাম প্রজাপতি। এটি কিশোর উপন্যাস।
আপনার বই পাঠককে কেন পড়তে বলবেন?
আনজীর লিটন : একজন পাঠককে আমার বই পড়তে বলব এই কারণে যে, লেখার মধ্যে তারা একটা বার্তা পাবেন। এখানে প্রকৃতি, দেশ, সমাজ সম্পর্কে একটা ভালো ধারণা পাবেন। যখন আমি কিছু লিখি, তখন একজন পাঠকের কথা চিন্তা করেই লিখি। তাদের মনস্তাত্ত্বিক বিষয়টি যথেষ্ট গুরুত্ব দিই।
পাঠকের হাতে বই পৌঁছানোর ক্ষেত্রে কোনো কৌশল অবলম্বন করেন?
আনজীর লিটন : না। কোনো ধরনের কৌশল একেবারেই জানি না আমি।
আমাদের বই প্রকাশ, প্রচার ও আলোচনা ফেব্রুয়ারিকেন্দ্রিক। এ বিষয়ে কী বলবেন?
আনজীর লিটন : আসলে এ বিষয়ে দুঃখ প্রকাশ করা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই। কেন এমন হয়, সেটা আমারও প্রশ্ন।
কেউ বলে বইয়ের পাঠক কমছে। আবার কেউ বলে বাড়ছে। আপনার কী মনে হয়?
আনজীর লিটন : আসলে মূল বিষয়টা কমা-বাড়ার নয়। পাঠকের রুচিবোধের ব্যাপক পরিবর্তন হয়েছে। একবারেই নষ্ট হয়ে গেছে, এটাই বড় কথা। কমছে-বাড়ছে, এরকম সংখ্যাতাত্ত্বিক হিসাব দিয়ে তৃপ্তির কিছু নেই। আমার মনে হয়, পাঠকের মানসিকতাই বদলে গেছে। যার সঙ্গে গভীর সম্পর্ক রুচির। কিন্তু হাল ছেড়ে দিলে হবে না। এটি বাড়াতে হবে। এর জন্য কিন্তু শুধু একজন পাঠককে দোষ দিলে হবে না। যে বই লিখছেন, তাকেও কিন্তু একই দোষে দোষী হতে হবে। সৎ উদ্দেশ্যে, সবাইকে সচেতনভাবে কাজ করতে হবে। মনে রাখা দরকার, একটি ভালো লেখা একজন ভালো পাঠককে খুঁজে নিয়ে আসে।
বইমেলার আয়োজন ও পুরস্কার নিয়ে সার্বিকভাবে বাংলা একাডেমির ভূমিকা কেমন দেখছেন, কেমন হতে পারে?
আনজীর লিটন : মূল বিষয় হচ্ছে, একেকটা প্রতিষ্ঠানের একেকটা নীতিমালা থাকে। সেটা কিন্তু একেবারেই প্রাতিষ্ঠানিক বিষয়। আসলে এ বিষয়ে আমি আর কোনো কথা বলতে চাইছি না।
বইমেলাকে কীভাবে লেখক-পাঠক ঘনিষ্ঠ করা যায়?
আনজীর লিটন : বইমেলা-সংশ্লিষ্ট সবাইকে এ বিষয়ে একটু চিন্তাভাবনা করা দরকার। যারা স্ট্রাকচারাল চিন্তা করেন, তার সঙ্গে পাঠককে ঘনিষ্ঠ করতে হবে। বইমেলা মানে, আনন্দ-স্ফূর্তির কোনো বিষয় নয়। এটাকে আরও পরিচ্ছন্ন করা দরকার। এ বিষয়ে চিন্তাভাবনা করা যেতে পারে। দেশ-বিদেশও এখন অনেক মেলা হচ্ছে। এখানে একটা শৃঙ্খলার ব্যাপার রয়েছে। মেলা মানেই কিন্তু হই-হুল্লোড় না। এখন এটি নিয়ে অন্যভাবে চিন্তা করার সময় এসেছে। একজন পাঠক আসবেন লেখা খুঁজতে। আমি ভালো লিখলেই তো তিনি আসবেন, নাকি? এখন বইমেলা যদি ফেসবুককেন্দ্রিক, সেলফিকেন্দ্রিক বিনোদনের কোনো জায়গা হয়ে ওঠে, তখন তো পাঠক-লেখকের মধ্যে বিচ্ছিন্নতা তৈরি হবেই? কারোর মধ্যেই সম্পর্ক গড়ে উঠবে না। এ কারণে অবকাঠামোগত একটা সৌন্দর্য নিয়ে আসতে হবে।