পাকিস্তানে নতুন পার্লামেন্ট

অধিবেশন নিয়ে প্রেসিডেন্ট-স্পিকার মতবিরোধ 

পাকিস্তানের নির্বাচন অনুষ্ঠানের পর নানা নাটকীয়তা দেখা যাচ্ছে। এবার নতুন এক সাংবিধানিক সংকট দেখা দিয়েছে যেখানে দেশের প্রেসিডেন্ট এবং আইনসভার (পার্লামেন্ট) নিম্নকক্ষ জাতীয় পরিষদের স্পিকারের মধ্যে বিবাদ তৈরি হয়েছে। নতুন সরকার গঠন করতে স্পিকার রাজা পারভেজ আশরাফ আগামী বৃহস্পতিবার অধিবেশন আহ্বান করলেও প্রেসিডেন্ট ডা. আরিফ আলভির এতে সায় নেই। অন্যদিকে দেশের ইতিহাসে প্রথম নারী মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে পাঞ্জাব প্রদেশে শপথ নিয়েছেন দেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের কন্যা মরিয়ম নওয়াজ।

পাকিস্তানের গণমাধ্যমে গতকাল সোমবার বলা হয়, আগামী বৃহস্পতিবার পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের স্পিকার উদ্বোধনী অধিবেশন আহ্বান করেছেন। এই অধিবেশনের মাধ্যমেই নতুন সরকার গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে।

আইনসভার অধিবেশনের মাধ্যমে পাকিস্তান মুসলিম লিগ নওয়াজ (পিএমএল-এন) মনোনীত প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী শাহবাজ শরিফ কর্তৃক আইনসভার সদস্যদের সমর্থন চাওয়ার পথ প্রশস্ত হবে। সরকার গঠনের প্রশ্নে বিলাওয়াল ভুট্টো-জারদারির নেতৃত্বাধীন পাকিস্তান পিপলস পার্টি (পিপিপি) এবং আরও কয়েকটি দল শাহবাজকে সমর্থনের কথা জানিয়েছে। কিন্তু ওই প্রক্রিয়ার শুরু থেকেই বেঁকে বসেছেন দেশের প্রেসিডেন্ট ডা. আরিফ আলভি।

প্রেসিডেন্ট আলভির যুক্তি হচ্ছে, জাতীয় পরিষদের দলগুলোর প্রাপ্ত আসনসংখ্যার পরিপ্রেক্ষিতে সংরক্ষিত আসন বরাদ্দ ছাড়া আইনসভা অসম্পূর্ণ। তাই এই ধরনের অধিবেশন ডাকা যায় না।

পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খানের নেতৃত্বে পরিচালিত সরকারের সমর্থনে প্রেসিডেন্ট হন আলভি। সদ্যসমাপ্ত নির্বাচনে পিটিআই-সমর্থিত ৯২ জনের মতো স্বাধীন প্রার্থীরা সুন্নি ইত্তেহাদ কাউন্সিলে (এসআইসি) যোগ দিয়ে সংরক্ষিত আসনগুলো বরাদ্দের দাবি করছেন। পাকিস্তান নির্বাচন কমিশন এসআইসিতে যোগ দেওয়া স্বাধীন পিটিআই প্রার্থীদের সংখ্যার পরিপ্রেক্ষিতে সংরক্ষিত আসন দেওয়ার বিষয়টি আমলে নেয়নি।  

পিএমএল-এন দলের নেতৃত্বাধীন সদ্য গঠিত জোটের নেতারা দাবি করছেন, সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন শেষ হওয়ার ২১ দিনের মধ্যে জাতীয় পরিষদের অধিবেশন ডাকতে হবে। নির্বাচন শেষ হয়েছে গত ৮ ফেব্রুয়ারি, তাই অধিবেশন আহ্বান জরুরি।

জাতীয় পরিষদের স্পিকার রাজা পারভেজ আশরাফ কর্তৃক অধিবেশন আহ্বানের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে সূত্রগুলো বলছে, সংবিধানের ৯১(২) অনুচ্ছেদ মোতাবেক স্পিকার অধিবেশন আহ্বান করেছেন। প্রেসিডেন্টের আপত্তি অধিবেশন আহ্বানে কোনো প্রতিবন্ধকতা তৈরি করতে পারে না।

আইনসভার উচ্চকক্ষে (সিনেট) পিপিপি মনোনীত সিনেটর শেরি রেহমান বলেন, জাতীয় পরিষদের অধিবেশন আহ্বানের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপ্রধানের শর্ত বেঁধে দেওয়ার কোনো কর্তৃত্ব নেই। 

এদিকে, পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী পদে শপথ নিয়েছেন মরিয়ম নওয়াজ। পাকিস্তানের ইতিহাসে তিনিই প্রথম নারী মুখ্যমন্ত্রী। মরিয়ম পিএমএল-এনের জ্যেষ্ঠ ভাইস প্রেসিডেন্ট। তিনি পিএমএল-এনের প্রধান পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের মেয়ে। মরিয়ম ২২০ ভোট পেয়ে পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছেন।

পাঞ্জাব প্রাদেশিক পরিষদে সোমবার মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচনে ভোটাভুটি হয়। পিএমএল-এন মনোনীত প্রার্থী ছিলেন মরিয়ম। ভোটাভুটি বয়কট করে সুন্নি ইত্তেহাদ কাউন্সিল (এসআইসি)। প্রাদেশিক পরিষদে এসআইসি সদস্যরা ইমরানের পিটিআই-সমর্থিত স্বাধীন প্রার্থী ছিলেন। মরিয়মের প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন এসআইসির প্রার্থী রানা আফতাব আহমাদ। তবে এসআইসি ভোটাভুটি বর্জন করায় তিনি কোনো ভোট পাননি।