অবরুদ্ধ ভূখন্ড গাজার উত্তরে খাবারের চরম সংকটে অনাহারে মারা যাচ্ছে শিশুরা। এই কথা জানিয়েছেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) প্রধান ডা. টেদ্রোস আধানম গেব্রিয়াসুস। এদিকে মিসরের রাজধানী কায়রোতে গাজা যুদ্ধ বন্ধ করতে যে আলোচনা চলছিল, তা নিয়ে নতুন করে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। এতে আসন্ন রমজানেও গাজায় যুদ্ধ চলার ভীতি জেগেছে।
ডাব্লিউএইচও প্রধান ডা. টেদ্রোস আধানম গেব্রিয়াসুস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানান, খাবারের চরম সংকটে উত্তর গাজায় ইতিমধ্যে ১০ জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে এবং চরম অপুষ্টির মধ্যে রয়েছে অনেক শিশু।
তিনি আরও বলেন, আল-আওদা হাসপাতালের পরিস্থিতি ভয়াবহ, কারণ হাসপাতালটির ভবন ধ্বংস হয়ে গেছে। উত্তর গাজায় আনুমানিক তিন লাখ মানুষ খাবার ও বিশুদ্ধ পানির চরম সংকটের মধ্যে বসবাস করছে।
গাজায় হামাস পরিচালিত স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় গত রবিবার জানিয়েছে, কামাল আদওয়ান হাসপাতালে অপুষ্টি ও পানিশূন্যতার কারণে অন্তত ১৫ শিশু মারা গেছে। অন্যদিকে ফিলিস্তিনের সরকারি বার্তা সংস্থা ওয়াফা গত সোমবার জানিয়েছে, দক্ষিণাঞ্চলীয় রাফাহ শহরের একটি হাসপাতালে রবিবার অনাহারে ও অপুষ্টিতে ষোলতম শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে জাতিসংঘ গত সপ্তাহে সতর্ক করেছিল যে গাজায় দুর্ভিক্ষ ‘প্রায় অনিবার্য’।
জাতিসংঘের শিশু-বিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফের আঞ্চলিক পরিচালক অ্যাডেল খোদর বলেন, ‘এই মর্মান্তিক এবং ভয়াবহ মৃত্যু মানবসৃষ্ট, অনুমানযোগ্য এবং সম্পূর্ণরূপে প্রতিরোধযোগ্য।’
ফিলিস্তিনের গাজায় যুদ্ধবিরতি নিয়ে মিসরের কায়রোয় হামাস ও মধ্যস্থতাকারীদের মধ্যকার দুদিনের আলোচনা সমঝোতা ছাড়াই শেষ হয়েছে। জীবিত জিম্মিদের তালিকা চেয়ে নতুন শর্ত জুড়ে দিয়ে এ আলোচনায় প্রতিনিধিদল পাঠায়নি ইসরায়েল।
আগামী সপ্তাহে রমজান মাস শুরু হতে যাচ্ছে। নতুন যুদ্ধবিরতি চুক্তির অধীন কয়েক ডজন জিম্মিকে মুক্তি দেওয়া এবং মানবসৃষ্ট দুর্ভিক্ষ এড়াতে গাজায় ত্রাণসহায়তা বাড়ানোর বিষয়ে সমঝোতার কথা রয়েছে। আলোচনায় মধ্যস্থতা করছে কাতার, মিসর ও যুক্তরাষ্ট্র।
হামাসের একজন প্রতিনিধি গতকাল মঙ্গলবার বলেছেন, মধ্যস্থতাকারীদের অনুরোধে তাদের আলোচকরা আরও একদিন কায়রোয় অবস্থান করছেন।
হামাসের জ্যেষ্ঠ নেতা বাসেম নাইম বাসেম বলেন, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু কোনো সমঝোতা চান না। বল এখন আমেরিকান কোর্টে। তারাই নেতানিয়াহুকে যুদ্ধবিরতির ব্যাপারে রাজি করাতে পারে।
এদিকে ইসরায়েলের তরফ থেকে বলা হয়, জীবিত থাকা সব জিম্মির নতুন করে তালিকা দিতে হামাস অস্বীকার করায় ইসরায়েল আলোচনায় যায়নি।
হামাস বলছে, যুদ্ধবিরতির আগে তারা কোনো তালিকা দিতে পারবে না; কারণ যুদ্ধ চলা এলাকার যোদ্ধাদের কাছে জিম্মিরা বিক্ষিপ্তভাবে আটক রয়েছেন।
ইসরায়েলে মার্কিন দূতাবাসের কর্মীর মৃতদেহ
ইসরায়েলে মার্কিন দূতাবাসের এক কর্মীকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। গত সোমবার মার্কিন দূতাবাসের একজন মুখপাত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে ওই কর্মীর পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। জেরুজালেমে দূতাবাস কর্মীর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে মার্কিন দূতাবাস। যদিও মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, ওই কর্মী দূতাবাসের সরাসরি নিয়োগে কাজ করতেন এবং তারা গোপনীয়তা রক্ষায় তার পরিচয় প্রকাশ করছে না।
পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র ম্যাথিউ মিলার সাংবাদিকদের বলেন, ‘জেরুজালেমে মার্কিন দূতাবাসের একজন কর্মীর মৃত্যুর বিষয়টি আমি নিশ্চিত করতে পারি। তবে গোপনীয়তার কারণে আমি এই মুহূর্তে এর চেয়ে বেশি কিছু বলতে পারব না।’
২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্র তার দূতাবাস তেল আবিব থেকে জেরুজালেমে স্থানান্তরিত করে। এটি ছিল এমন একটি পদক্ষেপ যা বেশিরভাগ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় অনুসরণ করেনি।