তিন কোটি টাকা লোপাটের ঘটনায় ৭ পুলিশ প্রত্যাহার

চট্টগ্রামে ‘ক্রিপ্টোকারেন্সি’ লেনদেনকারী এক যুবকের বাইন্যান্স অ্যাকাউন্ট থেকে প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকা মূল্যের ‘বিটকয়েন’ সরানোর প্রমাণ পেয়েছে নগর-পুলিশের গঠিত তদন্ত কমিটি। তদন্তে উঠে আসা চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের (সিএমপি) গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) পরিদর্শক রুহুল আমিনসহ ৭ পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করে দামপাড়া পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়েছে।

গতকাল রবিবার দেশ রূপান্তরকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন সিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (অপরাধ ও অভিযান) আব্দুল মান্নান।

গত ২৬ ফেব্রুয়ারি রাতে আবু বকর নামে এক যুবককে বায়েজিদ এলাকা থেকে আটকের পর মোবাইল ফোনে জোরপূর্বক ফিঙ্গারপ্রিন্ট নিয়ে তার বাইন্যান্স অ্যাকাউন্ট থেকে ২ লাখ ৭৭ হাজার ডলার মূল্যের বিটকয়েন, যা বাংলাদেশের মুদ্রায় প্রায় ৩ কোটি ৪ লাখ টাকা সরিয়ে নেওয়া হয়। এ ছাড়া তার ব্যক্তিগত ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে ২ দফায় ১০ লাখ টাকা সরিয়ে ফেলেন অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যরা।

সূত্র জানায়, ডিবির পরিদর্শক রুহুল আমিন ছাড়া অভিযুক্ত অন্যরা হলেন মহানগর ডিবির (উত্তর) উপপরিদর্শক (এসআই) আলমগীর হোসেন, সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) বাবুল মিয়া, শাহ পরান জান্নাত ও মো. মাইনুল হোসেন এবং কনস্টেবল মো. জাহেদ ও আব্দুর রহমান। রুহুল আমিন এ ঘটনার নেপথ্যে কাজ করেছেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে।

অভিযুক্ত এই ৭ পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে মহানগর পুলিশ কমিশনার কৃষ্ণ পদ রায়ের কাছে গত ৭ মার্চ তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন কমিটির প্রধান সিএমপির কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের এডিসি আসিফ মহিউদ্দিন।

অভিযোগ রয়েছে, গত ২৬ ফেব্রুয়ারি রাত সাড়ে ১০টার দিকে বায়েজিদ বোস্তামী গুলবাগ আবাসিক এলাকার বারাকা এন্টারপ্রাইজ নামে একটি কুলিং কর্নারে চা পান করার সময় অনলাইন জুয়ায় জড়িত থাকার অভিযোগে আবু বকর ও ফয়জুল নামে আরেক ব্যক্তিকে আটক করেন নগর ডিবি পুলিশের (উত্তর বিভাগ) পরিদর্শক রুহুল আমীন।

পরে তাদের নগরের মনসুরাবাদ ডিবি হেফাজতে নিয়ে জোরপূর্বক আবু বকরের মোবাইল ফোনে ফিঙ্গারপ্রিন্ট নেন ডিবি পুলিশের সদস্যরা। বকরের মোবাইল ফোনের লক খুলিয়ে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ৫ লাখ করে ১০ লাখ টাকা সরিয়ে ফেলেন ডিবি পুলিশ সদস্যরা। এ সময় কেড়ে নেওয়া হয় তাদের মোবাইল ফোন ও টাকাপয়সা।

পরের দিন ২৭ ফেব্রুয়ারি সকালে মেট্রোপলিটন পুলিশ অধ্যাদেশ মামলায় দুজনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে হাজির করে ডিবি পুলিশ। শুনানি শেষে একই দিন দুজনকে জামিনে মুক্তি দেয় আদালত। আদালত থেকে বেরিয়ে আরেকটি মোবাইল ফোন কিনে আবু বকর তার বাইন্যান্স অ্যাকাউন্ট চেক দেখেন, অ্যাকাউন্টে থাকা ২ লাখ ৮২ হাজার ডলারের মধ্যে মাত্র ৫ হাজার ডলার রয়েছে। ২৬ ফেব্রুয়ারি রাত ১১টা থেকে ১২টার মধ্যে বাকি ২ লাখ ৭৭ হাজার ডলার সরিয়ে ফেলা হয়েছে।

ঘটনাটি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে বিষয়টি নিয়ে নগর-পুলিশে তোলপাড় শুরু হয়। ঘটনা তদন্তে সিএমপির কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের এডিসি আসিফ মহিউদ্দিনকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেন নগর-পুলিশ কমিশনার কৃষ্ণ পদ রায়।

ভুক্তভোগী আবু বকর সিদ্দিক একজন সরকার অনুমোদিত ফ্রিল্যান্সার। নগরের অক্সিজেন এলাকায় তার বাসা।