ডিসি সম্মেলন

পদ্মা ও যমুনায় দ্বিতীয় সেতু চান ডিসিরা

দেশের যোগাযোগব্যবস্থা সহজ করতে আরও চার সেতুর প্রস্তাব দিয়েছেন জেলা প্রশাসকরা (ডিসি)। সেগুলো হচ্ছে পদ্মা নদীতে রাজবাড়ী-পাটুরিয়া ঘাটে দ্বিতীয় সেতু এবং যমুনায় বাহাদুরাবাদ-বালাসী ঘাটে আরেকটি সেতুর পাশাপাশি কক্সবাজার ও মহেশখালীকে যুক্ত করতে বাঁকখালী নদী এবং বরগুনার বেতাগী নদীর ওপর সেতু। গতকাল সোমবার রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ডিসি সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনে এসব প্রস্তাব দেন ডিসিরা। তবে চার সেতুর মধ্যে পদ্মা ও যমুনা নদীতে দ্বিতীয় সেতুর প্রয়োজনীয়তা বেশি করে তুলে ধরেন তারা।

সেতু সচিব মনজুর হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, ‘২০৫০ সাল পর্যন্ত সরকারের বাস্তবায়নাধীন পরিকল্পনার মধ্যে এই চার সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। একে একে বাস্তবায়ন করা হবে।’ তবে পদ্মা নদীতে রাজবাড়ী-পাটুরিয়াকে যুক্ত করতে সেতু নাকি টানেল, কোনটা হবে তা এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি জানিয়ে তিনি বলেন, সম্ভাব্য যাচাইয়ের পর সরকার ঠিক করবে ধরনটি কেমন হবে।

সারা দেশে শতাধিক স্থানে সবচেয়ে বেশি যানজট হয় এমন তথ্য তুলে ধরে সেতু বিভাগের সচিব মনজুর বলেন, ‘এসব স্থানে কেন যানজট তৈরি হয় তা জানাতে বলা হয়েছে।’ বৈঠকে সারা দেশে সড়ক সম্প্রসারণ ও ভেঙে যাওয়া সড়ক মেরামতের প্রস্তাবও দেন ডিসিরা।

রেলওয়েকে চারটি অঞ্চলে বিভক্ত করার চিন্তা : সম্মেলনে অংশ নিয়ে রেলমন্ত্রী মো. জিল্লুল হাকিম সারা দেশকে রেল যোগাযোগের আওতায় আনতে সরকারের পরিকল্পনার পাশাপাশি সেবা বাড়াতে রেলওয়েকে চারটি অঞ্চলে বিভক্ত করার চিন্তাভাবনার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘রেলকোচ ও ইঞ্জিনসংকট শেষ হলে আগামী বছর থেকে আন্তঃনগর ট্রেনের সংখ্যা ও জনবল বাড়ানো হবে। বর্তমানে রেলওয়ে পূর্ব ও পশ্চিম-দুই অঞ্চলে ভাগ হয়ে দেশজুড়ে রেলের কার্যক্রম পরিচালনা করছে।’ তবে অবৈধ ক্রসিং বন্ধের পাশাপাশি বেদখল হওয়া রেলের জমি উদ্ধারে জোর দিতে নির্দেশনা দেওয়ার কথাও বলেন তিনি।

রেল সচিব হুমায়ুন কবির সাংবাদিকদের বলেন, যশোরের শার্শা উপজেলায় রেলস্টেশন ও নোয়াখালী থেকে-লক্ষ্মীপুর পর্যন্ত রেললাইন স্থাপনের প্রস্তাব এসেছে ডিসিদের কাছ থেকে। ময়মনসিংহ শহরে রেলক্রসিংয়ের কারণে যানজট হচ্ছে, যা সমাধানে বিশেষ উদ্যোগের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে প্রস্তাব দিয়েছেন ডিসি।

রেল সচিব বলেন, সড়ক নিরাপদ করতে প্রতি মাসে একবারের পরিবর্তে দুবার অংশীজনদের নিয়ে বৈঠক করতে ডিসিদের বলা হয়েছে। এসব বৈঠক থেকে আসা পর্যবেক্ষণ যাচাই করে বিবেচনায় নেওয়া হবে।

নিজের ঘরকে দুর্নীতিমুক্ত করতে বলেন দুদক চেয়ারম্যান : আগে নিজের ঘরকে দুর্নীতিমুক্ত করতে জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) বলেছেন দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মঈনউদ্দীন আবদুল্লাহ। তিনি বলেন, ‘আমি জেলা প্রশাসকদের বলেছি, আপনি নিজে দুর্নীতিমুক্ত কি না, আপনার অফিস দুর্নীতিমুক্ত কি না আগে নিজের কাছে প্রশ্ন করেন।’

গতকাল জেলা প্রশাসক সম্মেলনে দুদকের অধিবেশন শেষে সাংবাদিকদের কাছে এ কথা জানান কমিশন চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, ‘আমি তাদের (জেলা প্রশাসক) বলেছি, যদি আপনার অফিস দুর্নীতিমুক্ত না হয়, নিজের অফিসকে দুর্নীতিমুক্ত করেন। জেলা-উপজেলা, ইউনিয়নপর্যায়ে আপনার অধীনে যেসব অফিস আছে, সেখানে দুর্নীতিমুক্ত করার চেষ্টা করেন। নিজের ঘর দুর্নীতিমুক্ত করেন, তারপর অন্যান্য দুর্নীতির খোঁজখবর রাখেন।’

জেলা প্রশাসকদের সরকারের প্রতিনিধি উল্লেখ করে কমিশন চেয়ারম্যান বলেন, ‘তারা ৩০-৩৫টি কমিটির প্রধান। জেলার সব কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত থাকেন। এজন্য অনিয়ম-দুর্নীতির তথ্য তাদের কাছে আগে থাকে। জেলা প্রশাসকদের আমরা এ বিষয়ে সচেতন থাকতে বলেছি। কোথায় অনিয়ম-দুর্নীতি হচ্ছে এগুলো আপনাদের কাছে আগে আসে। কীভাবে সব তথ্য আসতে পারে সেই ম্যাকানিজম তৈরি করে, তথ্য সংগ্রহ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন। যেগুলো দুদককে পাঠানো দরকার তা পাঠিয়ে দেবেন। কোনো কারণে যদি সরাসরি পাঠাতে সমস্যা হয়, তাহলে ১৫ দিন পরপর একটা গোপন প্রতিবেদন দিয়ে মন্ত্রিপরিষদে পাঠান। সেখানে দিলে আমরাও জেনে যাব।’

প্রতিকার ও প্রতিরোধ দুদকের প্রধান কাজ উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘অনুসন্ধান তদন্ত করে মামলার মাধ্যমে আদালতে সোপর্দ করি, এটা প্রতিকার। জেলা প্রশাসকের সাহায্য ছাড়া প্রতিরোধ আমরা সুচারুভাবে করতে পারি না। দুর্নীতি যেন না হয় সেজন্য প্রচার করা ও আমাদের সাহায্য করতে তাদের (ডিসি) আহ্বান জানিয়েছি। জেলা ও বিভাগীয় অফিসে তারা যেন সার্বিক সহায়তা করেন। জেলাপর্যায়ে আমাদের লোকবল যথেষ্ট না, এজন্য প্রতিরোধমূলক কার্যক্রমে তাদের সহায়তা চেয়েছি।’