বিভিন্ন অপরাধে সাজা শেষ করা ১৫৭ বিদেশি কারাবন্দিকে তাদের দেশে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনা এসেছে উচ্চ আদালত থেকে। গতকাল বৃহস্পতিবার বিচারপতি নাইমা হায়দার ও বিচারপতি কাজী জিনাত হকের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেয়।
কারা অধিদপ্তরকে এ ইনির্দেশনা বাস্তবায়ন করে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। আগামী ২৮ মে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে এ বিষয়ে প্রতিবেদন দাখিল এবং পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছে হাইকোর্ট।
মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল সীমান্ত এলাকা দিয়ে অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে ২০২২ সালের ১৯ জানুয়ারি ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের কমলপুর থানার বাসিন্দা গোবিন্দ উড়িয়াকে (২৬) গ্রেপ্তার করে বিজিবি। একই বছরের ৪ এপ্রিল অনুপ্রবেশের অভিযোগে তাকে ২ মাস ১০ দিনের কারাদন্ড দেয় মৌলভীবাজারের বিচারিক আদালত। একই সঙ্গে নির্ধারিত কারাদন্ডের চেয়ে বেশি সাজা খাটায় তাকে প্রত্যাবাসনের ব্যবস্থা করতে নির্দেশ দেয় আদালত। তবে, ওই রায়ের পর দীর্ঘদিন কেটে গেলেও গোবিন্দর কারামুক্তি ও প্রত্যাবাসনের বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এ নিয়ে একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের প্রতিবেদন প্রকাশের পর প্রতিবেদনটি যুক্ত করে গত ১১ জানুয়ারি উচ্চ আদালতে রিট আবেদন করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী বিভূতি তরফদার।
১৫ জানুয়ারি হাইকোর্ট অন্তর্বর্তীকালীন আদেশে গোবিন্দ উড়িয়াকে মুক্তির নির্দেশসহ রুল দেয়। একই সঙ্গে সাজাভোগ শেষেও প্রত্যাবাসন হয়নি এমন বিদেশি বন্দিদের তালিকা চায় হাইকোর্ট। গত ২১ জানুয়ারি কারা অধিদপ্তর হাইকোর্টে দেওয়া এক প্রতিবেদনে বলে, কারাগারগুলোতে ১৫৭ বিদেশি বন্দিদের মধ্যে ভারতের ১৫০, মিয়ানমারের ৫ এবং পাকিস্তান ও নেপালের ১ জন করে রয়েছেন।
রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অমিত দাসগুপ্ত। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘১৫৭ বিদেশি বন্দিকে প্রত্যাবাসনের ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। হাইকোর্টের এ রায় বাস্তবায়ন করে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।’