ইভটিজিংকে কেন্দ্র করে কলেজছাত্রকে কুপিয়ে হত্যা

ভোলার দৌলতখানে তরুণী উত্ত্যক্তের (ইভটিজিং) ঘটনাকে কেন্দ্র করে আসিফ নামে এক কলেজছাত্রকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছে আরও ছয়জন। তাদের মধ্যে গুরুতর আহত দুজনকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গত সোমবার সন্ধ্যায় চরখলিফা ইউনিয়নের কদমতলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

এদিকে একইদিন রাতে ঢাকার সাভারে পূর্বশত্রুতার জেরে সোহেল মিয়া (২৫) নামে এক কাঠমিস্ত্রিকে কুপিয়ে হত্যা করেছে কিশোর গ্যাং সদস্যরা। এ ছাড়া গতকাল মঙ্গলবার গাইবান্ধা সদরে নিখোঁজের তিন দিন পর শফিকুর রহমান পাভেল আকন্দ (৩৮) নামে এক যুবক আর পাবনার ঈশ্বরদীতে নিখোঁজের এক দিন পর সোহেল আলী (৩০) নামে আরেক যুবকের মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। তাদেরও হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

দৌলতখানে নিহত আসিফ চরখলিফা ইউনিয়নের দিদারউল্যাহ গ্রামের বাবুল মিয়ার ছেলে। তিনি স্থানীয় বাংলা বাজার কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন।

পুলিশ জানায়, সোমবার সন্ধ্যার পর উপজেলার কদমতলা এলাকায় এক তরুণীকে উত্ত্যক্ত করাকে কেন্দ্র করে তার ভাই কবির ও আহাদের সঙ্গে নিহত আসিফের বন্ধু রাসেল ও আমজাদের মারামারি হয়। খবর পেয়ে রাসেলের পরিবারের লোকজনের সঙ্গে আসিফও ঘটনাস্থলে আসে। তখন সেখানে দ্বিতীয় দফায় সংঘর্ষের একপর্যায়ে কবির ও তার সহযোগীরা আসিফকে কুপিয়ে জখম করলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। এ ছাড়া কবির ও তার সহযোগীদের হামলায় রাসেল, আমজাদ, দুলাল, বাবু ও মিরাজসহ ছয়জন আহত হয়। তাদের উদ্ধার করে প্রথমে দৌলতখান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং সেখান থেকে পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ভোলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। এর পর গুরুতর আহত রাসেল ও দুলালকে নেওয়া হয় বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।

দৌলতখান থানার ওসি সত্য রঞ্জন খাসকেল জানান, নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলার পর আহাদসহ চার আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

ঢাকার সাভারে কাঠমিস্ত্রি সোহেল মিয়াকে হত্যা করা হয় সোমবার রাত ৮টার দিকে পৌর এলাকার বিনোদবাইদ মহল্লার বাজার রোডের মাসুদ ফার্নিচারের সামনে। নিহত সোহেল মানিকগঞ্জের দৌলতপুর থানার চরকাটারি গ্রামের আবু বক্কর সিদ্দিকের ছেলে। তিনি বিনোদবাইদ মহল্লার একটি বহুতল ভবনের নিচতলায় আসবাবপত্রের নকশার কাজ করতেন।

এলাকাবাসীর বরাতে পুলিশ জানায়, রাতে দোকানে কাজ করছিলেন সোহেল। এ সময় পূর্বশক্রতার জেরে কিশোর গ্যাংয়ের কয়েকজন সদস্য তাকে ডেকে নিয়ে দোকানের পাশেই প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করে পালিয়ে যায়। এদিকে ছেলের মৃত্যুর খবর শুনে সোহেলের বাবার মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হয় (স্ট্রোক)। তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সাভার মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আবদুর রাশিদ জানান, এ ঘটনায় জড়িতদের ধরতে অভিযান চলছে।

গাইবান্ধায় নিখোঁজের তিন দিন পর পরিত্যক্ত একটি বাড়ির সেপটিক ট্যাংক থেকে শফিকুর রহমান পাভেল আকন্দের (৩৮) মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল সকালে সদর উপজেলার বল্লমঝাড় ইউনিয়নের রঘুনাথপুর গ্রামের সিরাজুল ইসলামের পরিত্যক্ত বাড়িতে পাভেলের মরদেহ পাওয়া যায়। তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। নিহত পাভেল আকন্দ সদর উপজেলার বল্লমঝাড় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. আবদুস সামাদ আকন্দের ছোট ছেলে। পেশায় তিনি খামারি ছিলেন। পুলিশ ও এলাকাবাসী জানায়, পাভেল আকন্দ বাড়ি থেকে বের হয়ে গত শনিবার সন্ধ্যা থেকে নিখোঁজ ছিলেন।

গাইবান্ধা সদর থানার ওসি মো. মাসুদ রানা বলেন, নিহত পাভেলের মাথায় আঘাতের চিহ্ন ছিল। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে ধারালো কিছু দিয়ে মাথায় আঘাত করে তাকে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিনজনকে আটক করা হয়েছে। পরিবারের দাবি, পাভেলকে পূর্বশত্রুতার জেরে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।

পাবনার ঈশ্বরদীতে নিখোঁজের এক দিন পর ভুট্টাক্ষেত থেকে সোহেল আলীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। গতকাল সকালে ঈশ্বরদী-লালপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের ঈশ্বরদী এয়ারপোর্ট মোড় এলাকা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করে পুলিশ। এলাকাবাসী ও স্বজনদের ধারণা, সোহলকে হত্যা করা হয়েছে। সোহেল লালপুর উপজেলার পুরাতন ঈশ্বরদী গ্রামের মৃত মকবুল হোসেনের ছেলে। পেশায় টেলিভিশন মেরামতের কারিগর ছিলেন। গত সোমবার সন্ধ্যায় মেরামত করা একটি টিভি গ্রাহক শফির বাড়িতে দিতে দোকান থেকে বের হন। এয়ারপোর্ট মোড় এলাকায় যান সোহেল। পরে রাতে আর বাড়ি ফেরেননি। সোহেলের লাশ উদ্ধারের পর থেকে শফি ও তার স্ত্রীকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

লালপুর থানার ওসি মো. নাছিম আহমেদ জানান, নিহতের নাক-মুখে রক্ত ছিল। তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। এটা হত্যা না অন্য কোনো ঘটনা তা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

* সংশ্লিষ্ট জেলা-উপজেলার প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্যে প্রতিবেদনটি তৈরি