মিয়ানমারে ফোন-ইন্টারনেটের ৮০ শতাংশ সংযোগ বিচ্ছিন্ন

মিয়ানমার জুড়ে ইন্টারনেট ও মুঠোফোন সংযোগের ৮০ শতাংশই বিচ্ছিন্ন করে দিয়েছে দেশটির ক্ষমতাসীন জান্তা সরকার। মিয়ানমারের তরুণদের দ্বারা প্রতিষ্ঠিত মতপ্রকাশের স্বাধীনতা পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান ‘আথান’ এই তথ্য প্রকাশ করেছে। এই তথ্য এমন সময় সামনে এলো, যখন দেশের নানা জায়গায় জাতিগত সশস্ত্র সংগঠন এবং গণতন্ত্রপন্থিদের সঙ্গে জান্তার লড়াই চলছে।

আথান জানায়, রাখাইন রাজ্যের ১৭টি টাউনশিপ, সাগাইং অঞ্চলের ৩৪টি টাউনশিপের ২৭টি এবং কায়াহ রাজ্যের সাতটির মধ্যে পাঁচটি টাউনশিপে যোগাযোগের কোনো উপায় নেই। এসব এলাকায় ‘কমিউনিকেশন ব্লাকআউট’ পরিস্থিতি বিরাজ করছে। শান, চিন, কাচিন মন রাজ্যের বহু টাউনশিপ এবং টানিনথারি, মংগু, বাগো এবং আয়েইয়ারডি এলাকায় একই রকম পরিস্থিতি চলছে।

সংস্থাটি জানায়, কিছু এলাকায় ইন্টারনেট ও মুঠোফোন সংযোগ কাজ করছে না। আবার অনেক এলাকায় যেকোনো একটি কাজ করছে না। কোনো কোনো জায়গায় সংযোগ দুর্বল করে দেওয়া হয়েছে।

আরাকান আর্মি গত নভেম্বর থেকে এখন পর্যন্ত চলা সংঘাতে ১৮০টির মতো সেনাঘাঁটি দখল করে নিয়েছে, নয়টি শহরে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করছে এবং চিন রাজ্যের পালেতওয়া বন্দর সম্পূর্ণভাবে দখল করেছে তারা। রাখাইনের রাজধানী সিত্তে শহরে টেলিকম পরিষেবা প্রদানকারী জান্তার মালিকানাধীন ‘মাইটেল’ গত ১৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চালু ছিল। এরপর সেখানে ওয়াইফাই থেকে শুরু করে মুঠোফোন ইন্টারনেট কাজ করছে না। তবে মাইটেল ছাড়াও জান্তার মালিকানাধীন টেলিকম পরিষেবা প্রতিষ্ঠান ‘এমপিটি’ গত বৃহস্পতিবার হঠ্যাৎ সচল দেখা গেছে। আবার কিছু জায়গায় ফোন সংযোগ পাওয়া গেলেও ইন্টারনেট পাওয়া যাচ্ছে না।

রাখাইন রাজ্য জুড়ে যোগাযোগ পরিস্থিতির এমন অবস্থায় পৌঁছেছে যে সেখানকার কোনো খবরাখবর পাওয়া দুষ্কর হয়ে উঠেছে। সেইসঙ্গে ব্যাংকিং ব্যবস্থা ও অনলাইনে আর্থিক পরিষেবা বিঘিœত হচ্ছে। আথান বলছে, কমিউনিকেশন ব্লাকআউটের মাধ্যমে জান্তা বিরোধীদের যোগাযোগ দুর্বল করে দিতে চায় সামরিক বাহিনী। জান্তার প্রশাসন তথ্যের প্রবাহকে গোপন করার মাধ্যমে মানুষের ওপর নিপীড়নকে অব্যাহত রাখছে এবং বিপ্লবী কর্মকা-ের মধ্যকার সংযোগ নস্যাৎ করতে চায়।