রাজধানীর ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষক মোহাম্মদ মুরাদ হোসেনের বিরুদ্ধে ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগের প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ। তারা বলছে, দুই দিন হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলেও ওই শিক্ষক এসব অভিযোগ এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন। তার ফোন ও ল্যাপটপ জব্দ করে কিছু অডিও ও ভিডিও ক্লিপ পাওয়া গেছে। এগুলোর ফরেনসিক পরীক্ষা করানো হবে।
গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়।
এর আগে ভুক্তভোগী এক ছাত্রীর অভিভাবকের করা মামলায় গত ২৭ ফেব্রুয়ারি রাতে রাজধানীর কলাবাগান থেকে শিক্ষক মুরাদকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে দুই দিন রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ। গতকাল ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ জসিম উদ্দিনের আদালত জামিন আবেদন নাকচ করে ওই শিক্ষককে কারাগারে পাঠায়।
সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার খ. মহিদ উদ্দিন বলেন, কেউই একজন শিক্ষকের কাছ থেকে এ ধরনের আচরণ আশা করে না। ২৬ ফেব্রুয়ারি এক শিক্ষার্থীর মা লালবাগ থানায় অভিযোগ করেন, গত বছরের ১০ মার্চসহ বিভিন্ন সময় নানাভাবে তার মেয়েকে যৌন নিপীড়ন করেছেন শিক্ষক মুরাদ। এর আগেও এই শিক্ষকের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ এসেছে। এ নিয়ে কিছু অভিভাবক ও তাদের সন্তানদের বক্তব্য শোনেন কলেজের অধ্যক্ষ। তিনি একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন। এ ঘটনায় স্কুলে মানববন্ধনও হয়।
এক বছর আগের অভিযোগ এখন কীভাবে প্রমাণ করা সম্ভব জানতে চাইলে খ. মহিদ উদ্দিন বলেন, ফৌজদারি অপরাধ কখনো তামাদি হয়ে যায় না। ৫০ বছর হলেও তার বিচার হতে পারে। আর এই ঘটনা প্রমাণে মেডিকেল পরীক্ষার প্রয়োজন হয় না। পারিপার্শ্বিক অবস্থা ও আরও কিছু বিষয় তদন্ত করে অপরাধ সংঘটিত হওয়ার প্রমাণ বের করতে হয়। পুলিশ সেই চেষ্টাই করে যাচ্ছে।
অভিযুক্ত শিক্ষক মুরাদ হোসেন সরকার ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের আজিমপুর ক্যাম্পাসের দিবা শাখার গণিতের জ্যেষ্ঠ শিক্ষক। ২০১০ সাল থেকে তিনি এখানে পড়াচ্ছেন। পাশাপাশি আজিমপুর এলাকার একটি ফ্ল্যাটে কোচিং সেন্টার খুলে ছাত্রী পড়াতেন। ভুক্তভোগী ছাত্রীদের অভিভাবকরা বলছেন, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক তৈরি করে ওই কোচিংয়েই তাদের যৌন হয়রানি করে আসছিলেন তিনি। বছরের পর বছর ধরে তার এ ধরনের কর্মকাণ্ড চললেও ভয়ে কেউ মুখ খোলার সাহস পেত না।
গত ৭ ফেব্রুয়ারি কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছে মুরাদ হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন এক অভিভাবক। এরপর তাকে আজিমপুর ক্যাম্পাসের দিবা শাখা থেকে প্রত্যাহার করে অধ্যক্ষের কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়। কলেজের পক্ষ থেকে গঠন করা হয় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি। কিন্তু তাতে সন্তুষ্ট না হয়ে ওই শিক্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে আন্দোলনে নামে ভিকারুননিসার ছাত্রীরা। তাদের অভিভাবকরা জাতীয় প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে ওই শিক্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির পাশাপাশি তাকে চাকরিচ্যুত করার দাবি জানান। এই প্রেক্ষাপটে গত সোমবার রাতে কলেজের পরিচালনা কমিটির সভায় মুরাদ হোসেনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। সেদিনই মামলার পর গ্রেপ্তার হয় ওই শিক্ষক।
পুলিশ জানিয়েছে, কোচিং চলাকালে প্রায় সময় ভুক্তভোগী ছাত্রী ও তার সহপাঠীদের আপত্তিকর কৌতুক শোনাতেন শিক্ষক মুরাদ। ওই ছাত্রী স্কুলে নাচ করত, সেই নাচের ভিডিও ঘুমানোর আগে দেখতেন বলে তাকে একাধিকবার বলেন তিনি।