ইইউর বক্তব্য বিএনপির আরেকটি ষড়যন্ত্র : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান। তিনি বলেন, ‘কোনো হামলা-মামলা আমাদের পুলিশ বাহিনী, পলিটিক্যাল বাহিনী করেনি। তারাই (বিএনপি) করেছে। তারা করে তারাই যদি অপবাদ দেওয়ার চেষ্টা তরে তাহলে আমরা এ ধরনের বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করছি। আমরা মনে করি এগুলো সত্যের অপলাপ। উদ্দেশ্যমূলকভাবে আরেকটি ষড়যন্ত্রের একটা নতুন ক্ষেত্র তৈরির প্রচেষ্টা নিচ্ছেন।’

গতকাল শনিবার দুপুরে ‘পুলিশ মেমোরিয়াল ডে-২০২৪’ উপলক্ষে পুলিশ স্টাফ কলেজে আয়োজিত এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে কর্তব্যরত অবস্থায় জীবন উৎসর্গকারী পুলিশ সদস্যদের ফুলেল শ্রদ্ধায় স্মরণ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন। গত বছর কর্তব্যরত অবস্থায় জীবন উৎসর্গ করেছেন পুলিশের বিভিন্ন স্তরের ১৩৪ সদস্য।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘নির্বাচনে নিরাপত্তা বাহিনী নিরপেক্ষতার সঙ্গে নির্বাচন কমিশনকে সহযোগিতা করেছে। গত নির্বাচনে অনেক মন্ত্রী, বড় বড় নেতা এই নির্বাচনে ধরাশায়ী হয়েছেন। কাজেই আমরা সুনিশ্চিত করে বলতে পারি এই নির্বাচনে কোনো ধরনের কারচুপি হয়নি বা কোনো ধরনের সাপোর্ট কেউ পেয়েছে বলে আমরা মনে করি না, দেখিনি। ২০১৪ সালেও তারা (বিএনপি) একটি অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি, অগ্নিসন্ত্রাসের মাধ্যমে নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করেছে। তবে ক্রমান্বয়ে তারা জনবিচ্ছিন্ন হয়েছে।’

আসাদুজ্জামান খান বলেন, ‘ক্রমাগতভাবে বিএনপি মিথ্যা তথ্য প্রচার বা দিয়ে যাচ্ছে। তারা কে কীভাবে বিভ্রান্ত হচ্ছেন, সেটি আমাদের দেখার বিষয় নয়। আমরা স্পষ্ট করে বলতে পারি, তারা যেসব কথা বলছেন, সেসব দেশে ঘটেনি। দু-একটি দেশ বাদে সব দেশ সাধুবাদ, ধন্যবাদ জানাচ্ছে। তারা মনে করে দেশে একটি সুষ্ঠু ও সুন্দর নির্বাচন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নতুন সরকার গঠিত হয়েছে।’

এ সময় কারাগারে কোনো রাজবন্দি নেই জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘অন্যায়ভাবে বা রাজনৈতিকভাবে কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। যারা আছে তারা বিএনপির অ্যাকটিভিস্ট। তারা (বিএনপি) বলছে যে হাজার হাজার রাজবন্দি। আমি বলব, রাজবন্দি বলতে কারাগারে কেউ নেই।’

আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন বলেছেন, ২০১৩-১৪ সালে এ দেশের উন্নয়নের গতিকে অন্যদিকে ঘুরিয়ে দেওয়ার জন্য একটি চক্র বা স্বাধীনতাবিরোধী চক্র চেষ্টা করেছিল। দেশের আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটিয়ে দেশকে পেছনের দিকে নিয়ে যাওয়ার একটি চক্রান্ত শুরু করেছিল। এ সময় বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা নিজের জীবন দিয়ে দেশের স্বাধীনতার চেতনাকে তারা টিকিয়ে রেখেছে।

বাংলাদেশ পুলিশ ২০১৭ সাল থেকে প্রতি বছরের ১ মার্চ মেমোরিয়াল ডে পালন করছে। গতকালের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. মোস্তাফিজুর রহমান, অতিরিক্ত আইজিপি (প্রশাসন) কামরুল আহসান, অতিরিক্ত আইজিপি (অর্থ) আবু হাসান মুহাম্মদ তারিক, র‌্যাব মহাপরিচালক (ডিজি) খুরশীদ হোসেন, ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি নূরুল ইসলাম।