চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে দাখিল পরীক্ষায় ইংরেজী প্রথম পত্রে নকল সরবরাহের দায়ে এক মাদরাসা অধ্যক্ষকে দুই বছরের কারাদণ্ড দিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। একই সাথে এক হাজার টাকা অর্থদণ্ড এবং অনাদায়ে আরো এক মাসের বিনাশ্রম কারাদন্ড প্রদান করা হয়।
সাজাপ্রাপ্ত শিক্ষক রাজাপুরা আল আমিন ফাজিল মাদরাসার অধ্যক্ষ মো. ছায়েদুল ইসলাম (৫৩)। তিনি ব্রাহ্মনবাড়িয়া জেলার নবীনগর থানার ভদ্রগাছা গ্রামের মৃত সুন্দর আলীর ছেলে।
রবিবার (৩ মার্চ) শাহরাস্তি চিশতিয়া ইসলামিয়া আলিম মাদরাসা কেন্দ্রে পরীক্ষা চলাকালে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইয়াসির আরাফাত।
তিনি বলেন, পরীক্ষা চলাকালে গাড়ি দূরে রেখে কেন্দ্রে প্রবেশ করি। এ সময় কেন্দ্রের ভেতরে অফিস সহকারী, আয়া এবং কিছু শিক্ষক ছোটাছুটি শুরু করেন। ওই কেন্দ্রে অনিয়ম ও নকলের বিষয়টি আন্দাজ করতে পেরে শ্রেণিকক্ষ এবং শিক্ষার্থীদের দেহ তল্লাশি করি। পরে শ্রেণিকক্ষের বাইরে এবং পরীক্ষা কেন্দ্রের বাউন্ডারি সীমানার মধ্যে অসংখ্য হাতে লিখে সমাধান করা প্রশ্নের উত্তর ও নকল পাওয়া যায়। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতি টের পেয়ে শিক্ষকদের ইঙ্গিতে পরীক্ষার্থীরা নকল জানালা দিয়ে শ্রেণিকক্ষের বাইরে ফেলে দিয়েছিল।
তিনি আরও বলেন, হাতে লিখে সমাধান করা ফটোকপি করা নকল দেখে কেন্দ্রে উপস্থিত দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
জিজ্ঞাসাবাদে অধ্যক্ষ ছায়েদুল ইসলাম পরীক্ষা কেন্দ্রের প্রিন্টারে ২৫ থেকে ৩০ কপি হাতে লেখা নকলের প্রিন্ট বের করেছেন বলে জানিয়েছেন। তার মোবাইল ফোন তল্লাশি করে হোয়াটসঅ্যাপের মধ্যে শ্রেণিকক্ষের বাইরে উদ্ধারকৃত হাতে লেখা নকলের হুবহু ছবি পাওয়া যায়।
ওই অধ্যক্ষ জানান, তার এক ছাত্র এগুলো সমাধান করে তাকে হোয়াটসঅ্যাপে পাঠিয়েছে। পরে তিনি কেন্দ্রের প্রিন্টারে প্রিন্ট করে রুমে রুমে নকল সরবরাহ করেছেন।