ধর্ম অবমাননা

সংসদ চাইলে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রাখতে পারে : হাইকোর্ট

কোনো ধর্ম বা ধর্মগ্রন্থের অবমাননার মতো অপরাধের ক্ষেত্রে সংসদ চাইলে অপরাধের ধরন ও সমাজে এর অপরিহার্য প্রতিক্রিয়া বিবেচনায় সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদন্ড বা যাবজ্জীবন সাজার বিধান রাখার বিষয়টি বিবেচনা করতে পারে। ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগে সাইবার নিরাপত্তা আইনের এক মামলায় উচ্চ আদালতের দেওয়া রায়ে এমন পর্যবেক্ষণ এসেছে বলে সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা জানিয়েছেন।

ওই মামলায় একজন আসামির জামিন আবেদন নিষ্পত্তি করে বিচারপতি মো. রেজাউল হাসান ও বিচারপতি ফাহমিদা কাদেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ গতকাল মঙ্গলবার রায় দেয়।

কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় ফেসবুক লিংকে ইসলামের নবী হজরত মুহাম্মদকে (সা.) কটূক্তির মামলায় সেলিম খান নামে এক আসামির জামিন প্রশ্নে রুল যথাযথ ঘোষণা করে রায় দেওয়া হয়। আদালত সেলিম খানকে ২৫ লাখ টাকা বন্ডে জামিনের আদেশ দিয়েছে।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত বছর ২ নভেম্বর নাফিসা চৌধুরী তার ফেসবুক লিংকে একটি আপত্তিকর শব্দচয়ন করে পোস্ট করেন। সে পোস্টের সমর্থনে সেলিম খান নবীজিকে নিয়ে কটু মন্তব্য করেন। এ ঘটনায় কুষ্টিয়ার হানিফ শাহ নামে এক ব্যক্তি ৪ নভেম্বর ভেড়ামারা থানায় সাইবার নিরাপত্তা আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা করেন। তদন্ত শেষে ৩১ ডিসেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র দেন সংশ্লিষ্ট তদন্তকারী কর্মকর্তা।

এর আগে ১৩ ডিসেম্বর কুষ্টিয়ার অবকাশকালীন দায়রা জজ আদালত আসামির জামিন আবেদন নামঞ্জুর করলে হাইকোর্টে জামিনের আবেদন করা হয়। গত ৮ জানুয়ারি হাইকোর্ট সেলিম খানের জামিন প্রশ্নে রুল দেয়।

আদালতে আসামিপক্ষে ছিলেন আইনজীবী আবদুল্লাহ আল নোমান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল একেএম আমিন উদ্দিন মানিক।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আমিন উদ্দিন মানিক হাইকোর্টের রায়ের পর্যবেক্ষণে দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আদালত সাইবার নিরাপত্তা আইনে ধর্মের অবমাননার অপরাধসংক্রান্ত ধারাটি জামিনযোগ্য হওয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেছেন, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে এ ধারাটি জামিন অযোগ্য ছিল। কিন্তু পরিবর্তিত আইনে এ ধারার অপরাধ জামিনযোগ্য হওয়ায় ধর্মের অবমাননার মতো অপরাধ প্রবণতা বাড়ছে।’

তিনি বলেন, ‘সংসদ চাইলে অপরাধের ধরন ও সমাজে এর অপরিহার্য প্রতিক্রিয়া বিবেচনায় সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদন্ড অথবা যাবজ্জীবন কারাদন্ডের বিধান রাখতে পারেন। এ ছাড়া পবিত্র কোরআন শরিফ, নবী-রাসুলসহ সব ধর্মগ্রন্থের বিষয়ে কটূক্তি করলে অপরাধ জামিন অযোগ্য হবে, এমন বিধানও রাখতে পারে, এমন পর্যবেক্ষণ দিয়েছে হাইকোর্ট।’

আসামিপক্ষের আইনজীবী আবদুল্লাহ আল নোমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘হাইকোর্ট সেলিম খানকে জামিন দিয়েছে। আর লিংক পোস্টকারী নাফিসা চৌধুরীকে মামলায় আসামি করতে এবং তদন্ত সাপেক্ষে তার বিরুদ্ধে সম্পূরক অভিযোগপত্র দিতে তদন্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশ দিয়েছে।’