এডেন উপসাগরে একটি বাণিজ্যিক জাহাজে ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনভিত্তিক বিদ্রোহী গোষ্ঠী হুতির ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত তিনজন নাবিক নিহত হয়েছে। এই হামলায় আরও চারজন আহত হয়েছেন। তাদের অবস্থাও আশঙ্কাজনক। গাজা যুদ্ধ শুরুর পর হুতি বিদ্রোহীদের ধারাবাহিক হামলা হলেও এতে কেউ নিহত হয়নি। অর্থাৎ হুতিদের হামলায় নিহত হওয়ার ঘটনা এটিই প্রথম।
গত বুধবার ‘ট্রু কনফিডেন্স’ নামের লাইবেরিয়ার মালিকানাধীন জাহাজটিতে হামলার দায় স্বীকার করেছে হুতি গোষ্ঠী। ইয়েমেনের এডেন বন্দরের উপকূল থেকে প্রায় ৯৩ কিলোমিটার দূরে এ হামলার ঘটনা ঘটে। মার্কিন সামরিক বাহিনী বলেছে, সমুদ্রপথে হুতি গোষ্ঠীর হামলা শুরুর পর থেকে এই প্রথম প্রাণহানির ঘটনা ঘটল।
মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, গত বুধবার রাত সাড়ে ১২টায় বার্বাডোজের পতাকাবাহী ট্রু কনফিডেন্স নামের জাহাজটিতে হামলা চালানো হয়। ইয়েমেনি শহর এডেন থেকে ৫০ নটিক্যাল মাইল দক্ষিণ-পশ্চিমে এডেন উপসাগরে জাহাজটির ওপর হামলা চালানো হয়।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, হামলার পর জাহাজটিতে আগুন ধরে গেলে অন্যরা পালিয়ে যায়। আহতদের অবস্থা গুরুতর। জাহাজটিতে মোট ২০ জন ক্রু ছিল যার মধ্যে একজন ভারতীয়। এ ছাড়া চারজন ভিয়েতনামের এবং বাকি ১৫ জন ফিলিপাইনের নাগরিক। এছাড়া জাহাজের তিন প্রহরীর মধ্যে দুজন শ্রীলঙ্কার এবং আরেকজন নেপালের।
হামলার দায় স্বীকার করে নিয়েছে শিয়া মতাবলম্বী হুতি বিদ্রোহীরা। তারা একটি বিবৃতিতে বলেছে, ট্রু কনফিডেন্স আমেরিকান জাহাজ। এর নাবিকরা হুতি নৌবাহিনীর দেওয়া সংকেত মানেনি। তবে জাহাজটির মালিকের মুখপাত্র বলেছে, এর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্টতা নেই।
মার্কিন কর্মকর্তা ম্যাথিউ মিলার বলেছেন, এ হামলার জন্য হুতিদের জবাবদিহির আওতায় আনার ব্যবস্থা করবে যুক্তরাষ্ট্র।