কুমিল্লা 

দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীকে দিয়ে এসএসসির খাতা মূল্যায়নের অভিযোগ

আপডেট : ২৩ জুন ২০২৬, ০৮:২৫ পিএম

কুমিল্লার দেবিদ্বার উপজেলার একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পরীক্ষার বোর্ডের খাতা একজন দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীকে দিয়ে মূল্যায়ন করানোর অভিযোগ উঠেছে।

মঙ্গলবার (২৩ জুন) বিকেলে এ সংক্রান্ত কয়েকটি ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি জনসমক্ষে আসে। এরপর থেকেই স্থানীয় অভিভাবক, শিক্ষার্থী ও সচেতন নাগরিকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি অনুষ্ঠিত এসএসসি পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়নের দায়িত্ব পান উপজেলার আব্দুল্লাহপুর হাজী আমীর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বাচ্চু মিয়া। তবে তিনি নিজে খাতা মূল্যায়ন না করে তার বিদ্যালয়েরই দশম শ্রেণির একজন শিক্ষার্থীকে দিয়ে উত্তরপত্র দেখানোর কাজ করিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, ওই শিক্ষার্থী একটি কক্ষে বসে এসএসসি পরীক্ষার খাতা দেখছে এবং নম্বর দিচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, পাবলিক পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়ন একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল দায়িত্ব। এ দায়িত্ব পালনে নির্ধারিত পরীক্ষক ছাড়া অন্য কাউকে, বিশেষ করে একজন স্কুলপড়ুয়া শিক্ষার্থীকে সম্পৃক্ত করায় পরীক্ষার ফলাফলের নির্ভুলতা, স্বচ্ছতা ও গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন উঠেছে।

আইনে বলা আছে, বোর্ড পরীক্ষার উত্তরপত্র একটি গোপনীয় বিষয়। এটি প্রধান পরীক্ষক বা পরীক্ষকদের কাছে পবিত্র আমানত। পরীক্ষার উত্তরপত্র প্রধান পরীক্ষক বা পরীক্ষক ব্যতীত অন্য কোনো ব্যক্তি, শিক্ষার্থী বা পরিবারের সদস্যকে দিয়ে বৃত্ত ভরাট বা মূল্যায়ন করানো পরীক্ষা পরিচালনা-সংক্রান্ত ১৯৮০ সালের ৪২ নম্বর আইনের আওতায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এ অপরাধ প্রমাণিত হলে দুই বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড কিংবা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হতে পারেন। এমতাবস্থায় পরীক্ষার উত্তরপত্র গোপনীয়তার সঙ্গে মূল্যায়ন ও সংরক্ষণ করার জন্য পরামর্শ দেওয়া হলো।

একাধিক অভিভাবক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বোর্ড পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নে এমন অনিয়ম পুরো শিক্ষাব্যবস্থার প্রতি আস্থা ক্ষুণ্ন করে। আমাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ এভাবে কারও খামখেয়ালির হাতে ছেড়ে দেওয়া যায় না। বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে আব্দুল্লাহপুর হাজী আমীর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বাচ্চু মিয়ার মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফোন করা হলে তিনি সাড়া দেননি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে দেবিদ্বার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অশোক বিক্রম চাকমা বলেন, অভিযোগের বিষয়টি আমরা অত্যন্ত গুরুত্বসহকারে দেখছি। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ইউএনও আরও জানান, ভবিষ্যতে এ ধরনের অনিয়ম ও সংবেদনশীল বিষয়ে গাফিলতি যাতে না ঘটে, সে জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর নজরদারি রাখা হবে।

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত