বিদেশি মুদ্রার সংকটের মধ্যে প্রবাসী আয়ে চমক দেখাচ্ছে। বছরের সবচেয়ে ছোট মাসেও প্রবাসী আয় দুই বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে গেছে। ফেব্রুয়ারিতে প্রবাসীরা ২ দশমিক ১৬ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন, যা আট মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ।
২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের তুলনায় সদ্য শেষ হওয়া ফেব্রুয়ারিতে রেমিট্যান্স বেড়েছে ৩৮ দশমিক ৪৬ শতাংশ। আর চলতি বছর জানুয়ারি মাসের চেয়ে ফেব্রুয়ারি মাস ২ দিন কম হলেও আগের মাসের চেয়ে ৬ কোটি ডলার রেমিট্যান্স বেড়েছে। জানুয়ারিতে রেমিট্যান্স এসেছিল ২ দশমিক ১০ বিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
ব্যাংক কর্মকর্তারা বলছেন, চলতি মাসের ১১ বা ১২ তারিখে রমজান শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। রমজানে দেশে অবস্থানরত পরিবারের যাবতীয় খরচ মেটাতে প্রবাসীরা বেশি অর্থ পাঠাচ্ছেন। মার্চে এই প্রবাহ আরও বাড়বে বলেও মনে করছেন তারা।
রপ্তানি আয়ের বাইরে প্রবাসী আয় বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার অন্যতম প্রধান উৎস। কিন্তু প্রবাসী আয়, রপ্তানি আয়, বিদেশি বিনিয়োগ ও ঋণের মাধ্যমে দেশে যে বৈদেশিক মুদ্রা আসে, তার তুলনায় আমদানি ও অন্যান্য দায় পরিশোধের জন্য বেশি চলে যায়, তাই বিদেশে কর্মরতদের পাঠানো অর্থ বাংলাদেশের ব্যালেন্স অব পেমেন্টে (বিওপি) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
এ ছাড়া আড়াই বছর ধরে বাংলাদেশ ব্যাংক বিভিন্ন বিল পরিশোধের সুবিধার্থে দেশের ব্যাংকগুলোর কাছে ২৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বেশি বিক্রি করেছে, ফলে রিজার্ভ ক্রমান্বয়ে কমেছে।
এদিকে গত বছরের অক্টোবর থেকে রেমিট্যান্স বাড়লেও তা প্রত্যাশা অনুযায়ী হচ্ছে না বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। ২০২৩ সালে ১৩ লাখ মানুষ কাজের জন্য বিদেশে পাড়ি জমিয়েছেন। গত দুই বছরের সময়কালে ২০ লাখের বেশি মানুষ বিদেশের মাটিতে কাজ পেয়েছেন। এতে প্রত্যাশা ছিল, রেমিট্যান্স প্রবাহ আরও বাড়বে।
প্রবাসীদের তুলনায় বৈধ পথে রেমিট্যান্সের প্রত্যাশা পূরণ না হওয়ার জন্য বিশ্লেষকরা ‘হুন্ডি’ নামে পরিচিত অনানুষ্ঠানিক চ্যানেলের মাধ্যমে অর্থ পাঠানোকে দোষারোপ করেছেন। কারণ বৈধ মাধ্যমের চেয়ে এসব মাধ্যমে অর্থ পাঠালে উচ্চ বিনিময় হার ও অন্যান্য সুবিধা পান প্রবাসীরা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের এক কর্মকর্তা জানান, ২০২৩ সালের জুন মাসে সবশেষ ২ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করেছিল রেমিট্যান্স। মাঝে ৬ মাসের বেশি সময় ২ বিলিয়ন ডলার বা এর বেশি আসেনি।
তবে চলতি বছরের প্রথম মাস থেকেই প্রবাসী আয় বা রেমিট্যান্স আসার ধারা ভালো রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, আগামী আরও দুই মাস এই ধারা অব্যাহত থাকবে। এখন নিরাপদ ও বাড়তি প্রণোদনা পাওয়ায় প্রবাসীরা উৎসাহিত হচ্ছেন।
রিজার্ভ কমে ২০ দশমিক ৫৭ বিলিয়ন ডলার : এদিকে রেমিট্যান্স আয় বাড়লেও দেশের মোট রিজার্ভ কমেছে। বৃহস্পতিবার রিজার্ভ ছিল ২০ দশমিক ৫৭ বিলিয়ন ডলার। আন্তর্জাতিক অর্থ তহবিল-আইএমএফ নির্দেশিত বিপিএম-৬ পদ্ধতিতে রিজার্ভের এই হিসাব করা হয়েছে। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে রিজার্ভ এখন ২৫ দশমিক ৭৬ বিলিয়ন ডলার; অর্থাৎ চলতি অর্থবছর দেশের বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভ কমেছে ৫ দশমিক ৪৪ বিলিয়ন ডলার।