রমজানে ফিলিস্তিনের সংঘাত আরও ছড়াতে পারে

গাজা উপত্যকার লড়াইয়ে হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যে যুদ্ধবিরতি না হওয়ায় স্বজন হারানোর যন্ত্রণা আর আগ্রাসনের মধ্যে রমজান মাস শুরু করল ফিলিস্তিনের জনগণ। অনেকে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন, রমজান মাসে ইসরায়েলির প্রশাসনের কর্তৃত্ববাদী আচরণের কারণে সংঘাত আরও ছড়িয়ে পড়তে পারে। কারণ ইসরায়েলি বাহিনী আল-আকসা মসজিদে প্রবেশ করতে বাধা প্রদান অব্যাহত রাখবে বলে মনে করছেন অনেকে। এদিকে গাজায় অব্যাহত প্রাণহানির মধ্যে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেন, গাজায় ইসরায়েলের হামলায় যত প্রাণহানি হয়েছে তার মধ্যে ১৩ হাজার হামাস যোদ্ধা।

ফিলিস্তিনে ইসরায়েলি বাহিনীর অব্যাহত তৎপরতা যে রমজান মাসে আরও সংঘাত উসকে দিতে পারে, এ নিয়ে কথা বলেন ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষের (পিএ) প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের মুখপাত্র নাবিল আবু রুদেইনা। তিনি বলেন, দক্ষিণ গাজায় রাফাহ শহরকে কেন্দ্র করে যুদ্ধ আরও প্রলম্বিত করতে চাইছেন বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু, যা উদ্বেগের কারণ। ইসরায়েলি বাহিনী আরও যুদ্ধাপরাধ ও গণহত্যা চালাতে চায়।

আবু রুদেইনা আরও বলেন, আসন্ন রমজান মাসে আল-আকসা মসজিদে প্রবেশের ক্ষেত্রে ফিলিস্তিনিদের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হলে এ অঞ্চলের সংঘাতে তা আরও জ্বালানি যোগ করবে।

এদিকে গত বছরের ৭ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া চলমান ইসরায়েল-হামাস যুদ্ধে অবরুদ্ধ ফিলিস্তিনের গাজা ভূখ-ে এ পর্যন্ত নিহত হয়েছে ৩১ হাজার ৫৪ জন ফিলিস্তিনি। গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসনে নিহত হয়েছে ৩১ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি, যার বেশিরভাগই নারী ও শিশু। তবে নেতানিয়াহু দাবি করেছেন, নিহত মানুষদের মধ্যে ১৩ হাজার হামাস যোদ্ধা। এ তথ্য জানানোর সময় হামাস যোদ্ধাদের ‘সন্ত্রাসী’ বলে উল্লেখ করেছেন তিনি। তিনি রাফাহ শহরে আক্রমণ চালিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতিও পুনর্ব্যক্ত করেছেন তিনি।

গত রবিবার জার্মানির সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সেল স্প্রিংগারে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ওইসব কথা বলেন নেতানিয়াহু। এতে তিনি বলেন, ‘হামাসকে পরাজিত করার জন্য দক্ষিণ গাজার রাফাহ শহরে ইসরায়েলের আক্রমণ সম্প্রসারিত করা গুরুত্বপূর্ণ। আমরা বিজয়ের খুব কাছাকাছি চলে এসেছি। আমরা বিজয়ের খুব কাছে রয়েছি। রাফাহতে এখনো টিকে থাকা সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ শুরু করলে, সেটা মাত্র কয়েক সপ্তাহের প্রশ্ন।’