বিশ্ব জুড়ে স্থূলতা বা অতিরিক্ত ওজনের সমস্যায় ভুগছে ১০০ কোটির বেশি মানুষ; যা তিন দশক আগের তুলনায় চারগুণের বেশি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) এর একটি গবেষণার বরাতে এই তথ্য জানিয়েছে চিকিৎসাবিষয় সাময়িকী ল্যানসেট। বিশ্বের ১৯০টিরও বেশি দেশের ২২ কোটির বেশি মানুষের ওজন এবং উচ্চতা পরিমাপ বিশ্লেষণ করে এই তথ্য পাওয়া গেছে।
বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৪ মার্চ বিশ্ব স্থূলতা দিবসের আগে এই প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়েছে। গবেষকরা বলেছেন, ১৯৯০ সালে বিশ্বে প্রায় ২২ কোটি ৬০ লাখ স্থূলকায় প্রাপ্তবয়স্ক, কিশোর এবং শিশু ছিল। ২০২২ সালে এই সংখ্যা বেড়ে ১০৩ কোটি ৮০ লাখে পৌঁছেছে।
সমীক্ষায় বলা হয়েছে, ১৯৯০ সাল থেকে পুরুষদের মধ্যে ১৪ শতাংশের স্থূলতার হার প্রায় তিনগুণ বেড়েছে এবং নারীদের মধ্যে ১৮.৫ শতাংশের ক্ষেত্রে তা দ্বিগুণেরও বেশি হয়েছে। ২০২২ সালে ৫০ কোটি ৪০ লাখ প্রাপ্তবয়স্ক নারী এবং ৩৭ কোটি ৪০ লাখ পুরুষ স্থূলকায় ছিল।
সমীক্ষায় আরও বলা হয়েছে, ২০২২ সালে প্রায় ১৫ কোটি ৯০ লাখ শিশু এবং কিশোর-কিশোরী স্থূলতার সমস্যায় ভুগেছে। ১৯৯০ সালে এ সংখ্যা ছিল মাত্র ৩ কোটি ১০ লাখ। এই ‘মহামারী’ দরিদ্র দেশগুলোতে বেশি আঘাত হানছে। সেসব অঞ্চলে প্রাপ্তবয়স্কদের তুলনায় শিশু এবং কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে স্থূলতার হার দ্রুত বাড়ছে।
স্থূলতার সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধির বিষয়ে চিকিৎসকরা আগে থেকেই জানতেন। তবে এটি যে এত দ্রুত বাড়তে পারে তা তাদের ধারণার বাইরে ছিল। ধারণা ছিল, স্থূলতার প্রতীকী এই চিত্র ২০৩০ সালে দেখা যাবে। এ বিষয়ে ডব্লিউএইচও এর স্বাস্থ্যের জন্য পুষ্টি বিভাগের পরিচালক ফ্রান্সেসকো ব্রাঙ্কা বলেছেন, স্থূলকায় মানুষের সংখ্যা ‘আমাদের প্রত্যাশার চেয়ে অনেক আগে’ ১০০ কোটিতে চলে এসেছে।
অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলতা একটি দীর্ঘস্থায়ী এবং জটিল ধরনের অসুস্থতা। এর কারণে হৃদরোগ, ডায়াবেটিস এবং নির্দিষ্ট কিছু ক্যানসার আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে মৃত্যুঝুঁকি আরও বেড়েছে। গবেষকরা বলেছেন, অতিরিক্ত ওজনের কারণে মৃত্যুঝুঁকি করোনা মহামারী চলাকালে বেড়েছে। অনিয়মিতভাবে ও অতিরিক্ত এবং অস্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়াকে স্থূলতা বৃদ্ধির জন্য দায়ী করেছেন তারা।
এ বিষয়ে ডব্লিউএইচও এর মহাপরিচালক তেদ্রোস আধানম গেব্রিয়াসুস বলেছেন, নতুন গবেষণাটি জীবনের প্রাথমিক পর্যায় থেকে প্রাপ্তবয়স্ক হওয়া পর্যন্ত স্থূলতা প্রতিরোধ ও পরিচালনায় খাদ্য, শারীরিক কার্যকলাপ এবং প্রয়োজনীয় যত্নের ওপরই গুরুত্বারোপ করছে।
এর প্রতিরোধে, চিনিযুক্ত পানীয়ের ওপর ট্যাক্স আরোপ করা, শিশুদের মধ্যে অস্বাস্থ্যকর খাবারের বিপণন সীমিত করা এবং স্বাস্থ্যকর খাবারের জন্য ভর্তুকি দেওয়াকে সমর্থন করেছে ডব্লিউএইচও। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডায়াবেটিসের বিরুদ্ধে নতুন চিকিৎসাগুলোও স্থূলতা মোকাবিলায় সহায়তা করতে পারে।