ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জে টেন্ডার ছাড়াই অন্য উপজেলার দুই ঠিকাদারকে প্রায় এক কোটি টাকার কাজ ভাগাভাগি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সাবেক দায়িত্বপ্রাপ্ত উপজেলা প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে। এ নিয়ে স্থানীয় ঠিকাদারদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।
ক্ষুব্ধ ঠিকাদাররা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কার্যালয় ঘেরাও করে তার কাছে এর প্রতিকার দাবি করেন। ভবিষ্যতে আর এরকম হবে না ইউএনও রমিজ আলম এমন আশ্বাস দিয়ে ঠিকাদারদের শান্ত থাকার অনুরোধ জানিয়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ ঠিকাদারদের।
গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে স্থানীয় ঠিকাদাররা সাংবাদিকদের কাছে এ নিয়ে অভিযোগ করলে বিষয়টি জানাজানি হয়। অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রমিজ আলম বলেন, ‘জরুরি ভিত্তিতে কিছু কাজ করা হয়েছে। এ নিয়ে ঠিকাদারদের সঙ্গে কথা হয়েছে। আগামীতে আর এমনটা হবে না।’
ঠিকাদার শাহজামাল প্রভাত, গোলাম রব্বানী, ফারুক হোসেন, বাবলা, বিপ্লবসহ বেশ কয়েকজন ঠিকাদারের ভাষ্য মতে, পরিচালন বাজেটে ইউনিয়ন পরিষদ খাতের আওতায় ‘ইউনিয়ন পরিষদ অন্যান্য ভবন ও স্থাপনা প্রকল্পের মাধ্যমে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৫০ লাখ টাকায় পীরগঞ্জ উপজেলার ৫টি ইউনিয়ন পরিষদ ভবন রঙকরণ, ‘উপজেলা কমপ্লেক্স, অফিস, বাসাবাড়ি, গ্যারেজ, অভ্যন্তরীণ রাস্তা-ড্রেন, মেরামত’ খাতের আওতায় উপজেলা পরিষদে ২৫ লাখ টাকায় ব্লক রাস্তা নির্মাণ এবং এডিবি (বার্ষিক উন্নয়ন তহবিল) খাতে জাবরহাট ও চন্দরিয়া কলেজে ৯ লাখ টাকার কাজ টেন্ডার ছাড়াই বাস্তবায়ন করছে উপজেলা প্রকৌশল অধিদপ্তর। স্থানীয় ঠিকাদারদের না জানিয়ে গোপনে জেলার হরিপুর উপজেলার বারাকাত ও মাহিম নামে দুই ঠিকাদারকে মাস দেড়েক আগে কাজগুলো ভাগাভাগি করে দেওয়া হয়েছে। ওই দুই ঠিকাদার কাজগুলো করছেন। বিষয়টি জানতে পেরে এর প্রতিবাদ করেন তারা। গত ১৫ ফেব্রুয়ারি তারা ইউএনও কার্যালয় ঘেরাও করে এর প্রতিকার দাবি করেন। ভবিষ্যতে আর এমনটা হবে না এই আশ^াস দিয়ে ঠিকাদারদের বিদায় করে ইউএনও বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ করেন ঠিকাদাররা।
ঠিকাদাররা জানান, গত ৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পীরগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী হিসেবে অতিরিক্ত দায়িত্বে ছিলেন হরিপুর উপজেলা প্রকৌশলী মাইনুল ইসলাম। তাদের অভিযোগ, তিনি (মাইনুল) উপজেলা প্রশাসনকে হাত করে টেন্ডার ছাড়া ও স্থানীয় ঠিকাদারদের না জানিয়েই তার বিশ^স্ত হরিপুরের দুই ঠিকাদারকে কাজগুলো ভাগ করে দিয়েছেন। তারা দায়সারাভাবে কাজ করছেন। এভাবে কাজ করানোর ফলে একদিকে বঞ্চিত হয়েছেন স্থানীয় ঠিকাদাররা অন্যদিকে কাজের মান নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে হরিপুর উপজেলা প্রকৌশলী মাইনুল ইসলামের মোবাইল ফোনে গতকাল মঙ্গলবার একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।
পীরগঞ্জ উপজেলা প্রকৌশলী হিসেবে গত ৮ ফেব্রুয়ারি যোগ দেওয়া মাইদুল ইসলাম বলেন, তিনি নতুন এসেছেন। এ বিষয়ে তেমন কিছু জানেন না। তার জানামতে আর এফ কিউ (রিকোয়েস্ট ফর কোটেশন) এর মাধ্যমে কাজগুলো করা হচ্ছে। এ ক্ষেত্রে স্থানীয় ঠিকাদারদের অগ্রাধিকার আছে। এটা কেন করা হয়নি তা তিনি বলতে পারছেন না। কাজের মানের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘বিষয়গুলো দেখা হচ্ছে। মানের সঙ্গে আপস করা হবে না।’ তিনি জানান, কিছু কিছু কাজ ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। আর কিছু কাছ এখনো চলছে।
অভিযোগের বিষয়ে ইউএনও রমিজ আলম বলেন, ‘জরুরি ভিত্তিতে কিছু কাজ করা হয়েছে। এ নিয়ে ঠিকাদারদের সঙ্গে কথাও হয়েছে। আগামীতে আর এমনটা হবে না।’