দেশ রূপান্তর সাংবাদিকের কারাদণ্ড সাংবাদিক নেতাদের উদ্বেগ

দেশ রূপান্তরের শেরপুরের নকলা উপজেলা সংবাদদাতা শফিউজ্জামান রানা তথ্য অধিকার আইনে তথ্য চাওয়ায় সাজানো অভিযোগ তুলে ইউএনও কার্যালয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে তাকে কারাদণ্ড দেওয়ার ঘটনায় বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠন ও সাংবাদিক নেতারা তীব্র নিন্দা ও উদ্বেগ জানিয়েছেন। তারা রানার নিঃশর্ত মুক্তি এবং এ ঘটনায় দোষীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

তারা বলেন, সরকার যখন দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করেছে, সেই সময়ে একজন সাংবাদিকের তথ্য চাওয়াকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করে ন্যক্কারজনক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে নকলা উপজেলা প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিরা।

বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের (বিএমএসএফ) কেন্দ্রীয় সভাপতি আহমেদ আবু জাফর এ ন্যক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা ও দোষীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণসহ অবিলম্বে রানার নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানান। একই সঙ্গে সংগঠনের পক্ষ থেকে তার মুক্তির বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি সহায়তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংগঠনটি। 

গতকাল বৃহস্পতিবার সংগঠনের উপপ্রচার সম্পাদক মো. রইছ উদ্দিন স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে বলা হয়, এ ঘটনার মাধ্যমে অবাধ তথ্যপ্রবাহ ও সরকারের স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহিতা প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়েছে। বিবৃতিতে এ ঘটনাকে অত্যন্ত নিন্দনীয় ও লজ্জাজনক উল্লেখ করে সংগঠনটি বলেছে, সরকারের আইন অনুযায়ী তথ্য চাওয়াকে তারা (প্রশাসন) অপরাধ হিসেবে গণ্য করে আইনের ব্যত্যয় ঘটিয়েছেন, যা অত্যন্ত দুঃখজনক ও তথ্যের প্রবাহকে বাধাগ্রস্ত করার শামিল।

শেরপুর প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আদিল মাহমুদ উজ্জ্বল এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, ‘ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে একজন সাংবাদিককে সাজা দেবে এটা কোনোভাবেই কাম্য নয়।’

সাংবাদিক ইউনিয়ন শেরপুর জেলা সভাপতি মানিক দত্ত বলেন, ‘একজন সাংবাদিককে ছয় মাসের সাজা– এটা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।’ গাঙচিল সাহিত্য সাংস্কৃতিক পরিষদ শেরপুর জেলা সভাপতি কবি রফিক মজিদ বলেন, ‘ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে রানাকে ছয় মাসের সাজা দেওয়ার ঘটনা সাংবাদিকদের জন্য অশনিসংকেত এবং স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপরও হুমকি।’

তথ্য অধিকার আইনে তথ্য চাওয়ায় সাংবাদিক শফিউজ্জামান রানাকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সাজানো অভিযোগে ছয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়ার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও ঘৃণা জানিয়েছে প্রেস ক্লাব জামালপুর।

সংগঠনের সভাপতি আজিজুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘দেশের আইনের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে একজন গণমাধ্যমকর্মী তথ্য চেয়ে আবেদন করেও হয়রানির শিকার হয়েছেন। এর পরও উপজেলা প্রশাসনের সহায়তায় তাকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে সাজানো মামলায় ছয় মাসের কারাদণ্ড দিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আমরা সরকারের কাছে অবিলম্বে এ জঘন্য ও ন্যক্কারজনক ঘটনার তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাই।’ তারা রানার মুক্তির দাবি জানিয়ে বলেন, ‘অন্যথায় জামালপুরে তীব্র আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।’

জামালপুর অনলাইন জার্নালিস্ট নেটওয়ার্কের সভাপতি জাহাঙ্গীর সেলিম এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। তিনি রানার নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানিয়ে বলেন, ‘অন্যথায় সাংবাদিকরা আন্দোলন করতে মাঠে নামবেন।’

নেত্রকোনা জেলা প্রেস ক্লাবের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সচিব বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট হাবিবুর রহমান বলেন, দেশ রূপান্তরের সাংবাদিক রানাকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে কারাদণ্ড দেওয়ার ঘটনা নিন্দনীয়। তিনি প্রেস ক্লাবের পক্ষ থেকে এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।