সৈয়দা শারমিন আক্তার
প্রিন্সিপাল নিউট্রিশনিস্ট
ডায়েট কাউন্সেলিং সেন্টার
লিকুইড ডায়েট
মূলত লো ক্যালরি ডায়েট। আজকাল অনেকে ওজন কমানোর জন্য লিকুইড ডায়েট অনুসরণ করেন। এ ডায়েটে খাবারগুলো মূলত তরল আকারে হয়। বিশেষ করে ফলের জুস, ভেজিটেবল জুস, মিল্ক শেক ইত্যাদি এর মূল উপাদান। লিকুইড ডায়েট ২ ধরনের হয়ে থাকে। যেমন
১. ডিটক্স বা ক্লিনজিং ডায়েট
২. মিল রিপ্লেসমেন্ট লিকুইড ডায়েট
ডিটক্স বা ক্লিনজিং ডায়েটে সারাদিনের সব খাবার লিকুইড দেওয়া হয়। সারা দিন ভেজিটেবল বা ফলের জুসের সঙ্গে শুধু হার্বস গ্রহণ করতে পারে। আর মিল রিপ্লেসমেন্ট লিকুইড ডায়েটে ১ থেকে ২ বেলার মূল খাবার পরিবর্তন করে লিকুইড জাতীয় খাবার দেওয়া হয়।
ক্ষতিকর প্রভাব
লিকুইড ডায়েট দীর্ঘদিন গ্রহণ করলে ইমিউনিটি কমে যায়, মাথা ঝিমঝিম করে, মাংসপেশি ক্ষয় এবং হাড় দুর্বল হয়ে পড়ে। এ ছাড়াও বমি বমি ভাব, মুড সুইংয়ের সমস্যা দেখা দেয়।
লিকুইড ডায়েট গ্রহণ করবেন না
গর্ভবতী ও প্রসূতি মা, বাড়ন্ত শিশু-কিশোর, অ্যাথলেট, কিডনি সমস্যা, লিভার ডিজিজ, উচ্চরক্তচাপ, এসিডিটি, হাইপারলিপিডেমিয়া, ডায়াবেটিস, ওষুধ নির্ভর যে কোনো রোগ ইত্যাদি। খাবারের মূল কাজ দেহে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে শরীর সুস্থ রাখা। সেখানে এ ধরনের ডায়েট ইমিউনিটি পাওয়ার কমিয়ে দেয়। কী লাভ তাহলে এ ধরনের ডায়েট করে! সুষম খাদ্য পরিকল্পনায় এ ধরনের কোনো সমস্যাই হয় না। মনে রাখবেন প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধ উত্তম। অবশ্যই অভিজ্ঞ পুষ্টিবিদের পরামর্শ নিয়ে ওজন কমানোর জন্য ডায়েট চার্ট করে নেওয়া উচিত।
মিলিটারি ডায়েট
এই ডায়েটকে ৩ দিনের ডায়েট বা নেভি ডায়েট বা আর্মি ডায়েট বা আইসক্রিম ডায়েটও বলা হয়। এটি এমন একটি ওজন হ্রাসকারী ডায়েট, যা অনুসরণ করলে ১ সপ্তাহে ১০ পাউন্ড ওজন কমে। এটি মূলত একটি চক্রাকার ডায়েট। সপ্তাহে ৩ দিন এ ডায়েট অনুসরণ করার পর মাঝে ৪ দিন বন্ধ রেখে আবার শুরু করা হয়। একজন ব্যক্তি তার কাক্সিক্ষত ওজনে না পৌঁছানো পর্যন্ত এভাবেই চক্রাকারে অনুসরণ করা হয়। প্রথম ৩ দিন ১১০০ থেকে ১৪০০ ক্যালরির মধ্যে লো ক্যালরিযুক্ত খাবার দেওয়া হয়। মূল খাবারের মধ্যবর্তী সময়ে কোনো স্ন্যাক্স থাকে না। বাকি ৪ দিন খাবারের ব্যাপারে কোনো বাধা নিষেধ না থাকলেও দৈনিক ১৫০০ ক্যালরির মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হয়। এই ডায়েটের মাধ্যমে ওজন কমলেও তা দীর্ঘস্থায়ী হয় না। এ ছাড়াও দীর্ঘসময় ধরে এ ডায়েট অনুসরণ কখনোই করা যায় না।
ক্ষতিকর প্রভাব
তীব্র ক্ষুধা লাগা, মস্তিষ্কের কার্যকারিতা হ্রাস পাওয়া, মাথাব্যথা, স্বাভাবিক খাবারে ফিরে আসলে দ্রুত ওজন বৃদ্ধি পায়। মুখ, বুক ও পেটে কর্টিসেল বৃদ্ধি পায়। ফলে উচ্চরক্তচাপ, অস্টিওপরোসিস, মাংসপেশির দুর্বলতা দেখা দেয়। এ ছাড়াও চুল পড়া, হতাশা, অস্থিরতা দেখা দেয়। স্বাভাবিক খাদ্যাভ্যাস ও সুষম খাদ্য পরিকল্পনায় এ ধরনের কোনো সমস্যা হয় না। মনে রাখবেন প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধ উত্তম। অবশ্যই অভিজ্ঞ পুষ্টিবিদের পরামর্শ নিন।