শরবত খেয়ে শিশুর মৃত্যু মাসহ ৩ বোন হাসপাতালে

সিরাজগঞ্জের বেলকুচিতে স্যালাইন ও পাউডার দিয়ে বানানো শরবত খেয়ে তিন বছর বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। অসুস্থ হয়ে পড়েছেন তার মা ও পরিবারের আরও তিন শিশু। এদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন সিরাজগঞ্জ বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ফয়সাল হোসেন।

বেলকুচি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আব্দুল বারীক জানান, গত সোমবার রাতে উপজেলার বৈলগাছি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। মারা যাওয়া জিমহা খাতুন ওই গ্রামের কাইয়ুম উদ্দিনের মেয়ে। অসুস্থরা হলেন, জিমহার মা পারভীন খাতুন (২৮), বোন রিয়া (৭), নুরি (৫) এবং চাচাতো বোন মিথিলা (৩)।

তিনি জানান, এ ঘটনার পর চারজনকে আটক করা হয়েছে। তারা হলেন স্থানীয় দোকানদার আমিনুল ইসলাম ও সাগর হোসেন এবং নাফিজ টেস্টি এলাইন পাউডারের প্রস্তুতকারক আনিসুর রহমান ও সেলসম্যান হাফিজ সেখকে।

স্থানীয় বাসিন্দা জামিল উদ্দিন জানান, শবেবরাতের পরদিন সোমবার রোজা রেখেছিলেন কাইয়ুমের পরিবারের সবাই। ইফতারের আগে স্থানীয় দুটি দোকান থেকে এসএমসির ওরস্যালাইন-এন ও প্রমি অরেঞ্জ সফট ড্রিংক পাউডার ও নাফিজ টেস্টি এলাইন পাউডার কিনে আনেন তারা।

ইফতারে এই তিন উপাদান দিয়ে বানানো শরবত পান করার পরই চারজন অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাদের বেলকুচির স্থানীয় একটি ক্লিনিকে নেওয়া হলে চিকিৎসক সিরাজগঞ্জে রেফার্ড করেন।

সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ফয়সাল হোসেন বলেন, সন্ধ্যার পর পাঁচজন রোগী হাসপাতালে আসেন। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, খাবার স্যালাইনে তৈরি শরবত খেয়েই তারা অসুস্থ হয়ে পড়েছিল। তাদের মধ্যে জিমহা নামের শিশুটি মারা যায়। বাকি চারজনকে হাসপাতালে ভর্তির পর উন্নত চিকিৎসার জন্য বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়েছে। তাদের মধ্যে দুইজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

পরিদর্শক আব্দুল বারীক জানান, বিষয়টি অবহিত হওয়ার পর ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। পুলিশের সংগ্রহ করা আলামতে দেখা গেছে শরবত বানানোর তিনটি উপাদানই মেয়াদোত্তীর্ণ বা মেয়াদ অস্পষ্ট হয়ে পড়েছে। পরে দোকানদার, প্রস্তুতকারক ও সেলসম্যানসহ চারজনকে আটক করা হয়েছে।

তিনি জানান, এ ঘটনায় একটি মামলাও করা হয়েছে বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।